ঢাকা-বরিশাল নৌপথে ফের রোটেশন প্রথা

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৩৫ এএম

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে যাত্রীসংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। লঞ্চমালিকরা টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছিলেন। কেবিন ও ডেকের ভাড়া কমিয়ে তারা যাত্রী টানার চেষ্টা করলে ঘাটতি কিছুটা পূরণ হয়েছিল। সম্প্রতি জ¦ালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। যাত্রী থাকলেও যাত্রাখরচ মিটিয়ে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে এ নৌপথে লঞ্চের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লঞ্চমালিকরা। আবারও রোটেশন প্রথা চালু হতে যাচ্ছে এ নৌপথে।

লঞ্চমালিকদের সংগঠন অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থা ঢাকায় এক বৈঠকে গত মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত নেয়। সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান মাহবুব উদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন সংস্থার জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জমান, ঢাকা নদীবন্দর নৌ চলাচল ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক মো. মামুন অর রশিদ, সংস্থার অন্যান্য সদস্য ও এ নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চমালিকরা।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখন প্রতিদিন ঢাকার সদরঘাট নদীবন্দর থেকে তিনটি ও বরিশাল নদীবন্দর থেকে তিনটি লঞ্চ চলবে। এ রুটে চলাচলকারী ১৮টি লঞ্চকে ছয়টি গ্রুপে ভাগ করে রোটেশন প্রথা চালু হবে।

‘ক’ গ্রুপে পারাবত-১১, সুন্দরবন-১১ ও কীর্তনখোলা-২; ‘খ’ গ্রুপে সুরভী-৮, মানামী ও অ্যাডভেঞ্চার-৯; ‘গ’ গ্রুপে সুন্দরবন-১০, পারাবত-১২ ও অ্যাডভেঞ্চার-১; ‘ঘ’ গ্রুপে পারবত-৯, সুরভী-৭ ও প্রিন্স আওলাদ-১০; ‘ঙ’ গ্রুপে পারাবত-১০, সুন্দরবন-১৬ ও কুয়াকাটা-২ এবং ‘চ’ গ্রুপে সুরভী-৯, পারাবত-১৮ ও কীর্তনখোলা-১০ শিরোনাম ও নম্বরের লঞ্চ চলবে।

সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোকে ভোর ৫টার আগে বরিশাল নদীবন্দরে পৌঁছতে হবে এবং বরিশাল থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোকে সকাল ৬টার আগে সদরঘাট (ঢাকা) নদীবন্দরে পৌঁছতে হবে। পথে কোনো লঞ্চ অন্য লঞ্চকে ওভারটেক করতে পারবে না। সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করে ১৮টি লঞ্চের ১০ জন মালিক সই করেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার সহসভাপতি আলহাজ¦ সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিঃসন্দেহে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের দুয়ার খুলে দিয়েছে। অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সৃষ্টি হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর কিছু যাত্রী কমলেও তেমন প্রভাব পড়েনি নৌরুটে। কিন্তু বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় আমাদের দেশেও এর প্রভাবে মূল্যবৃদ্ধি করে সরকার। এ পরিপ্রেক্ষিতে লঞ্চগুলোতেও যাত্রীভাড়া বাড়ানো হয়। কিন্তু ভাড়া বাড়ায় যাত্রী কমতে থাকে। এতটাই কমে যে, কোনো লঞ্চ কোম্পানিই খরচ ওঠাতে পারছিল না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের লোন নেওয়া আছে, খরচ পোষাতে না পারলে ব্যাংকের চাপ বাড়বে। এ সেক্টরে সম্পৃক্ত কয়েক হাজার শ্রমিক কর্ম হারাতে পারে, এ আশঙ্কাও রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে আমরা লঞ্চমালিকরা বিপাকে পড়েছি। তাই আমরা বসে বরিশাল-ঢাকা নৌরুট ধরে রাখতে উপায় খোঁজার চেষ্টা করেছি। কোনো মালিক সরকারের কাছে তেলের জন্য ভর্তুকি চাওয়ার কথা বলেছে, কেউ বলেছে লঞ্চের সংখ্যা কমাতে, কেউ বলেছে লঞ্চ বন্ধ করে সরকারের কাছে উপায় চাইতে। বেশিরভাগ মালিকের মনে হয়েছে, লঞ্চের সংখ্যা কমিয়ে যাত্রীসেবা দিলে হয়তো লোকসান কমবে। আপাতত সিদ্ধান্ত হয়েছে, লঞ্চসংখ্যা কমিয়ে লোকসান এড়ানোর চেষ্টা করা হবে।’

মানামী লঞ্চের পরিচালক আহম্মেদ জাকি অনুপম বলেন, ‘মঙ্গলবারের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন চার-পাঁচ দিনের মধ্যে করা হবে। লোকসান এড়াতেই আমাদের এ সিদ্ধান্ত।’

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে প্রতিদিন নয়টি লঞ্চ চলাচলের অনুমতি থাকলেও এতদিন ছয়-সাতটি করে লঞ্চ চলত। এবার লঞ্চের সংখ্যা আরও কমিয়ে আবারও রোটেশন প্রথা চালু করার সিদ্ধান্ত হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত