রাজধানীর পল্লবীতে কর্তব্য কাজে বাধা, ভাঙচুর ও জখম করার অভিযোগে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম মামলাটি করেন। এজাহারে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৭৫ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের অন্তত ছয় সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। ইতিমধ্যে জড়িত সন্দেহে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজারহারভুক্ত বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পল্লবীর ৬ নম্বর মুকুল ফৌজ মাঠে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও শটগানের গুলি ছোড়ে। এতে পুলিশ, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরাও আহত হন।
এ বিষয়ে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ডিসি জসীম উদ্দিন বলেন, ‘মিরপুরের সমাবেশ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই মাঠে বিএনপির একটি মিটিং চলছিল। ওই সময় পাশ দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শোকসভায় যাওয়ার সময় বিএনপির লোকজন তাদের ওপর হামলা করে। পরে আমরা তাদের সরিয়ে দিই। তারপর বিএনপির নেতাদের উসকানিতে আমাদের ওপর হামলা হয়।’
কাদের উসকানিতে কারা হামলা করেছে সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে ডিসি জসীম বলেন, ‘হামলার জন্য কারা উসকানি দিয়েছে, কারা হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে তা তদন্তের পর জানা যাবে। আমরা তাদের (বিএনপি) শন্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার সুযোগ করে দিয়েছি। অথচ তারা আমাদের ওপর হামলা করল।’
বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ তাদের ওপর হামলা করেছে। তখন পুলিশ সেখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
