ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর কোহিনূর বসানো রাজমুকুট থেকে শুরু করে রাজদণ্ডে থাকা বিশাল হীরা ‘দ্য গ্রেট স্টার অব আফ্রিকা’ নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে পুরনো বিতর্ক। ৫০০ ক্যারেট হীরাটি কুলিনান-ওয়ান হিসেবেও পরিচিত। ১৯০৫ সালের কথা, দক্ষিণ আফ্রিকা তখন ব্রিটিশদের দখলে। সে বছর ২৬ জানুয়ারি দেশটির প্রিমিয়ার খনিতে পাওয়া যায় বিশাল এক হীরা। অনেকটা হৃদয় আকৃতির ৩ হাজার ১০৬ ক্যারেট ওজনের হীরাটির দৈর্ঘ্য ছিল ১০.১ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ৬.৩৫ সেন্টিমিটার। পরে ওই হীরা কেটে ৯টি হীরকখণ্ডে রূপান্তর করা হয়। সবচেয়ে বড়টি ‘কুলিনান’। খনির তৎকালীন চেয়ারম্যান থমাস কুলিনানের নামানুসারে হীরাটির নামকরণ করা হয়। পরবর্তীতে এটি ‘দ্য গ্রেট স্টার অব আফ্রিকা’ নামেও পরিচিতি পায়। আবিষ্কারের দুই বছরের মাথায় ১৯০৭ সালে রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড জন্মদিনের উপহার হিসেবে হীরাটি ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেটিকে রাজদণ্ডে ব্যবহার করে ব্রিটিশ রাজপরিবার। সদ্য প্রয়াত রানীর বেশ কিছু ছবিতেও তাকে এই রাজদণ্ড হাতে দেখা যায়।
এসব ছবিই যেন সামনে নিয়ে এসেছে উপনিবেশবাদের অন্ধকার ইতিহাস। কোহিনূর হীরাকে যেমন নিজেদের সম্পদ বলে দাবি করে ভারত, তেমনি ‘গ্রেট স্টার অব আফ্রিকা’র মালিকানা দাবি করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ইতিমধ্যে হীরাটি ফেরত আনতে এক পিটিশনে স্বাক্ষর করেছে ৬ হাজার মানুষ। এতে গ্রেট স্টার অব আফ্রিকাকে ফিরিয়ে এনে দক্ষিণ আফ্রিকার জাদুঘরে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় অধিকারকর্মী থান্ডুক্সোলো সাবেলো বলেন,’ কুলিনান হীরাটি এখনি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক’। উপনিবেশবাদের কালো অধ্যায় স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এবং অন্যান্য দেশের মানুষের জীবনের মূল্য দিয়ে পাওয়া এসব রতœ কেবল ব্রিটেনের কাজে লাগছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরোধী দল ইকোনমিক ফ্রিডম ফাইটারের মুখপাত্র লেই-অ্যান ম্যাথিস বলেন, ‘ব্রিটেনের সদ্য প্রয়াত রানী অন্তত অর্ধশতাব্দি ধরে এই হীরাবসানো রাজদণ্ড দেখিয়ে বেরিয়েছেন। এখন আমরা ঔপনিবেশিক আমলে চুরি করা সম্পদ ফেরত চাই, গ্রেট স্টার অব আফ্রিকা আমাদের সেসব চুরি যাওয়া সম্পদের একটি।’
