চট্টগ্রামে ‘ধর্ষণের’ শিকার হয়ে শিশু নিহত

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৫৯ এএম

চট্টগ্রাম নগরীর পোর্ট কলোনিতে একটি পরিত্যক্ত বাসা থেকে সুরমা আক্তার নামে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ ছিল সে। গতকাল রবিবার সকালে ওই শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের সময় তার মৃত্যু হয়েছে।

বেলা ১১টার দিকে পোর্ট কলোনির ৮ নম্বর সড়কের মুখে একটি পরিত্যক্ত একতলা বাড়ির ভেতর থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে বন্দর থানা পুলিশ।

সুরমা নগরীর বড়পোল এলাকার রিকশাচালক মো. কাউছারের মেয়ে। তার মা হোসনে আরা গৃহকর্মী। কাউছারের দুই ছেলে, দুই মেয়ে।

জানা যায়, সুরমার খালা জ্যোৎস্না বেগমের বাসা বড়পোল এলাকায়। শনিবার সন্ধ্যার দিকে খালার বাসায় যাওয়ার জন্য বের হয়েছিল সে।

জ্যোৎস্না বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সুরমা বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার মাকে বলেছিল, আমি খালার বাসায় ভাত খেয়ে চলে আসব। মা বলেছিল তাড়াতাড়ি চলে আসতে। বড়পোল এলাকায় রাস্তায় আসার পর এক রিকশাচালক সুরমাকে ডেকে বলে, তুমি আমার সঙ্গে গেলে তোমাকে দুই প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে দেব। এ সময় সুরমাদের প্রতিবেশী এক মেয়েও সেখানে ছিল। সে রিকশাওয়ালাকে বলে, আঙ্কেল আমিও আপনার সঙ্গে যাব, আমাকেও বিরিয়ানি কিনে দেন। কিন্তু রিকশাচালক শুধু সুরমাকে রিকশায় তুলে চলে যায়।’

জ্যোৎস্না আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী মেয়েটি বাসায় ফিরে এ ঘটনা সুরমার মাকে জানায়। তখন আমার বোন দ্রুত রাস্তায় যায়। খোঁজাখুঁজি শুরু করে। কোথাও না পেয়ে আমাদের জানায়। আমরাও সেখানে যাই। পুরো এলাকায় খোঁজাখুঁজি করি। কিন্তু কোথাও সুরমাকে না পেয়ে রাত ৯টার দিকে সন্ধান চেয়ে মাইকিং শুরু করি। রাতভর তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। সকালে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে একটি মেয়ের লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে সুরমার মরদেহ পেয়েছি।’

সুরমার বাবা মো. কাউছার বলেন, ‘এক রিকশাচালক বিরিয়ানি কিনে দেওয়ার কথা বলে আমার মেয়েকে নিয়ে পোর্ট কলোনিতে আসে। এরপর তাকে সারা রাত নির্যাতন করে হত্যা করেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’

সুরমাকে হত্যা করা হয়েছে এ ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। তবে কীভাবে খুন করা হয়েছে এবং ধর্ষণের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে।

এ প্রসঙ্গে বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কিশোর মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে বাচ্চা মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন রিকশাচালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের সময়ই অল্পবয়সী মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে। কেননা, শরীরেও তেমন জখমের কোনো চিহ্ন নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত