বিদ্যুৎসংযোগ পেতে সব শর্ত পূরণ করার পরেও কেবল ঘুষ না পাওয়ায় বিদ্যুৎসংযোগ দেওয়া হয়নি এমন অভিযোগ উঠেছে পাবনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ দাশুড়িয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সাজ্জাদুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে আমিনুল ইসলাম নামে এক গ্রাহক ডিজিএমকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার ভিড়িও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তবে ডিজিএম সাজ্জাদুর রহমানের দাবি, এটা সংঘবদ্ধ চক্রের প্রতারণার চেষ্টা, তাকে ফাঁসানোর একটা ষড়যন্ত্র। এ নিয়ে তিনি থানায় অভিযোগও করেছেন। পুলিশ বলছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনায় ডিজিএম সাজ্জাদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে গতকাল সন্ধ্যায় জানিয়েছেন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মহাব্যবস্থাপক আকমল হোসেন। একই সঙ্গে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ঘুষ দিতে যাওয়া গ্রাহক আমিনুল ইসলাম বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী সব টাকা পরিশোধ করার পরও বিদ্যুৎ না দেওয়ায় সংযোগ চালু করেনি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়েই টাকা দিতে গেলে সেখানে উপস্থিত একজন ব্যক্তি ভিডিও করেন। শনিবার সামাজিক যোগাগোগমাধ্যম ফেসবুকে তা ছড়িয়ে পড়ে।
তিন আরও বলেন, ‘পাবনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১-এর অন্তর্ভুক্ত দাশুড়িয়া জোনাল অফিসের আওতায় বিদ্যুৎসংযোগের জন্য আমি বেশ কিছুদিন আগে আবেদন করি। সরকার নির্ধারিত ফি জমাও দিই। কিন্তু নানা অজুহাতে সংযোগ দিচ্ছিল না কর্তৃপক্ষ। জানতে পারি ডিজিএম সাজ্জাদুর রহমানকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য এক লাখ টাকা ঘুষ দিলে সংযোগ দেওয়া হবে। বাধ্য হয়ে ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে ১৪ সেপ্টেম্বর ডিজিএমকে দিতে যাই। তিনি ঘুষের টাকা নিয়ে ড্রয়ারে রাখার সময় সেখানে উপস্থিত একজন ব্যক্তি ভিডিও করে। পরে তিনি টাকা ছুড়ে ফেলে দেন। ভিডিও ধারণকারীকে আমি চিনি না।’
ডিজিএম সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টায় দাশুড়িয়া পুরাতন ট্রাফিক মোড় এলাকার আমিনুল ইসলাম রানা তিন-চারজন ব্যক্তিকে নিয়ে অফিসে আসেন। সেখানে হঠাৎ করেই ৫০ হাজার টাকার একটি বান্ডিল দিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করেন। এ সময় আমি অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ডাকলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।’
সাজ্জাদুর রহমান আরও বলেন, ‘আমিনুল ইসলামের বাবা আনিছুর রহমানের নামে দাশুড়িয়া জোনাল অফিসে ৯ লাখ ৩ হাজার ৯৪৮ টাকা বকেয়া থাকায় মামলা চলমান রয়েছে। তাদের বকেয়া টাকা ৯ কিস্তিতে পরিশোধের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চক্রান্ত করেছে। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
তবে, বাবার বকেয়া বিলের সঙ্গে নতুন সংযোগের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন আমিনুল ইসলাম।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অরবিন্দ সরকার বলেন, এ বিষয়ে পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। সেটা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
