অষ্টম অধ্যায় : নারী-পুরুষ সমতা
কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন (যোগ্যতাভিত্তিক)
১. বাংলাদেশের একজন মহীয়সী নারী ১৮৮০ সালে রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন। নারীদের লেখাপড়া ও নারীদের উন্নয়নের জন্য তার চারটি অবদান লেখো।
উত্তর : বেগম রোকেয়া ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত। তিনি নারী শিক্ষার বিষয়ে সমাজে অসামান্য অবদান রাখেন। নারীদের লেখাপড়া ও নারীদের উন্নয়নে তার সম্পাদিত চারটি কাজ হলো :
ক. তিনি নারীদের শিক্ষার বিষয়ে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করেন।
খ. ১৯০৫ সালে তিনি ভাগলপুরে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
গ. তিনি মেয়েদের স্কুলে যেতে উদ্বুদ্ধ করেন।
ঘ. তিনি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য লেখালেখি করে জনমত গঠন করেন।
২. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী-পুরুষের সমতা বিষয়টি সম্পর্কে তোমার নিজের মতামত প্রদান করো।
উত্তর : আমাদের দেশে নারী-পুরুষের সমতার বিষয়টি খুব গুরুত্বসহকারে আলোচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। সব কাজে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ না থাকলে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। নারী-পুরুষ একই রকম সুযোগ-সুবিধা না পেলে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এই কারণে বর্তমানে দেশে সব কাজে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
৩. নারী নির্যাতন বন্ধে আমাদের করণীয় কী কী?
উত্তর : নারী নির্যাতন বন্ধে আমাদের করণীয় হলো
ক. সবক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
খ. ছেলে ও মেয়ে এভাবে না দেখে সবাইকে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে।
গ. কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা কাজ ছেলের বা মেয়ের বলে মনে করা যাবে না। যোগ্যতা অনুযায়ী ছেলে, মেয়ে নির্বিশেষে যেকোনো কাজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
ঘ. কোনো মেয়ে যাতে নির্যাতিত না হয় সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
ঙ. পরিবার এবং পরিবারের বাইরে সব মেয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
৪. নিউ ইয়র্কের পোশাক কারখানায় নারী শ্রমিকদের প্রথম আন্দোলনের ঠিক ৫১ বছর পর একই দিনে আরও একটি প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। ওই প্রতিবাদ সমাবেশটি কত সালে সংঘটিত হয়? এতে কারা অংশ নেন? এই আন্দোলন সম্পর্কে তিনটি বাক্য লেখো।
উত্তর : প্রতিবাদ সমাবেশটি ১৯০৮ সালের ৮ মার্চ সংঘটিত হয়। এতে নিউ ইয়র্কের গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিয়নের নারীরা অংশ নেন।
ওই আন্দোলন সম্পর্কে তিনটি বাক্য হলো :
ক. কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত শ্রম ও শিশুশ্রম বন্ধের দাবিতে তারা এ আন্দোলন করেন।
খ. ১৪ দিন ধরে এই প্রতিবাদ সমাবেশ চলে এবং এতে প্রায় ২০,০০০ নারী শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।
গ. কর্মক্ষেত্রে এই আন্দোলন নারীদের ঐক্যবদ্ধতার একটি বড় উদাহরণ।
৫. নারী-পুরুষের সমতা রক্ষায় তুমি কী করতে পারো?
উত্তর : ছোটবেলা থেকেই কাউকে ছেলে বা কাউকে মেয়ে এভাবে না দেখে সবাইকে মানুষ হিসেবে দেখব। সমাজের উন্নতির জন্য বাড়িতে মা-বাবাকে সাহায্য করব। কোনো কাজ ছেলের বা কোনো কাজ মেয়ের বলে মনে করব না। পরিবারের মা-বোন ইত্যাদি মেয়ে সদস্যদের প্রতি এবং পরিবারের বাইরের মেয়েদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হব। সহপাঠী ছেলে বা মেয়ে যেই হোক একসঙ্গে পড়ালেখা করব, খেলা করব।
