মার্কিন ধনকুবের ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ইয়োভন চৌইনার্ড। একসময় বিড়ালের এঁটো খাবার খেয়ে জীবন কেটেছে। ৩৫ বছর বয়সে প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বব্যাপী পরিচালিত পোশাক ব্র্যান্ড প্যাটাগোনিয়া। প্যাটাগোনিয়ার বর্তমান মূল্য ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। পরিবেশবাদী ও ব্যতিক্রমী এই ধনকুবের তার জীবনের অর্জিত সব সম্পদ ও অর্থ দান করেছেন পৃথিবীর সুরক্ষায়। লিখেছেন নাসরিন শওকত
ইয়োভন চৌইনার্ডের শৈশব
ইয়োভন চৌইনার্ড একজন মার্কিন পবর্তারোহী, পরিবেশ আন্দোলনকর্মী, সমাজসেবী ও প্রাকৃতিক উপকরণের শিল্প ব্যবসায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড প্যাটাগোনিয়ার প্রতিষ্ঠাতা তিনি। পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করার জন্য বহুজাতিক কোম্পানি প্যাটাগোনিয়া বিশ^খ্যাত।
ইয়োভন একজন সার্ফার ও বাজপাখির পালক। ভ্রমণ করতে ও মাছ ধরার খেলা খেলতে বেশি পছন্দ করেন। এখনো পুরনো জামাকাপড় পরেন। সাধারণ সুবারু গাড়িতে চড়ে ঘুরে বেড়ান। ভ্যানতুরা, জ্যাকসন ও ওয়াইও’র সাধারণ মানের বাড়িতে বসেই বেশিরভাগ সময় কাটান। তিনি পর্বতারোহণের নীতিশাস্ত্র, পরিবেশবাদ ও ব্যবসা বিষয় নিয়ে বইও লিখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যতিক্রমী এই ধনকুবের কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না।১৯৩৮ সালের ৯ নভেম্বর। ইয়োভন চৌইনার্ড মাইনের লুইস্টনের এক ক্যাথলিক খ্রিস্টান পরিবারে জন্ম নেন। যখন ইয়োভন ছোট্ট শিশু, তখন তিনি তার ফরাসি-কানাডিয়ান পূর্বপুরুষদের মতো পশুশিকারি হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। শৈশবে মাইনের লিসবনে বেড়ে ওঠেন। ফ্রেঞ্চ স্কুলেই তার প্রথম পড়াশোনার শুরু।
বাবা ছিলেন ফ্রান্স-কানাডার দ্বৈত নাগরিক। যিনি মিস্ত্রি ও কর্মকারের কাজ করতেন। উগ্র স্বভাবের ছিল তার বাবা। দাঁত তোলার ব্যয় এড়াতে একবার নিজের দাঁত প্লায়ার দিয়ে টেনে তুলেছিলেন তিনি। ইয়োভনের মা ছিলেন ইয়োভন্নে। ১৯৪৭ সালে ইয়োভনের বয়স তখন ৯। ইয়োভন্নে তার স্বামীকে বুঝিয়ে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে আসেন। সেখানে ইংরেজি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হতে হয়েছিল ইয়োভন। স্কুলের পড়া রপ্ত করতে রীতিমতো লড়াই করতে হয় তাকে। ইয়োভনের বেশভূষাও ছিল সাধারণ। তাই স্কুলে একেবারে একা হয়ে পড়েন তিনি। তখন ইয়োভন কিশোর। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্যালকনি ক্লাবে যোগ দিলে তার জীবন নতুন গতি পায়। এই ক্লাবেই বাজপাখির লালন-পালন ও প্রশিক্ষণ দিতেন অভিজ্ঞ বাজপাখির পালকেরা। তখন বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন পাহাড়ের গায়ে বাজপাখির বাসা খুঁজতেন তিনি। ওই বাসা খুঁজতে গিয়েই দড়ির তারের সাহায্যে এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড় ঘুরে বেড়াতেন তারা। সে সময়েই ইয়োভন সবচেয়ে অভিজ্ঞ বাজপাখির পালনকারীদের কাছ থেকে পাহাড়ে আরোহণের মূল বিষয়গুলো শিখেছিলেন।
পর্বতারোহণের দিনগুলো
১৯৬০-এর দশক। তরুণ ইয়োভন পবর্তারোহণের নেশায় বিভোর। ঘটনাক্রমে ইয়োসেমাইট, শাওয়ানগাঙ্ক রিজ ও আল্পস পর্বতমালায় আরোহণের উপায়ও খুঁজে পান। সে সময় কামারের সরঞ্জাম সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করে ও গাড়ির বাইরে ঘুমের ব্যাগে ঘুমিয়ে রাত কাটাতেন। খরচ কমানোর জন্য ৫ সেন্টে কেনা বিড়ালের এঁটো খাবার খেয়ে কোনোমতে দিন কেটেছে তার। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমাইট উপত্যকার একজন প্রথম সারির পবর্তারোহী হয়ে ওঠেন ইয়োভন। ১৯৫৭ সালের দিকে পর্বতারোহণ শিল্পে দ্রুত ক্যারিয়ার তৈরি করতে শুরু করেন। তখন নিজে সাশ্রয়ী মূল্যে পর্বতারোহণের উপকরণ তৈরির ও তা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় আরও একটি ব্যবসাও শুরু করেছিলেন তিনি।
ইয়োভন ‘ইয়োসেমাইট পর্বতারোহণের স্বর্ণযুগের’ শীর্ষ পর্বতারোহীদের একজন ছিলেন। তরুণ বয়সে সিয়েরা ক্লাবের সদস্য হিসেবে ইয়োভন দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বাজপাখির ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাজপাখির নানা প্রজাতি অনুসন্ধান করতে করতেই তখন পর্বতারোহণের নেশা পেয়ে বসে তাকে। ইয়োভনের তখন বয়স ১৬। একটি ফোর্ড গাড়িতে করে ওয়াইমিংয়ের দিকে রওনা দেন। সে সময়েই পশ্চিম ওয়াইমিংয়ে অবস্থিত উইন্ড রিভার রেঞ্জ পর্বতমালার সর্বোচ্চ চূড়া গানেটে প্রথমবারের মতো এককভাবে আরোহণ করেন ইয়োভন।
১৯৫৭ সালের কথা। পর্বতারোহণ শিল্পে দ্রুত নিজের জন্য ক্যারিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন ইয়োভন। পর্বতারোহণের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে সাশ্রয়ী পর্বতারোহণের উপকরণ তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেন এবার। সেজন্য নিজে নিজেই কামারের কাজ শেখা শুরু করলেন। যাতে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য পর্বতারোহণের সরঞ্জাম তৈরি করতে পারেন তিনি। নিজের হাতে ওই সরঞ্জাম তৈরির সময় তিনি সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতেন যেন উপকরণগুলো পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে। পর্বতারোহণের ইউরোপীয় পিটনগুলো (পাহাড়ের পাথরের গায়ে আটকানো ধাতুর তৈরি খিল বা গজাল) নিয়ে তিনি বেশ অসন্তুষ্ট ছিলেন সে সময়। কারণ সেগুলো সহজে সরানো যেত না ও ব্যয়বহুল ছিল। তাই নিজের তৈরি ওই পিটনগুলো বন্ধুদের কাছে দেড় ডলারে বিক্রি শুরু করেন।
১৯৬৪ সালে ইয়োভন উত্তর আমেরিকা প্রাচীর আরোহণে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছিলেন। কোনো দড়ি ব্যবহার না করে ওই প্রাচীরে আরোহণ করেন তিনি। ১৯৬১ সালে তিনি ফ্রেড বেকির সঙ্গে পশ্চিম কানাডা পরিদর্শন করেন। সে সময় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বতে প্রথমবারের মতো আরোহণ করেছিলেন ইয়োভন। যার মধ্যে রয়েছে মাউন্ট এডিথ ক্যাভেলের পাথুরে উত্তর মুখ, পারসেল পর্বতমালার দক্ষিণ হাউসার টাওয়ারের বুগাবুস। ওই বছরই তিনি প্রথমবারের মতো শাওয়ানগুঙ্ক রিজও পরিদর্শন করেছিলেন। তিনি ইউরোপীয় আল্পসে আরোহণ ও পাকিস্তানেও ভ্রমণ করেছেন।
১৯৬৫ সালে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে ৮২০ ডলার ধার নিয়েছিলেন। যে অর্থ দিয়ে তাদের বাড়ির পেছনে একটি কারখানাও তৈরি করেন। এবার ইয়োভন কারখানায় পর্বতারোহণের উপকরণ তৈরি শুরু করলেন। প্রতিষ্ঠানের নাম দিলেন চৌইনার্ড ইকুইপমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত সফল হয়েছিল। তার কোম্পানির তৈরি প্রথম যুগান্তকারী উপকরণ ছিল অ্যালুমিনিয়াম চক। পাহাড়ের ক্ষতি না করে ওই সরঞ্জাম দিয়ে পিটনগুলোকে প্রতিস্থাপন করা যেত।
১৯৭১ সাল। ইয়োভনের জীবনের প্রেম হয়ে এসেছিলেন মালিন্ডা পেনোয়ার। পরে তারা বিয়ে করেন। নতুন দম্পতি কিছুদিন ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে ভ্রমণের পর পোশাক বিক্রি শুরু করেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। ছেলে ফ্লেচার ও মেয়ে ক্লেয়ার।
প্যাটাগোনিয়া ও পরিবেশবাদ
ইয়োভন চৌইনার্ড যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড প্যাটাগোনিয়ার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত। ক্যালিফোর্নিয়ায় ভ্যানতুয়াতে অবস্থিত প্যাটাগোনিয়া তার পণ্যের গুণমান ও পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বহুজাতিক এই কোম্পানিটি মূলত পোশাক ও পর্বতারোহণের উপকরণ বিক্রি করে থাকে। সহকারী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে প্যাটাগোনিয়ার তার পোশাক, পর্বতারোহণ সরঞ্জাম, খাদ্য ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যবসা পরিচালনা করে। প্যাটাগোনিয়া ইনকের মাধ্যমে পোশাক ও সরঞ্জাম, প্যাটাগোনিয়া প্রভিশন খাবার, প্যাটাগোনিয়া মিডিয়ার মাধ্যমে বই, চলচ্চিত্র ও মাল্টিমিডিয়া প্রকল্প পরিচালিত হয়। তিনি তার ব্যবসার মধ্য দিয়েই পরিবেশ সুরক্ষার আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।
১৯৭০ সালে ইয়োভন পর্বতারোহণের জন্য স্কটল্যান্ডে যান। সে সময় তিনি ছেঁড়াফাটা একধরনের ফ্যাশনের কিছু শার্ট কিনেছিলেন। যা পরে বিক্রি করে সফলতা পান। ছোট এই অনুপ্রেরণা থেকেই তিনি তার কোম্পানি প্যাটাগোনিয়ায় বড় আকারে ওই বিশেষ ফ্যাশনের পোশাক তৈরি শুরু করেন। ইয়োভন প্যাটাগোনিয়ায় তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি শুরু করেন। যখন পোশাক বিক্রয় তার পর্বতারোহণের সরঞ্জাম বিক্রিকে ছাড়িয়ে যায়, তখন ইয়োভন পোশাকের একটি স্বীকৃত ব্র্যান্ড নাম দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন। এর পরই ১৯৭২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানতুয়াতে তার পোশাকের ব্র্যান্ড প্যাটাগোনিয়ার উদ্বোধন করা হয়।
১৯৮০’র দশকের শেষে এসে ফ্রস্ট ও তার স্ত্রী প্যাটাগোনিয়াতে তাদের অংশ ইয়োভন ও মালিন্ডার কাছে বিক্রি করে দেন। ১৯৮০-এর দশক থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত প্যাটাগোনিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ক্রস ম্যাকডিভিট। তিনি সংরক্ষণবাদী ও পরিবেশবান্ধব মানুষ ছিলেন। তাই তার দায়িত্বেও এই সময় বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে সফল পোশাক কোম্পানি হিসেবে প্যাটাগোনিয়ার বিস্তৃতি ঘটে।
তখন থেকেই জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে প্যাটাগোনিয়া দ্রুত মুনাফা লাভ করতে শুরু করে। কিন্তু ইয়োভন তার ব্র্যান্ডের তৈরি পোশাক পরিবেশের সুরক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি জোর দিয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালে প্যাটাগোনিয়া প্রথমবারের মতো তার প্রতিটি আউটলেটে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনের জন্য ক্যাফেটারিয়া ও বাচ্চাদের জন্য শিশু যতœকেন্দ্র খোলেন। ১৯৮৬ সালে তিনি প্যাটাগোনিয়ার সমস্ত লাভের ১০ শতাংশ বা বিক্রির ১ শতাংশ পরিবেশ নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থাগুলোতে দান করার নির্দেশ দেন।
১৯৯০ সালের শুরুর দিকে প্যাটাগোনিয়ায় পরিবেশসংক্রান্ত একটি অডিট পরিচালিত হয়েছিল। ওই অডিটে আশ্চর্যজনক একটি ফল দেখা যায়। সে সময় প্যাটাগোনিয়ার ব্যবহৃত কর্পোরেট সুতি পোশাকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপাদান খুঁজে পায় অডিট দল। ওই বছরেই বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে তার কোম্পানি প্রায় দেউলিয়ার হওয়ার পথে চলে আসে। পরে ১৯৯৬ সালে প্যাটাগোনিয়া জৈব সুতার পোশাক তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০০২ সালে ইয়োভন ও ক্রেগ ম্যাথিউস পৃথিবীর সুরক্ষায় কোম্পানি প্যাটাগোনিয়ার বিক্রির ১ শতাংশ ‘আর্থ ট্যাক্স’ হিসেবে পৃথিবীর জন্য দান করা প্রথা শুরু করেন। তাদের এই উদ্যোগ, যা বিশ্বব্যাপী কোম্পানিগুলোকে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোতে দান করতে অনুপ্রাণিত করে। তখন থেকেই প্যাটাগোনিয়া বিশ্বের প্রথম বহুজাতিক কোম্পানি হিসেবে প্রতি বছরের বিক্রির ১ শতাংশ পরিবেশের সুরক্ষায় দান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাগে ইয়োভন চৌইনার্ড ঘোষণা দেন, তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় লাভের অংশ নিশ্চিত করার জন্য প্যাটাগোনিয়ার মালিকানা একটি ট্রাস্টকে দান করছেন।
একমাত্র অংশীদার পৃথিবী
ইয়োভন চৌইনার্ড একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তার ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কখনোই ব্যবসায়ী হতে চাননি। পর্বতারোহণে বন্ধুদের ও নিজের উৎসাহ ধরে রাখতে তিনি কারুশিল্পী হিসেবে কাজ করেন। পরে কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। যখন থেকে তিনি বৈশি^ক উষ্ণতা ও প্রাণপ্রকৃতির ধ্বংস প্রত্যক্ষ করতে শুরু করেন, তখন থেকেই পরিবর্তিত এই পরিস্থিতির জন্য নিজের দায় উপলব্ধি করতে থাকেন। সেই সময়েই প্যাটাগোনিয়া তার ব্যবসায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল।
দীর্ঘ ৫০ বছরের পরিশ্রমে বহুজাতিক কোম্পানি প্যাটাগোনিয়াকে দাঁড় করিয়েছেন। প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন ধনকুবের হিসেবে। এই সময়ে পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন এই পরিবেশবাদীকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে। সামাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতির নানা পরিবর্তনের সাক্ষী এই সমাজসেবকের মোট সম্পদের পরিমাণও শতকোটি ডলারেরও ওপর। ২০২১ সালে তার প্রতিষ্ঠান প্যাটাগোনিয়া দেড়শ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য বিক্রি করেছে। প্যাটাগোনিয়ার বর্তমান মূল্য ৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি।
কর্মীদের কথা ভেবে প্যাটাগোনিয়া বিক্রি না করে পুঁজিবাদের বিপরীত স্রোতের ব্যতিক্রমী ধনকুবের ইয়োভন, তার স্ত্রী মালিন্ডা পেনোয়ার ও দুই সন্তান ফ্লেচার ও ক্লেয়ার কোম্পানির সব অর্থ দান করেছেন একটি দাতব্য সংস্থাকে। পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞ এই ট্রাস্টটির নাম ‘হোল্ডফাস্ট কালেক্টিভ’। যারা জলবায়ুর প্রভাব থেকে প্রকৃতি ও পরিবেশকে রক্ষার জন্য কাজ করে থাকে। বিশেষভাবে নকশা করা এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোম্পানিটি প্রতি বছরের ১শ মিলিয়ন ডলারের আয় জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বনভূমি রক্ষার কাজে ব্যবহার করবে।
আগস্টে পুরো চৌইনার্ড পরিবার তাদের কোম্পানি প্যাটাগোনিয়ার সব ভোটিং শেয়ার (মোট শেয়ারের ২ শতাংশ) নতুন টাস্ট্র প্যাটাগোনিয়া পাসপাস ট্রাস্টে স্থানান্তর করেছিল। চৌইনার্ড পরিবারের সদস্য ও তাদের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা এখন থেকে দাতব্য সংস্থা প্যাটাগোনিয়া পারপাস ট্রাস্টের মাধ্যমে পুরো কর্মকা- তত্ত্বাবধান করবেন।
প্যাটাগোনিয়াকে দান করার পর ৮৩ বছর বয়সী ইয়োভন চৌইনার্ড তার কোম্পানির ওয়েবসাইটে লিখেছেন, ‘এই মুহূর্ত থেকে আমাদের একমাত্র শেয়ার হোল্ডার এই পৃথিবী। সবুজ পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্যই ব্যবসার কথা ভুলে কোম্পানির সম্পদ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।’
