অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম আড়াই ঘণ্টা ও তার স্ত্রী-সন্তানদের চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদকের কর্মকর্তারা। দুদকের দেওয়া নোটিসের জবাব দিতে গতকাল মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপস্থিত হন সাংসদ ও তার পরিবার। এই সময় দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দীন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদক কার্যালয় থেকে বের হয়ে অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে সাংসদ জাফর আলম বলেছেন, ‘শাক দিয়ে কখনো মাছ ঢাকা যায় না।’
জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন সংসদ সদস্য জাফর আলম ও তার স্ত্রী-সন্তানদের পৃথক চিঠি পাঠান। এতে সাংসদ, তার স্ত্রী শাহেদা বেগম, ছেলে তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী তুহিন ও মেয়ে তানিয়া আফরিনকে গত ৪ সেপ্টেম্বর দুদক কক্সবাজার কার্যালয়ে হাজির হয়ে সম্পদের হিসাব দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু দলীয় কর্মসূচির জন্য সময় চেয়ে দুদকে আবেদন করেন সংসদ সংসদ জাফর আলম। সেই আবেদনে তারা ২০ সেপ্টেম্বর (গতকাল) আসবেন বলে উল্লেখ করেছিলেন।
দুদকের নোটিসে বলা হয়, সংসদ সদস্য জাফর আলমের ক্ষমতা ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে স্ত্রী শাহেদা বেগম সরকারি জমি, চিংড়ি ঘের, জলমহাল দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়। সাংসদ জাফর আলমের স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হলেও দীর্ঘদিন কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন।
গত ২১ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক খান মো. মাজানুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক স্মারকে সংসদ সদস্য জাফর আলমের স্ত্রী শাহেদা বেগমের সম্পদ তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই সময় সাংসদ জাফর আলম তার ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পদের অনুসন্ধানকে ‘চিহ্নিত মহলের ষড়যন্ত্র’ দাবি করে বলেছেন, ‘দুদকের তদন্তে তার পরিবার পূর্ণ সহযোগিতা করবে।’
