গাজীপুরে পুলিশের সঙ্গে ডাকাতদের গোলাগুলি হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দিনে-দুপুরে ককটেল ফাটিয়ে টাকা লুটের ঘটনায় আসামি ধরতে গত সোমবার রাতে অভিযানে গেলে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের ভাষ্য, এক ডাকাত পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আর এক পুলিশ সদস্য ককটেলের আঘাতে আহত হয়েছেন। অস্ত্র ও গুলিসহ ডাকাত চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলো আনোয়ার হোসেন (৩৫), মো. রুবেল (৪০), বাবুল বেপারি ওরফে বাবু (৩৬), জাকির হোসেন শুক্কুর ওরফে শুকুর ফরাজী (৪০), সোলাইমান আকন (৪০), সাগর বাড়ই (৪১) ও মৃদুল বাড়ৈ ওরফে আকাশ (৪৫), ইউসুফ আলী রানা (৩৫) ও বিধান হালদার (৩১)।
গতকাল মঙ্গলবার গাজীপুর মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম। এ সময় অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মো. জিয়াউল হক, অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) মো. দেলোয়ার হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ কমিশনার জানান, এ ডাকাত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দিনে-দুপুরে ককটেল ফাটিয়ে ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ কমিশনার আরও জানান, গত ১৬ আগস্ট দুপুরে মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন এনায়েতপুর এলাকায় আলীর জুট কারখানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং রকেটের কর্মকর্তা শাহেদ শরীফের কাছ থেকে ৫ লাখ ২২ হাজার টাকা ডাকাতি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কাশিমপুর থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সন্দেহভাজন আসামি ইউসুফ আলী রানা ও বিধান হালদারকে কাশিমপুরের তেতুইবাড়ী সানসিটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় তাদের সঙ্গীরা ডাকাতি করার জন্য রাত ১২টার দিকে কাশিমপুর থানাধীন খরচাপা এলাকার লোহাকৈর রোড সংলগ্ন খান ব্রাদার্সের খেলার মাঠে অস্ত্রশস্ত্র জড়ো হবে। সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা প্রথমে ককটেল ও চাপাতি নিয়ে হামলা চালায় এবং পরে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে পিছু হটে ডাকাতরা। এ সময় সোলাইমান আকনকে বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্যদিকে ডাকাতদের ককটেলে পুলিশ কনস্টেবল মো. মোস্তাফিজার রহমান বাহুতে আঘাত পান। পালানোর সময় আরও ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। কয়েকজন পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কাশিমপুর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি, পুলিশের ওপর হামলা, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার এবং বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে চারটি পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
