আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে এসে ১৯৯২ সালের ২৯ আগস্ট গণফোরাম নামে আলাদা রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন। দীর্ঘ ৩০ বছর পর সেই দল থেকে তাকেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘আমি গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। আমাকে কেউ বহিষ্কার করতে পারেন না। তাছাড়া যারা নিজেদের গণফোরামের নেতা বলে দাবি করেন তারা গণফোরামের কেউ নন।’
ড. কামালকে অব্যাহতি দিয়েছে তার গড়া দল ভেঙে আলাদা গণফোরাম করা অংশটি।
অব্যাহতির বিষয়ে ড. কামাল হোসেনের বরাত দিয়ে এই কথা জানান দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা গণফোরামের প্রেসিডিয়ামের সভা করেছি। সভায় ড. কামাল হোসেন সভাপতিত্ব করেছেন। তিনি বলেছেন, গণফোরাম আগামী দিনে জনগণের দাবি নিয়ে রাজপথে থাকবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণে বিস্তারিত আলোচনা হবে।’
ডা. মিজান বলেন, ‘নজিরবিহীন লোডশেডিং, জ¦ালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলার প্রতিবাদ জানিয়েছি আমরা। নির্বাচনসহ অন্যান্য বিষয়ে শিগগিরই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘মোস্তফা মোহসিন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরামকে নির্বাচন কমিশন স্বীকৃতি দেয়নি। তারা আদালতে গিয়েছিলেন আদালত তাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। তারা কোনোভাবেই গণফোরামের কেউ নন। তারা কী করল তা নিয়ে আমরা ভাবছি না। তাদের কোনো অনুষ্ঠানে আমরা যাইনি।’
এদিকে ড. কামাল হোসেনকে বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে এম মোকাব্বির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যার যা খুশি তাই করছে। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেনকে দলের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে অব্যাহতি দেয় মোস্তফা মোহসিন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। একইসঙ্গে ডা. মো. মিজানুর রহমানকে সভাপতি পরিষদের সদস্যপদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।
এর আগে গত শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি এবং ডা. মো. মিজানুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে দলটির ১০১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরাম সংবাদ সম্মেলন করে কামাল হোসেনকে অব্যাহতির ঘোষণা দেয়।
মোস্তফা মোহসিন মন্টু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন দেশের জনগণের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাই তাকে গণফোরামের উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’
সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির সঙ্গে জোট গঠনসহ নানা ইস্যুতে অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হয় গণফোরামের ভেতরে। এর মধ্যে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ২০১৯ সালের ২৬ মে অনুষ্ঠিত গণফোরামের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দলটিতে টানাপড়েন প্রকাশ্যে আসে। ওই সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে মোস্তফা মহসিন মন্টুকে সরিয়ে দলের নবাগত ড. রেজা কিবরিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পর থেকেই বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারের পথ ধরে ভাঙনের মুখে হাঁটতে থাকে গণফোরাম। শেষ পর্যন্ত দলটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
