খেলাধুলা ক্যারিয়ার না হলে শহুরে মেয়েরা খেলায় ঝুঁকবে না

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:২৬ এএম

বাংলাদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রের বহুল আলোচিত নাম কামরুন নাহার ডানা। সাবেক এই ব্যাডমিন্টন তারকা ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছেন। আজকের নারী ফুটবল যে সাফল্যের ভেলায় ভাসছে, তার শুরুর দিকের লড়াকু সৈনিক ছিলেন ডানা। নারীদের ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্য, সম্ভাবনা ও সংকটের বিষয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন খ্যাতিমান এই ক্রীড়াবিদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সুদীপ্ত আনন্দ

দেশ রূপান্তর: বাংলাদেশের জাতীয় নারী ফুটবল দল সাফ চ্যাম্পিয়নের শিরোপা জয় করেছে। নারী ফুটবলের কথা এলে আপনার নাম চলেই আসে। একটা সময় এদেশে মেয়েদের ফুটবল প্রতিষ্ঠা করতে অনেক লড়াই করতে হয়েছে আপনাকে। সেই গল্পটা শুনতে চাই।

কামরুন নাহার ডানা: সবার আগে পরিচয় হচ্ছে আমি একজন মানুষ। একজন মানুষ হিসেবে মেয়েদেরও খেলার অধিকার আছে। এদেশে নারী ফুটবলের প্রচলন সেভাবে ছিল না। ২০০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের একটি নারী ফুটবল দল প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল। তখন আমাদের ফুটবল দল বলতে কিছু ছিল না। অন্য খেলার পাঁচ মেয়েকে অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে খেলতে রাজি করানো হয়। আর পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা মেয়েদের নিয়ে দুটি দল করা হয়। মিরপুরে একদম চুপিসারে ম্যাচটা হয়েছিল। তবে এটা ঠিক। এরও অনেক আগে, অর্থাৎ ১৯৭৮-৭৯ সালে কোচ সাহেব আলী ভাই একটা দল করেছিলেন। তবে তার ধারাবাহিকতা থাকেনি। আমার ফুটবলের সঙ্গে পুরোপুরি জড়িত হওয়া ২০০৩ সালে। তখন আমি বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক। আমি জেনেছিলাম নারী ফুটবলের জন্য ফিফা-এএফসি একটা অনুদান বাফুফেকে দেয়। তবে বাফুফে সেটা অন্য খাতে খরচ করে। তারা আসলে নারী ফুটবল শুরু করার সাহসটাই পায়নি পারিপার্শ্বিক নানা কারণে। তাদের আসলে কোনো দূরদৃষ্টি ছিল না। মৌলবাদীদের ভয়ে তারা সাহস পায়নি। একদিন আমি বাফুফের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বরাবর একটা চিরকুট লিখে মেয়েদের ফুটবল খেলা শুরুর অনুরোধ জানাই। মহিলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে সবধরনের কারিগরি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিই। আমার চিরকুট পেয়ে বাফুফে সিদ্ধান্ত নেয় মেয়েদের ফুটবল শুরু করার। একটা মহিলা ফুটবল কমিটি করা হলো সিরাজুল ইসলাম বাচ্চু ভাইকে চেয়ারম্যান ও আমাকে সম্পাদক করে। তখন থেকে মেয়েদের ফুটবলচর্চা শুরু হলো অনেকটা চুপিসারে। মেয়েরা হাফপ্যান্ট পরে মাঠ খেলবে, এটা তো মৌলবাদীরা মেনে নেবে না। তখন আমরা মহিলা ক্রীড়া সংস্থাতে উন্মুক্ত ট্রায়াল আয়োজন করলাম। সেখানে প্রায় ২০০ মেয়ে চলে এলো। সেখান থেকে আমরা ধাপে ধাপে বাছাই করে ৩০ জনকে নির্বাচন করলাম ক্যাম্পের জন্য। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অনুরোধ করলাম আমাদের ক্যাম্পটা করার জন্য। এরপর ২০০৪ সালে বাফুফে থেকে একটা টুর্নামেন্ট করলাম। আন্তঃজেলা টুর্নামেন্ট নামে। আমাদের হাতে থাকা মেয়েদের ছয় দলে বিভক্ত করে লিগ আয়োজন করা হয়। তখন অনেকেই এটা নিয়ে হাসাহাসি কটূক্তি করেছিল।

দেশ রূপান্তর: তখন তো এই খেলা যাতে না হয় সে জন্য মৌলবাদীরা তৎপর হয়ে উঠেছিল?

কামরুন নাহার ডানা: আমাদের টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা শুনে মৌলবাদীদের ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে। টুর্নামেন্টের ঘোষণা পত্রিকায় আসার পরের শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের সামনে বিরাট মিটিং-মিছিল হলো। ততদিনে ছয় দল নিয়ে আসর কমলাপুরে শুরু করার দিনক্ষণও চূড়ান্ত করে ফেলেছি আমরা। মৌলবাদীরা সিদ্ধান্ত নিল উদ্বোধনের দিন কমলাপুর স্টেডিয়াম ঘেরাও করে খেলা হতে দেবে না। বাফুফের কর্তারাও ভয় পেলেন। বাচ্চু ভাই বললেন, এখন তো এই খেলা শুরু করা যাবে না। শুরু করলেই মৌলবাদীদের হামলা হবে। আমি বললাম, আমাকে একটু সুযোগ দিন। আমি বাইরের সমর্থনগুলো নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। আমি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই বাংলাদেশ মহিলা পরিষদকে। আগে থেকেই আমি এই সংগঠনের সঙ্গে নানাভাবে জড়িত ছিলাম। আমি মহিলা পরিষদের নেত্রীদের আমন্ত্রণ জানালাম। এ ছাড়া সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। যারা নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে সেসব এনজিওর সঙ্গেও কথা বলি। তারা সবাই মেয়েদের খেলার পক্ষে অবস্থান নেয়। মহিলা পরিষদকে বললাম, আপনারা বাফুফেকে চাপ দিন খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটও স্টেটমেন্ট দিল পত্র-পত্রিকায়। রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন পরিষদের সনজীদা খাতুন আপাকে বললাম পক্ষে থাকতে। এভাবে বিভিন্ন জায়গা থেকে বাফুফেকে মেয়েদের লিগ চালানোর অনুরোধ জানানো হলো। এর মধ্যেই স্পন্সরের জন্য আমরা পথে পথে ঘুরতে শুরু করেছি। ওই সময় ক্রিকেট নিয়ে স্পন্সরদের আগ্রহের শেষ নেই। কোটি কোটি টাকা তারা ক্রিকেটে ঢালছে। এমনই একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কাছে গেলাম মেয়েদের স্পন্সর করার অনুরোধ করতে। তারা আমাদের উদ্যোগের প্রশংসা করলেও মৌলবাদীদের হামলার ভয়ে স্পন্সর করেনি।

দেশ রূপান্তর: এরপর কী হলো?

কামরুন নাহার ডানা: এরপর বাফুফের অর্থায়নেই হয়েছিল সেই আসর। পত্র-পত্রিকায় যখন ঢালাওভাবে মৌলবাদীদের সঙ্গে লড়াই করে ফুটবল আয়োজনের খবর ছাপা হলো, তখন এএফসির দৃষ্টি কাড়লাম আমরা। ২০০৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ বাছাইপর্বের আমন্ত্রণ চলে এলো। সেই আমন্ত্রণ পেয়ে তো আরও বিপদ হলো। মাত্র তিন মাস হয়েছে মেয়েরা বলে লাথি দেওয়া শিখেছে। এএফসি আমাদের আশ্বাস দিল। বলল, আমরা চাই তোমরা ফুটবল খেল। এত বড় সুযোগ। আবার মেয়েদের মনের ভেতর ভয়, এত বড় আসরে কীভাবে খেলবে? সেই ভয়ভীতি ভাঙাতে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ করি যেন তারা কিছু প্রদর্শনী ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা করে দেয়। তখন পশ্চিমবঙ্গে ক্রীড়া ও রেলমন্ত্রী ছিলেন সুভাষ মুখার্জী। তার আন্তরিক উদ্যোগে আমাদের মেয়েরা চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় হলদিয়া, দমদম, কল্যাণী ও বারাসাতে। ওখানে মেয়েরা অনেক ভালো করেছে। একটা খেলায় আমাদের একটা মেয়ে সুইনু চাকমা গোলও করেছিল। সেই সফরে বাচ্চারা অনেক সমাদর পেয়েছিল। সংবর্ধনাও দেওয়া হয়েছিল। ক্রীড়ামন্ত্রী প্রত্যেককে একটা করে সোনার লকেট উপহার দিয়েছিলেন। যাই হোক কোরিয়ায় বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী জাপানের কাছে আমরা হেরেছিলাম ২৬-০ গোলে। পরের দুই ম্যাচে গুয়াম ও হংকংয়ের কাছেও হারি। এরপর ২০০৬ সালে আরেকবার মেয়েদের নিয়ে ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাতটি ম্যাচ খেলেছিলাম। ওই সফরের সময় আমরা পাল্টা আমন্ত্রণ জানাই ২০০৭ সালে বাংলাদেশে এসে খেলার জন্য। এটা জানার পর আবারও মৌলবাদীরা শুরু করে দিল বিক্ষোভ। তাদের কারণে আমরা যশোরে, নরসিংদীতে ম্যাচ আয়োজন করতে পারিনি। পরে মহিলা ক্রীড়া সংস্থায়, চট্টগ্রামে ও শফিপুর আনসার একাডেমিতে ম্যাচগুলো আয়োজন করি।

দেশ রূপান্তর: বর্তমান দলটিতে জাতিগত বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়। এরা ভালোও করছে। আপনি যেহেতু শুরুর দিকে এদের নিয়ে কাজ করেছেন, নিশ্চয় জানেন ফুটবলের বীজটা কী করে এদের মাঝে রোপিত হলো?

কামরুন নাহার ডানা: আগে অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠীর মেয়েরা সেভাবে খেলায় আসেনি। ফুটবল যেহেতু অনেক পরিশ্রমের খেলা। পাহাড়িরা জাতিগতভাবেই অনেক পরিশ্রমী। সংসার থেকে শুরু করে সব কাজই পাহাড়ি মেয়েরা করে। ওদের উচ্চতা একটু কম হলেও অনেক পরিশ্রমী বলে ফুটবলে ওরা ভালো করে। তা ছাড়া এত অভাবী পরিবার থেকে তারা আসে, যে কারণে ওদের মধ্যে ফুটবল নিয়ে আলাদা একটা উৎসাহ কাজ করে। ওদের মধ্যে গোঁড়ামি ভাব নেই। কারণ ওসব অঞ্চলের মেয়েরা ঘর-বাইরের সব কাজ করে।

দেশ রূপান্তর: আপনি তো ২০০৮ সাল পর্যন্ত ফুটবল ফেডারেশনের মহিলা কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ফুটবল থেকে একটু দূরে ছিলেন...

কামরুন নাহার ডানা: আমি ২০০৮ সাল পর্যন্ত সেখানে কাজ করেছি একটি সাব-কমিটির হয়ে। সেবার নির্বাচনে আমি ছিলাম সালাউদ্দিন ভাই, মালু ভাই, হেলাল ভাইদের প্যানেলে। তবে আমাকে কী কারণে জানি না, শেষ মুহূর্তে প্যানেল থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাদের ভয় ছিল আমি বিরোধী প্যানেলে চলে যাব কিনা। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম, তবে আমি যাইনি। যা হোক। বাফুফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এখন বলতে শুনি যে, নারী ফুটবল নাকি ‘২০০৯ সাল থেকে এদেশে শুরু হয়েছে’। এটা অনেক বড় সংকীর্ণতা। ইতিহাসকে অস্বীকার করার সুযোগ কারও নেই। আমি কিন্তু কখনই বলব না যে নারী ফুটবলের শুরু আমি করেছি। আমি আগেই বলেছি সাহেব আলী ভাই সত্তরের দশকে চেষ্টা করেছিলেন। অথচ তারা নারী ফুটবলের ইতিহাসটাকে অস্বীকার করে। অন্যদিকে ২০০৯ সালে আমারই এএফসিতে প্রতিনিধি হিসেবে যাওয়ার কথা ছিল। কোত্থেকে কে একজন এসে কী যে জাদু করল! বাফুফেতে হয়তো এরপর আর কাজ করার সুযোগ পাইনি। তবে আমার উদ্যোগেই ২০১১ সালে প্রথম নারী লিগে মোহামেডান দল গড়ে ও রানার্স-আপ হয়। সেবার মনে আছে, আমরা উত্তরবঙ্গের ছয় জেলায় ছয়টা প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে গিয়েছিলাম। সেই সফরে বেশ কয়েকটি জেলায় ঘুরে ঘুরে আমরা ম্যাচ খেলি।

দেশ রূপান্তর: নারী ফুটবলের এই জাগরণে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপের নিশ্চয়ই একটা বড় অবদান আছে?

কামরুন নাহার ডানা: ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া বঙ্গমাতা গোল্ডকাপের ভূমিকা অনস্বীকার্য। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই আসর নিয়মিত একটা নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যে সময়টায় পরীক্ষা থাকছে না, তখন খেলা হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোও বাধ্য এই আসরে খেলতে। না খেললে নানা ধরনের সমস্যা হয়। এটা যেহেতু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ সেটা মানতেই হবে। এর ফলে কিন্তু নারী ফুটবল সাংঘাতিক লাভবান হয়েছে। আসর হওয়ার সুফল বাফুফে পেয়েছে অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় দলের বিভিন্ন সময়ের সাফল্যে।

দেশ রূপান্তর: নারী ফুটবলকে এগিয়ে নিতে লিগটা তো ভালোভাবে হওয়া চাই। সেটা তো ভালোভাবে হচ্ছে না।

কামরুন নাহার ডানা: আমরা মোহামেডানের পক্ষ থেকে লিগের ব্যাপারে একটা পরামর্শ দিয়েছিলাম। পুলপ্রথা চালু করা। এমনিতেই খেলোয়াড় সংকট। শীর্ষ পর্যায়ের বড়জোর ৩০ খেলোয়াড় আছে। আর সেই ৩০ জনকেই যদি একটা ক্লাব নিয়ে নেয়, তাহলে অন্যরা কেন আগ্রহী হবে। আর ঘরোয়া ফুটবল, বিশেষ করে লিগকে জমজমাট করতে হলে বড় ক্লাবগুলোকে আনতেই হবে। তাই প্রাথমিক অবস্থায় অবশ্যই পুলপ্রথা করা জরুরি। তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা লিগ হবে। এখন ধরুন, বসুন্ধরাই সব খেলোয়াড় নিয়ে নিচ্ছে। ১২ গোল ২০ গোলে তারা জিতে যাচ্ছে। এভাবে তো লিগ হয় না।

দেশ রূপান্তর: সাফজয়ী ফুটবল দলের প্রায় সবাই গ্রাম থেকে আসা। শহুরে মেয়েদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বড্ড কম। এর কারণ কী মনে করেন?

কামরুন নাহার ডানা: মেয়েদের জন্য এদেশে খেলাধুলায় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ এখনো সেভাবে তৈরি হয়নি। একটা পরিবারে একটা মেয়ে চিন্তা করে লেখাপড়া করলে একটা ভালো ক্যারিয়ার গড়া যাবে। তাই তারা খেলাধুলার দিকে আকৃষ্ট হয় না। তাদের বাবা-মাও সেভাবে মেয়েদের খেলাধুলার অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দিতে চায় না। এখন নিম্নবিত্ত বাবা-মাও চিন্তা করে তার সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বানানোর। যতক্ষণ পর্যন্ত খেলাধুলা একটা ক্যারিয়ার গড়ার মঞ্চ হয়ে না উঠবে ততক্ষণ পর্যন্ত শহুরে, শিক্ষিত ও অবস্থাশালী পরিবারের মেয়েরা খেলায় ঝুঁকবে না।

দেশ রূপান্তর: সেটা করতে হলে তো আগে ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের চিন্তাধারাটা বদলাতে হবে। এখনো ফেডারেশনগুলোতে পুরুষদের আধিপত্য। অথচ দেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান নারী। দেশের সরকারপ্রধানও নারী?

কামরুন নাহার ডানা: এটা নিয়ে আমিই সবচেয়ে বেশি লড়াই করেছি, করেও আসছি। সম্প্রতি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায়ও বিষয়টি আমি বলেছি। দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। জাতীয় সংসদে যদি নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন থাকে, তবে কেন ফেডারেশনগুলোতে নারীদের জন্য সংরক্ষিত পদ থাকবে না? অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনে ৫ জন নারী সদস্যের আসন সংরক্ষিত করা হয়েছে। তারা যদি পারে অন্যরা কেন পারবে না। সংগঠনের নারী সংখ্যা বাড়ানো হলে নারীদের নিয়ে কর্মচাঞ্চল্যও বাড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত