নিজের উপবৃত্তির টাকা না পেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি লিখেছিল রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার তেবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনাইদ সিদ্দিক। বাবার সামর্থ্য না থাকায় ছেঁড়া ছাতা আর ছেঁড়া ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে তাকে এমন কষ্টের কথা জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছিল জুনাইদ। সেই চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুনাইদের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেন নতুন স্কুলব্যাগ, নতুন ছাতা। সেই সঙ্গে খাতা-কলমসহ আরও কিছু শিক্ষা উপকরণ।
দুর্গাপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের রিকশাচালক সিরাজুল ইসলামের ছেলে জুনাইদ সিদ্দিক। তার লেখা একটি চিঠি সম্প্রতি ফেইসবুকে বেশ ঘোরাফেরা করছে। সরকারের দেওয়া তার উপবৃত্তির টাকা কেউ তুলে নিয়েছে। তাই মন খারাপ করে প্রধানমন্ত্রীকে লিখে চিঠি।
চিঠিতে জুনাইদ লিখেছে, আমার উপবৃত্তির টাকা আমি এখনও পাইনি। বাবা বলেছিল উপবৃত্তির টাকা পেলে স্কুলব্যাগ আর ছাতা কিনে দিবে। কিন্তু আর তা হলো না। স্যারদের মাধ্যমে জানতে পারলাম কেউ আমার টাকা তুলে নিয়েছে। প্রতিদিন আমাকে ছেঁড়া স্কুলব্যাগ আর ভাঙা ছাতা নিয়ে স্কুলে যেতে হয়। তাতে আমার কোনো দুঃখ নেই। এরপর যেন এমনটি না হয় এটাই দাবি।
তেবিলা সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাফির উদ্দিন বলেন, প্রতি শিক্ষার্থীকে নতুন পোশাকের জন্য ১ হাজার টাকা ও ৬ মাসের উপবৃত্তি বাবদ ৯০০ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেখান থেকে কেউ টাকা তুলে নিয়ে গেছে। প্রতিটি স্কুলেই এমন ঘটেছে। জুনাইদের সঙ্গেও এমনটি ঘটেছে।
পরে গত শুক্রবার রাতে এ নিয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, আমার ও জেলা প্রশাসকের নজরে এসেছে বিষয়টি। আমরা এই বিষয়ে জুনাইদকে ডাকব এবং তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এরপর গতকাল শনিবার শিশু জুনাইদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন ব্যাগ, ছাতাসহ কিছু শিক্ষা উপকরণ। উপজেলা হলরুমে মিনা দিবসের অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিশুটির হাতে এসব উপহার তুল দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, আবেগঘন চিঠিটি ফেইসবুকে আসার পর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এছাড়া ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ এ রকম বিড়ম্বনায় না পড়ে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। শিশুটির উপবৃত্তির টাকা প্রদানের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের বলেছি।
