সংস্কার না হলে প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ৪ শতাংশের নিচে

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:২৫ পিএম

অর্থনৈতিক সংস্কার না হলে ২০৩৫ থেকে ২০৩৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৪ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত চেঞ্জ অব ফেব্রিক নামে প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে তিনটি বাধা চিহ্নিত করেছে। এগুলো হলো বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস, দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক খাত এবং ভারসাম্যহীন ও অপর্যাপ্ত নগরায়ণ। এসব বাধা দূর করতে পারলে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই হবে বলে মত দিয়েছে বৈশ্বিক এ সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে বিশ্বের সেরা প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক উচ্ছ্বাস কখনো স্থায়ী হয় না। তাই এতে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কারণ নেই। দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধি সবসময় উচ্চঝুঁকিতে থাকে। খুব কম দেশই দীর্ঘ সময়ের জন্য উচ্চপ্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে। শীর্ষ দশে থাকা দেশগুলোর মাত্র এক-তৃতীয়াংশই পরবর্তী দশকে উচ্চপ্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। গত এক দশকে যেসব দেশ শীর্ষ ১০-এ ছিল সেসব দেশ আগের দশকে শীর্ষ ১০-এ ছিল না।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিশ্বব্যাংক বলেছে, রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। বাংলাদেশের শুল্ক ও করহার অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি। তাই বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য শুল্ক-করহার কমিয়ে আনতে হবে। ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। কিন্তু গত চার দশকে আর্থিক খাতের উন্নতি হলেও তা পর্যাপ্ত নয়, আর্থিক খাতের উন্নয়ন করা প্রয়োজন। এ ছাড়াও বিশ্বব্যাংক বলছে, আধুনিক নগরায়ণ বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারসাম্যপূর্ণ আধুনিক নগরায়ণের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক যা বলেছে তার সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। আমাদের প্রথম প্রজন্মের সংস্কার করা হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের সংস্কার করতে হবে। কিন্তু আমরা এখনো দ্বিতীয় প্রজন্মের সংস্কার শুরু করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিযোগী ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে। বর্তমান নীতির মাধ্যমে আমাদের মাথাপিছু আয় ১২ হাজার ডলারে নিয়ে যেতে পারব না। এ ক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিকল্প নেই।’

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে গেছেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির আকাক্সক্ষা অর্জনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, আর্থিক খাত সংস্কার করে শক্তিশালী করার বিষয়ে সময় উপযোগী নীতি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের ২০২৩-২৭ মেয়াদের জন্য নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) তৈরি করছে বিশ্বব্যাংক। সরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠককালে ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে কীভাবে বাংলাদেশকে আরও বেশি সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে মার্টিন রেইজার আলোচনা করেন। অন্য দেশগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতার বিষয়ে শিখতে পারে। টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করে বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত কয়েক দশকের উন্নয়নে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সূচকের উন্নতি হয়েছে। কভিড মহামারীর মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্য দেশের তুলনায় ভালো করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত