আমিরাতের বিপক্ষে টাইগারদের কষ্টার্জিত জয়

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৪৭ পিএম

খেলা শেষ তখন আর মাত্র ৬ বল বাকি। জয়ের জন্য টাইগারদের প্রয়োজন মাত্র দুটি উইকেট। অন্যদিকে আরব আমিরাতের প্রয়োজন ছিল ১১ রান। শরিফুলের করা সেই ওভারের প্রথম বলেই দুই রান নিলেন জুনায়েদ সিদ্দিক। পরের বলেই নিতে পারতেন উইকেট। শট বলে উড়িয়ে মেরেছিলেন সিদ্দিক। কিন্তু কভারে দাঁড়িয়ে থাকা সাইফ উদ্দিন ক্যাচ মিস করলে হারের শঙ্কা যেন উঁকি দেয়। তবে অপেক্ষা করতে হয়নি। পরের দুই বলেই ১৬ বছর বয়সী অভিষিক্ত আয়ান খান ও জুনায়েদকে আউট করে ফলাফল নিশ্চিত করেন শরিফুল। তাতে ২ বল হাতে রেখেই র‌্যাংকিংয়ের ১৪ নম্বরে থাকা আমিরাতের বিপক্ষে বাংলাদেশ পায় ৭ রানের কষ্টার্জিত জয়।  

টাইগারদের বোলিং ইনিংসের শুরুটা ব্যাটিংয়ের মতোই। প্রথমে ধাতস্থ হতে না পারা, তারপরই ঘুরে দাঁড়ানো। ১৫৮ রানের অল্প লক্ষ্য পেয়ে আমিরাতের ব্যাটাররা চড়াও হয়েছিলেন। চতুর্থ ওভারে শরিফুলের মিতব্যয়ী ওভারের পর শরিফুলের ব্রেক থ্রো। সেখান থেকে মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিন ঘূর্ণিতে কাবু আমিরশাহীরা।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ১৫৯ রান তাড়া করতে নেমে ২৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে আরব আমিরাতের। রান-আউট হয়ে ফিরেন ১৫ বলে ১৫ করা মোহাম্মদ ওয়াসিম। অপর ওপেনার চিরাগ সুরি এবং আরিয়ান লাকার ব্যাটে তারা এগুতে থাকে। পাওয়ারপ্লেতে আসে ৪৩ রান। ২২ বলে ৩৯ রানের এই চমৎকার জুটি ভাঙে চিরাগ সুরির বিদায়ে। মেহেদি মিরাজের বলে সোহানের দারুণ স্টাম্পিংয়ে ফিরেন ২৪ বলে ৭ চারে ৩৯ রান করা সুরি। আমিরাতের তৃতীয় উইকেটেরও পতন ঘটে মিরাজের ঘূর্ণিতে। ১০ ওভারে তাদের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৭৯ রান।

পরের ওভারে বাংলাদেশের চতুর্থ সাফল্যেও মিরাজের দারুণ অবদান। মোস্তাফিজের বলে রিজওয়ানের (৫) ক্যাচ চমৎকার ডাইভে তিনি তালুবন্দি করেন। এরপর থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। কিন্তু মারকুটে ব্যাটিংয়ে রান উঠছিল।

শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১১ রানের। শরীফুলের করা দ্বিতীয় বলে সহজ ক্যাচ ছাড়েন সাইফউদ্দিন। পরের বলেই অবশ্য ১৭ বলে ২৫ করা আয়ান খানের ক্যাচ নেন মোসাদ্দেক হোসেন। পরের বলে ফের উইকেট। এবার আর ক্যাচ নিতে ভুল করেননি সাইফউদ্দিন। ১৫১ রানে অল-আউট হয় আমিরাত। বাংলাদেশ পায় ৭ রানের জয়।  শরীফুল ইসলাম এবং মেহেদি মিরাজ নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। মোস্তাফিজ ৩১ রানে নিয়েছেন ২টি। 

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আফিফ হোসেনের ব্যাটে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৮ রান তোলে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারে যথারীতি ধস নামে। আফিফ এবং অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ৬ষ্ঠ উইকেটে দুজনে গড়েন ৫৪ বলে ৮১* রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। আফিফ হোসেন ৫৫ বলে ৭ চার তিন ছক্কায় ৭৭ রানে অপরাজিত থেকে হয়েছেন ম্যাচসেরা। সোহান ২৫ বলে  ২টি করে চার-ছক্কায় ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত