দুর্নীতির কারণে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে : মোশাররফ

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৩০ এএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘রাজধানীর এই বাড্ডা এলাকা গ্যাস না থাকার কারণে আমাদের মা-বোনেরা রান্না করতে পারছে না। শুধু গ্রামে নয়, রাজধানীতেও মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে পারছে না সরকার। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ বিভিন্ন কারণে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এ রকম রুদ্ধশ্বাস অবস্থার মধ্যেও দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে আজ দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের কিনারায় চলে গেছে।’

গতকাল রবিবার জ্বালানি তেল-নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তরের গুলশান, বাড্ডা ও রামপুরা থানার (৮ জোন) উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘সরকার মেগা প্রজেক্ট করে, মেগা দুর্নীতি করে বিদেশে টাকা প্রচার করে বাংলাদেশকে দেউলিয়া করে ফেলেছে। ডলারের অভাবে বিদেশ থেকে আমদানি করা যাচ্ছে না। ফলে হঠাৎ করে সরকার জ্বালানি তেলের দাম শতকরা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম লাগামহীন। যারা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করছে তারা আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট। এ কারণে সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে আওয়ামী লীগকে হাইব্রিড সরকার বলে উপাধি দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী বিদেশে গিয়ে সাফাই গাইছেন দেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে গণতন্ত্রের সুবাতাস বয়। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, গণতন্ত্রকে বারবার হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগের পক্ষে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগের দুর্নীতির কারণে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। আর বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থেকেছে, তখন দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ লুটপাটের অর্থনীতি কায়েম করছে। তারা অর্থনীতিকে মেরামত করতে পারবে না। তাদের পক্ষে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। বিএনপির দায়িত্ব দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনীতিকে মেরামত করা। এ দায়িত্ব আমাদের সবাইকে নিতে হবে। অতীতের মতো জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় যেতে পারলে দেশের অর্থনীতি আমরা পুনরুদ্ধার করব।’

‘আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।’প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভোটারবিহীন সরকার দেখেছি। খালেদা জিয়ার আহ্বানে নির্বাচন বয়কট করেছি। তখন ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছিলেন। আর শেখ  হাসিনা বলেন, আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। তার কথা এদেশের জনগণ বিশ্বাস করে না।’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূইয়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক, মহানগর উত্তর বিএনপি নেতা এবিএম রাজ্জাক প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত