ভারতকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য করার জোর দাবি জানিয়েছে রাশিয়া। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে এ বিষয়ে মস্কোর মনোভাব প্রকাশ করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ভারতের পাশাপাশি ব্রাজিলকেও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল আনন্দবাজার, হিন্দুস্তান টাইমসসহ কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমে ফলাও করে ভারতের ব্যাপারে রাশিয়ার এই মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে।
ল্যাভরভের মতে, ভারত এবং ব্রাজিল নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার ‘যোগ্য দাবিদার’। তিনি মনে করেন, এই দুই দেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গত শনিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কের ভাষণের আগে বক্তব্য দিতে আসেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ। সেসময় তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি, বিশেষ করে, ভারত এবং ব্রাজিল আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে এবং তারা নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার যোগ্য দাবিদার।’
নিরাপত্তা পরিষদকে বাস্তবতা বুঝে পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে ল্যাভরভ রাশিয়ার মনোভাব তুলে ধরেন। তার মতে, নিরাপত্তা পরিষদকে আরও বেশি মাত্রায় গণতান্ত্রিক করতে পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে আফ্রিকা, এশিয়া এবং ল্যাটিন আমেরিকার প্রতিনিধি রাখা উচিত। এদের মধ্যে তিনি ভারত ও ব্রাজিলকে অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ জোর দেন।
পরে সংবাদ সম্মেলনে ল্যাভরভের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বদলে ভারত এবং ব্রাজিলকে স্থায়ী সদস্য করার দাবি জানালেন। এ প্রশ্নের জবাবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ওই দুটি দেশকে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখি। তারা আন্তর্জাতিক স্তরে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভারত এবং ব্রাজিলের কথা তুলে ধরেছি একটাই কারণে যে, তারা এই সদস্যপদ পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়ে আসছে। ঠিক একই পথে আফ্রিকার দাবিও উঠে আসবে।’
দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য করার দাবি জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি। এবার সেই দাবিকে আরও জোরালো করলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (স্থায়ী এবং অস্থায়ী মিলিয়ে) ১৫ সদস্য দেশের প্রত্যেকেরই একটি করে ভোটদানের ক্ষমতা থাকলেও কেবল পাঁচ স্থায়ী সদস্য চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সেরই ‘ভেটো’ ক্ষমতা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র জাপানকে সঙ্গে নিতে পরিষদে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার আলাপ সামনে নিয়ে আসে।
