রংপুরে জাপানের নাগরিক কুনিও হোসি হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত এক জঙ্গিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে তা স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার আদালত ৮ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেয়।
আলোচিত এ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির (জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) ৫ জঙ্গিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল। তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যুদ- বহাল রেখে ২৬ সেপ্টেম্বর রায় দেয় বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাসের রায় পাওয়া ওই জঙ্গির নাম ইছাহাক। আর দ- বহাল থাকা চারজন হলো মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী, লিটন মিয়া ওরফে রফিক, আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব ও সাখাওয়াত হোসেন ওরফে শফিক। এর মধ্যে আহসান উল্লাহ আনসারী পলাতক।
ইছাহাকের খালাসের রায় স্থগিত চেয়ে করা আবেদন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম।
সাইফুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসামি ইছাহাক এ মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। এ যুক্তিতে তার খালাস স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিলাম। চেম্বার আদালত সেটি গ্রহণ করেছেন।’
২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকালে রংপুরের কাউনিয়ার আলুটারি এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় কুনিও হোসিকে। তদন্তে বেরিয়ে আসে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির জঙ্গিরা এ হত্যাকান্ড ঘটায়। ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রংপুরের একটি আদালত এ হত্যা মামলায় জেএমবির পাঁচ জঙ্গিকে মৃত্যুদন্ডাদেশ ও একজনকে খালাসের রায় দেয়। রায়ের পর দন্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিদের পক্ষে আপিল ও জেল আপিল হয়। তবে পলাতক থাকায় আহসান উল্লাহ আনসারী আপিলের সুযোগ পাননি।
