চট্টগ্রাম-দুবাই রুট

সরাসরি কনটেইনার জাহাজ চালু করছে সাইফ পাওয়ার

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:২৯ এএম

দেশে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম-দুবাই রুটে কনটেইনার পরিবহন জাহাজ চালু করতে যাচ্ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। শিপিং ও লজিস্টিক খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে গত রবিবার দুবাইভিত্তিক এডি পোর্টস গ্রুপের কোম্পানি শাফিন ফিডার্সের সঙ্গে চুক্তি করেছে সাইফ পাওয়ারের সাবসিডিয়ারি সাইফ মেরিটাইম এলএলসি। চুক্তির আওতায় শাফিন ফিডার্সের তিনটি কনটেইনার জাহাজ পরিচলনা করবে সাইফ মেরিটাইম। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এ তথ্য জানিয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক।

শাফিন ফিডার্স হচ্ছে এডি পোর্টস গ্রুপের শতভাগ মালিকানাধীন কোম্পানি। সাইফ মেরিটাইমের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, শাফিন ফিডার্স চলতি বছরের নভেম্বরে তিনটি কনটেইনার জাহাজ সাইফ মেরিটাইমকে সরবরাহ করবে, যেগুলোর ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টিইউ। এ জন্য শাফিন ফিডার্স ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে। জাহাজগুলো ১৫ বছর পরিচালনা করবে সাইফ মেরিটাইম, যার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটে কার্গো সেবা দেবে।

সাইফ পাওয়ার জানিয়েছে, প্রতি বছর কার্গো মালবাহী প্রতিটি জাহাজ থেকে ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আসবে এবং প্রতিটি জাহাজ থেকে নিট মুনাফা ২৫ কোটি টাকা আসবে বলে কোম্পানিটি আশা করছে।

গতকাল কনটেইনার জাহাজসংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন শাফিন ফিডার্সের সিইও এবং এডি পোর্টস গ্রুপের মেরিটাইম ক্লাস্টার ও শাফিন গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সিইও ক্যাপ্টেন আম্মার মুবারাক আল শাইবা এবং সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন।

সাইফ পাওয়ারটেক সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে আমদানি-রপ্তানিতে কনটেইনার পরিবহনের সময় ১৮ থেকে ২০ দিনে নেমে আসবে, যা বর্তমানে ৪৫ দিন প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশে সরাসরি কনটেইনার পরিবহন জাহাজ চালু হওয়ায় কনটেইনারপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ ডলার ব্যয় কমবে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে সাইফ পাওয়ারটেকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য-সুবিধা ও জাহাজীকরণসংক্রান্ত চুক্তি করে শাফিন ফিডার্স। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ১৫ বছরে আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে বাংলাদেশে ট্রেড ও কার্গো সেবা দেওয়ার জন্য সাইফ পাওয়ারটেক ও শাফিন ফিডার্স একসঙ্গে কাজ করবে। এই যৌথ ব্যবসার অংশ হিসেবে শাফিন ফিডার্স সাইফ পাওয়ারটেককে ৫৫ হাজার ডিডব্লিউটিসমৃদ্ধ (ডেডওয়েট টন) ৮টি সুপারম্যাক্স বাল্ক ক্যারিয়ার সরবরাহ করবে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে পণ্য পরিবহনে সাধারণ কার্গো ও ড্রাই বাল্ক কার্গো সরবরাহ করবে শাফিন ফিডার্স। এই কার্গোগুলো ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে পণ্য সরবরাহ সেবাও দিচ্ছে।

গত ১ মার্চ সাইফ পাওয়ারটেক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানায় যে তারা জাহাজ পরিচালনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাফিন ফিডার্স কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এ উদ্দেশ্যে সাইফ পাওয়ারটেক সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাইফ ইউনাইটেড শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং নামে একটি সহযোগী কোম্পানি চালু করে। প্রতিটি জাহাজ থেকে সাইফ পাওয়ারটেকের বছরে ১৫৪ কোটি টাকা আয় এবং ১৫ দশমিক ৪৮ কোটি টাকা মুনাফা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৫৮ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডেল করে দেশের একমাত্র টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক। কোম্পানিটি মোংলা ও পানগাঁও বন্দরেও কনটেইনার হ্যান্ডেল করে। সাইফ পাওয়ারটেক লজিস্টিক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং স্বয়ংচালিত বা গাড়ির ব্যাটারির সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি কোম্পানিটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, লজিস্টিকস ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অটোমোটিভ বা গাড়ির ব্যাটারির ব্যবসাও করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত