দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সদর দপ্তরে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী ইয়াদাতো আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানান তিনি।
ইয়াদাতো জানান, বাংলাদেশের এ প্রস্তাব নিয়ে তিনি তার দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। এডিবির বার্ষিক সভায় যোগ দিতে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল এখন ম্যানিলায় অবস্থান করছেন। সাধারণ সভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী ও ভুটানের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন।
মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানির প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেন মুস্তফা কামাল। সব খাতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মালয়েশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি লোক নিয়োগের জন্য মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন দিয়ে সহায়তা করার জন্য মালয়েশিয়ান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে মালয়েশিয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ চুক্তি হওয়ায় আমরা আনন্দিত। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হবে।’
চাহিদা অনুযায়ী যাতে মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আনতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। বিনিয়োগ বাড়াতে দেওয়া হয়েছে অবারিত সুবিধা। মালয়েশিয়া প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
এফডিআই আকর্ষণে নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের জন্য মালয়েশিয়া সরকারকে আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী ইয়াদাতো আবদুল্লাহ বলেন, ‘মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর মাধ্যমে আগামীতে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
মুক্তবাণিজ্য চুক্তি, আরও বেশি পরিমাণে এলএনজি আমদানি ও জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন। অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশকে ‘রাইজিং স্টার’ হিসেবে অভিহিত করেন ইয়াদাতো। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এ সম্পর্ক দিন দিন আরও বাড়বে।’
এফটিএ করার প্রস্তাব বর্তমানে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি আছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল মাত্র ৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। একই সময়ে বাংলাদেশ আমদানি করে ১৫৭ কোটি ডলার। বাংলাদেশ এ ঘাটতি কমাতে চায়। সে জন্য মালয়েশিয়ার সঙ্গে এফটিএ করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়াতে হলে আমাদের এফটিএ করতে হবে। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে তিনি মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। একই দিনে ভুটানের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন মুস্তফা কামাল। এ সময় দুই দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করেন তারা।
