বেশ কয়েক মাস ধরেই দেশের মূল্যস্ফীতির হার লাগামের বাইরে। আগস্ট মাসের খাদ্যে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে গিয়ে দাঁড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য মুদ্রানীতি সুষ্ঠুভাবে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে রেপো বা নীতি সুদহার আবারও বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ধার করতে হলে আগের চেয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি সুদ গুনতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওভারনাইট রেপো সুদহার আগের চেয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করে। এতে রেপো তথা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নেওয়া ধারের বিপরীতে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। রেপোর মাধ্যমে সাধারণত এক দিনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করা বা জমা রাখা হয়। তবে রিভার্স রেপো সুদহার বিদ্যমান বার্ষিক শতকরা ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে। এ নির্দেশনা আগামী ২ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে গত ২৭ জুন মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ৫৫তম সভায় রেপোর সুদহার আগের চেয়ে দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন রিভার্স রেপো সুদহার বিদ্যমান বার্ষিক শতকরা ৪ ভাগে অপরিবর্তিত থাকবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছিল।
ওই সময় বলা হয়েছিল, বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘœতা, চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের পণ্য (খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত) মূল্যের ঊর্ধ্বগতি পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ও বৈশ্বিক অর্থনীতির মুখ্য সূচকসমূহের পর্যালোচনার জন্য দেশের মুদ্রানীতি সুষ্ঠুভাবে প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত মনিটারি পলিসি কমিটি রেপো সুদহার পুনর্নির্ধারণ করেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব বলছে, জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশে দাঁড়ায়। জুনে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
