চিত্রনায়ক মামনুন হাসান ইমন। প্রেক্ষাগৃহে চলছে তার অভিনীত সিনেমা ‘বীরত্ব’। ছবিতে ডা. রাজুর চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি। এই তারকার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
ব্যস্ততা...
সম্প্রতি কয়েকটি ব্র্যান্ডের ওভিসির কাজ শেষ করেছি। এ ছাড়া মডেলিংও করছি। আপাতত ছবির কাজ করছি না। নতুন ছবি নিয়ে কথাবার্তা চলছে। সব ঠিক থাকলে শিগগির সুখবর দিতে পারব ভক্তদের।
‘বীরত্ব’র অভিজ্ঞতা...
আমরা যখন একটি ছবি করি তখনই কিছুটা বুঝতে পারি, ছবিটি কতদূর যাবে। এই ছবির গল্প নিয়ে যখন পরিচালক সাইফুল ইসলাম রানা আমার কাছে আসেন, তখনই আমি ছবিটি নিয়ে মুগ্ধ হই। কারণ এখন আমি এমন সব ছবি করতে চাই যাতে আমার চরিত্রটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, তেমনি যেন অভিনেতা হিসেবে আমাকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে। এই ছবির ডা. রাজু চরিত্রটি আমার কাছে চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে। তাই প্রস্তাবটি লুফে নিই। শ্যুটিংয়ের সময় আমরা দৌলতদিয়া নিষিদ্ধপল্লীসহ বেশ কিছু রিয়েল লোকেশনে শ্যুটিং করি। বেশ কষ্টসাধ্য শ্যুটিং ছিল। কিন্তু অভিনেতা আর চরিত্র যখন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, তখন আসলে কোনো কষ্টই আর কষ্ট মনে হয় না। জার্নিটা খুব উপভোগ্য হয়। এই ছবির ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।
প্রশংসা...
এখন দর্শক আমার ছবিটি পছন্দ করছে, স্পেশালি আমার অভিনয়ের প্রশংসা করছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু নেই। শুধু দর্শক নয়, আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির অনেক পরিচালক, শিল্পী-কলাকুশলী, এমনকি পোস্ট প্রোডাকশনের সময় ভারতের কলাকুশলীরাও আমার কাজের প্রশংসা করেন। এমন প্রশংসার পর মনে হয় আমি ঠিক পথেই আছি। অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছি। আত্মবিশ^াস ফিরে পেয়েছি যে, আমি এর চেয়ে আরও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রও ফুটিয়ে তুলতে পারব।
সাড়া ফেলার কারণ...
এই ছবিতে এমন কিছু চরিত্র আছে যা আসলে গণমানুষের কথা বলে। চরিত্রগুলোর সঙ্গে দর্শক নিজেদের দুঃখ-কষ্ট ও স্বপ্নের কথাগুলোর মিল পেয়েছেন। যেমন ডা. রাজুর আত্মত্যাগ, মানবসেবা, কিংবা নিষিদ্ধপল্লীর মেয়ে নিপুণের সংগ্রাম। এ ছাড়া ছবিতে কিছু সামাজিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। যেমন : নিষিদ্ধপল্লীর মেয়ে বলে কি তার মানুষের মতো সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার নেই? তার পরবর্তী প্রজন্মের কি অধিকার নেই সমাজে ভালো অবস্থানে যাওয়ার?
ওটিটি...
বড়পর্দার নায়ক বলে ছোটপর্দায় কাজ করব না, এ কথা কখনো ভাবিনি। যখন যেখানে ভালো গল্প ও চরিত্র পাই, সেখানেই কাজ করি। আর ওটিটিকে আমি ছোটপর্দা বলতে রাজি নই। ওটিটি হলো এখনকার ট্রেন্ড, যা আমাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যাচ্ছে। দুই বাংলার শিল্পী-কলাকুশলীদের একত্র করছে। তাই আমিও চাই ওটিটিতে কাজ করতে। তবে প্রস্তাব পেলেই রাজি হব না। দেখতে হবে গল্প কতটা ইউনিক, আমার চরিত্রে নতুনত্ব আছে কি না, কিংবা পরিচালক কে? সব মিলে যেকোনো সময় কাজ করতে প্রস্তুত।
