আগ্রাসী ক্রিকেটে দাপুটে জয়

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৩:২৩ এএম

‘হোম গ্রাউন্ড’ শব্দে যে ‘আপন আপন’ আবহ থাকে তার সব উপাদানই যেন আছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ও সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মধ্যে। এই মাঠেই নারী দলের ঘরোয়া ক্রিকেটের বেশিরভাগ খেলা হয়। জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পও হয় এখানেই। এই স্টেডিয়াম তাই জ্যোতি-সালমাদের জন্য অনেকটা ঘর-দুয়ারের মতো চেনা। এখানে খেলতে নামলে তাই আত্মবিশ্বাস বাড়তি থাকাই স্বাভাবিক। হয়েছেও তাই। এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে ৯ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

বড় জয়ে দেশের নতুন আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ডের শুরুটা হলো বাংলাদেশের। দেশের নবম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ড হিসেবেও অভিষেক হলো সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আউটার গ্রাউন্ডের। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে গত বছরই যাত্রা শুরু হয় এই মাঠের। সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ঢাকা বিভাগের সেই ম্যাচ ছিল লো স্কোরিংয়ের। একদিনে বোলাররা তুলে নিয়েছিলেন ২১ উইকেট।

জাতীয় ক্রিকেট লিগের উদ্বোধনী ম্যাচের সেই ধারাটা যেন গ্রাউন্ডের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেও ফের ফিরে এলো। আগে ব্যাট করতে নামা থাইল্যান্ড দল তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছার আগেই গুটিয়ে যায়। তবে বাংলাদেশি ব্যাটাররা খেলেছেন আগ্রাসী মেজাজেই। হোম ভেন্যুর সুবিধা পুরোটাই যেন আদায় করে নিয়েছেন টাইগ্রেসরা।

সকালের উইকেটে টাইগ্রেস স্পিনাররা মাথা তুলে দাঁড়াতেই দেননি থাই ব্যাটারদের। রুমানা আহমেদ ও সোহেলি আক্তারদের ঘূর্ণিতে কাবু হন তারা। সঙ্গে সানজিদা মেঘলা, নাহিদা আক্তার ও সালমা খাতুন কাউকেই পরাস্ত করতে পারেননি পানিতা মায়ারা। যদিও পেস বলে ভালোই জবাব দিয়েছে থাইল্যান্ড। তবুও মাত্র ৮২ রানে থামতে হয় তাদের।

মামুলি ৮৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন শামীমা সুলতানা। তাকে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন আরেক ওপেনার ফারজানা হক। উদ্বোধনী জুটিতেই জয়ের দ্বার প্রায় উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। পাওয়ার প্লেতে শামীমা ব্যাটিংতা-বে স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ৫২ রান। ৮ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে আসে ৬৯ রান। যার ৪৯ রানই আসে শামীমার ব্যাট থেকে।

স্কোর বোর্ডে চাপ না থাকলেও শামীমার এমন আগ্রাসী ব্যাটিং পরিকল্পনারই অংশ জানালেন অধিনায়ক জ্যোতি, ‘কারণ টুর্নামেন্টে আমাদের আরও অনেকগুলো খেলা আছে। তাই মাঠের ব্যাটিং প্রস্তুতিটা আমাদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে। টার্গেট কত, সেদিকে তাকাইনি। আগে ব্যাট করলেও তাই করতাম আমরা। ব্যাটিংয়ের ধরই ছিল আসলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।’ কদিন আগে আবুধাবিতে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে ১১৩ রান করে কোনো রকমে ১১ রানের জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু থাইল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে দাপুটে জয় চাই। এবার সেটাই হলো বলে খুশি নিগার সুলতান জ্যোতি।

পরবর্তী ম্যাচ পাকিস্তানের সঙ্গে। সেই ম্যাচে ভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘পাকিস্তান আর থাইল্যান্ডের শক্তির জায়গা আলাদা। থাইল্যান্ডের সঙ্গে যে পরিকল্পনা নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছিলাম, পাকিস্তানের সঙ্গে অন্যভাবে ম্যাচের স্ট্র্যাটেজি সাজাতে হবে।’ মার্চে বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টির শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ২৩৪ রান করে ৯ রানে হারিয়েছিলেন জ্যোতিরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত