সেপ্টেম্বরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৬৯

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০২:০০ এএম

সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে সারা দেশে ১৮২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৬৯ জন মারা গেছেন, যা মাসটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ৩৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪০৭টি। এসব দুর্ঘটনায় ৪৭৬ জন নিহত এবং ৭৯৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে নয়টি নৌ দুর্ঘটনায় ৭৮ জন নিহত এবং ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। আর রেলপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। গতকাল সোমবার প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি আকারে পাঠানো হয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে সড়ক দুর্ঘটনায় গত আগস্ট মাসে ৫১৯ জন নিহত হয়েছিলেন। গড়ে প্রতিদিন নিহত হয়েছিলেন ১৬ দশমিক ৭৪ জন। সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিন নিহত হয়েছেন ১৫ দশমিক ৮৬ জন। এই হিসাবে সেপ্টেম্বর মাসে প্রাণহানি কমেছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে দেশে ৪০৭টি সড়–ক দুর্ঘটনার মধ্যে ১৮২টি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা; যা মোট দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। মাসটিতে দুর্ঘটনায় ১০৩ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৩ জন, অর্থাৎ ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে জাতীয় মহাসড়কে ১৩৪টি, আঞ্চলিক সড়কে ১৫৮টি, ৭৩টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৬টি শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৬টি দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন হিসেবে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহের ৬৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৮৭টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১০৫টি পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ৪১টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৮টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সকালে ২৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ, দুপুরে ২১ দশমিক ৬২ শতাংশ, বিকেলে ১৭ দশমিক ১৯ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং রাতে ২৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে প্রাণহানি কিছুটা কম হলেও তা কোনো টেকসই উন্নতির সূচক নির্দেশ করছে না।

তিনি বলেন, মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ড্রাইভারদের বেপরোয়া গতিতে পণ্যবাহী যানবাহন চালানো এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণে তারা নিজেরা দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছেন এবং অন্যান্য যানবাহনকে আক্রান্ত করছেন। গণপরিবহন সহজ, সাশ্রয়ী ও উন্নত করে, যানজট কমিয়ে মোটরসাইকেল নিরুৎসাহিত করা অতীব জরুরি।

তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের মধ্যে কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে সড়ক পরিবহন খাতের নৈরাজ্য ও অব্যস্থাপনার কারণে। এই অবস্থার উন্নয়নে টেকসই সড়ক পরিবহন কৌশল প্রণয়ন করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত