তমব্রু সীমান্তে ফের মর্টার শেল আতঙ্কে স্থানীয়রা

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০২:৪৮ এএম

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম ও তমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বর্ডার পুলিশ ক্যাম্প থেকে পরপর তিনটি মর্টার শেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে গতকাল সোমবার। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের ওই সীমান্তে টানা কয়েক দিন গোলাগুলির ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ে স্থানীয়দের। মর্টার শেল ও মাইন বিস্ফোরণে ঘটে হতাহতের ঘটনাও। তবে কিছুদিন ধরে সীমান্তের ওপারে কিছুটা পরিস্থিতি শান্ত ছিল। কিন্তু গতকাল থেকে ফের মর্টার শেল ও গোলাগুলির শব্দে আতঙ্ক বেড়েছে। বিশেষ করে ওই এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজার কারণে আছেন বেশি আতঙ্কে।

স্থানীয়রা জানান, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তমব্রু সীমান্তের ওপারে বিজিপি ক্যাম্প থেকে পরপর তিনটি মর্টার শেল বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। তমব্রু এলাকার বাসিন্দা মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘হঠাৎ করে আজ (গতকাল) পরপর তিনটি মর্টার শেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। নতুন করে আবারও শুরু হয়েছে।’

এ ব্যাপারে ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘আমি বান্দরবান থেকে রওনা দিচ্ছি। বিস্তারিত এলাকায় গিয়ে বলতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিজিবির পক্ষ থেকে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।’

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু কোনারপাড়া এলাকায় ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। আশ্রয় শিবির ঘেঁষে মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়া ও রাখাইন রাজ্যের একাধিক পাহাড় রয়েছে। পাহাড়ের ওপর বিজিপির একাধিক তল্লাশি চৌকি রয়েছে। এসব চৌকির পাশাপাশি বাংকার খনন করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা নেতা দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যাতে মিয়ানমারে ফিরতে না পারে সে জন্য সীমান্ত জুড়ে বিজিপি স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। এসব মাইনে গত পাঁচ বছরে ছয়জন রোহিঙ্গা মারা গেছে। শূন্য রেখার রোহিঙ্গারা সবসময় আতঙ্কে থাকে।’

গত ১৩ আগস্ট থেকে তমব্রু সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি পাহাড়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্রগোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘাত চলছে। সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট এবং ৩ সেপ্টেম্বর দুই দফায় চারটি মর্টার শেল তমব্রু উত্তরপাড়া ও বাইশফাঁড়ি এলাকায় এসে পড়ে। এ ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত উ অং কিয়াউ মোকে তলব করে প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত