বর্ষা শেষে অসময়ে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও টঙ্গীবাড়িতে রুদ্রমূর্তি রূপ নিয়েছে প্রমত্তা পদ্মা। লৌহজং উপজেলার বড় নওপাড়া ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বানারী গ্রামে চলছে ভাঙন নৃত্য।
ভাঙনের তর্জন গর্জনে অনেকেই বসতঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। ভাঙন ঠেকাতে বড় নওপাড়া ও বানারী গ্রামে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলতে শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে ভাঙনের তীব্রতা কমলে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, জেলার লৌহজং উপজেলার লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের বড় নওপাড়া গ্রামে পদ্মার ভাঙনের তর্জন গর্জনে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী মানুষ। রাত বাড়লেই ভাঙনের ভয়ে আঁতকে উঠছেন তারা। গেল শনিবার রাতে এ গ্রামঘেঁষে ভাঙন দেখা দেয়। আজ বুধবার পর্যন্ত কয়েক দিনের ভাঙনে তীরবর্তী অন্তত ১৫টি বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে।
গভীর রাতে কিছু বুঝে উঠার আগেই গ্রামের খোকন মোল্লার চোখের সামনে তার বসতঘর গিলে খেয়েছে রাক্ষসী পদ্মা।
তার মতোই মিঠু মোল্লা, কুতুব মোল্লা, ইয়ানুছ মোল্লা, হোসেন মোল্লা, মামুন মোল্লা, মুকুল মোল্লা, মো. ফারুক ও হাদি মোল্লার বসতঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।
খোকন মোল্লা বলেন, সর্বনাশা নদী আমাগো ঠিকানা হারা কইর্যা গেল। বুঝতেই পারিনি চোখের সামনে এভাবে গিলে খাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই। লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কমবেশী ভাঙন চলে আসছিল। তবে শনিবার দিবাগত রাতে ভাঙন ভয়াবহ আকারে রূপ নেয়। ভাঙন ঠেকাতে ইতিমধ্যে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু হয়েছে রবিবার থেকে। এ পর্যন্ত ১২০টি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।
ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, এ সময়টাতে প্রবল স্রোত থাকে নদীতে। একই সঙ্গে অতিবর্ষণ ও ঢেউয়ের তোড়ে ভাঙন বেড়েছে। ভাঙনরোধে আমাদের সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, গেল সোমবার দিবাগত রাতে জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বানারী গ্রামের দক্ষিণ চরের প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন দেখা দেয়।

বিলীন হয়ে গেছে নদী তীরবর্তী ফসলি জমি। ভাঙন আতঙ্কে ১০-১২ টি পরিবার বসতঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।
ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে হাসাইল-বানারী ইউনিয়নের দাতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাসাইল কেরামতিয়া মাদ্রাসা। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুঁটি হুমকিতে পড়েছে।
বানারী গ্রামের মন্টু বেপারী জানান, গভীর রাতে আকস্মিক ভাঙন দেখা দেয়। তার বসতভিটের ৩০ ফুট চোখের সামনেই পদ্মা গর্ভে চলে যায়। তার বাড়ির সামনের অংশে থাকা বেশ কিছু পরিমাণ ফসলি জমিও বিলীন হয়েছে।
গ্রামের বিদ্যুৎ বেপারী বলেন, পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেই এ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
বালু খেকো সিন্ডিকেট বর্ষা জুড়ে রাতের আঁধারে গ্রামঘেঁষে বালু উত্তোলন করেছে। এতে গ্রামঘেঁষে পদ্মার গভীরতা বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে তীব্র স্রোতের কবলে বানারী গ্রামে আকস্মিক এ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, লৌহজংয়ে পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে কয়েক দিন আগেই। আমাদের কাছে তথ্য আছে সেখানে ৬০ মিটার জুড়ে ভাঙন চলছে। ভাঙনরোধে সেখানে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার বরাদ্দ রয়েছে। ইতিমধ্যে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
এ ছাড়া টঙ্গীবাড়িতে ৫৫ মিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। টঙ্গীবাড়ির বানারী গ্রামেও ভাঙনরোধে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হবে। বুধবার সকাল থেকেই বানারী গ্রামে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে।
