সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে সন্ত্রাসীদের পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর নিহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। ওই ঘটনায় আহত অপর শান্তিরক্ষীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি সেন্ট্রাল আফ্রিকান কর্র্তৃপক্ষকে অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বুধবার জাতিসংঘ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শোক বার্তায় মহাসচিব নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিবারের প্রতি এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। আহত অপর শান্তিরক্ষীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
শোক বার্তায় গুতেরেস বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুদ্ধাপরাধের শামিল। তিনি সেন্ট্রাল আফ্রিকান কর্র্তৃপক্ষকে অপরাধীদের শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা যায়।
জাতিসংঘ মহাসচিব মধ্য আফ্রিকান কর্র্তৃপক্ষকে রাতের ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা নেতিবাচকভাবে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা এবং নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে। একই সঙ্গে তিনি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের জনগণ এবং সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ সময় ৪ অক্টোবর রাত ১টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের একটি গাড়ি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণের শিকার হয়। এ সময় সৈনিক জসিম উদ্দিন, সৈনিক জাহাংগীর আলম ও সৈনিক শরিফ হোসেন নিহত হন। এ ঘটনায় টহল কমান্ডার মেজর আশরাফুল হকও আহত হন। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল।
গতকাল আইএসপিআর জানায়, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে নিয়োজিত অন্যান্য শান্তিরক্ষীরা নিরাপদে আছেন। শাহাদাত বরণকারী সেনাসদস্যদের মৃতদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আফ্রিকার আটটি দেশে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করছেন। তারা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা অক্ষুণœ রেখে চলেছেন। জাতিসংঘে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
