থাইল্যান্ডে গুলিতে রক্তাক্ত ডে কেয়ার নিহত ৩৭

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৪:৪৫ এএম

থাইল্যান্ডে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নং বুয়া লাম্পু লাম্পু প্রদেশে শিশুদের একটি দিবাযতœ কেন্দ্রে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে ৩৭ জনকে হত্যার পর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছে। তবে তার আগে গুলি চালিয়ে সে নিজের স্ত্রী ও সন্তানকেও হত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় পুলিশ বলছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ডে-কেয়ারে হামলার পর হামলাকারী নিজের এবং তার পরিবারের সদস্যদের ওপর গুলি চালায়। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। হামলাকারী সাবেক ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম পান্যা কামরাব। তার বয়স ৩৪ বছর। হামলার পরপর তাকে সাদা একটি পিকআপ ট্রাক নিয়ে পালাতে দেখা যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

দিবাযতœ কেন্দ্রে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার চালানো গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহতদের মধ্যে ২৪ জন শিশু এবং একজন অন্তঃসত্ত্বাও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। কী কারণে সে এ হামলা চালিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে সম্প্রতি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা কর্মকর্তা জিদাপা বুনসম বলেছেন, মাদকসংক্রান্ত একটি ঘটনার কারণে হামলাকারী ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে কিছুদিন আগে চাকরিচ্যুত করা হয়। দুপুরের খাবারের সময় বন্দুকধারী যখন ডে-কেয়ার সেন্টারটিতে পৌঁছায়, তখন সেখানে প্রায় ৩০ জন শিশু ছিল।

তিনি বলেছেন, হামলাকারী পুলিশ কর্মকর্তা প্রথমে ডে-কেয়ার সেন্টারটির চার-পাঁচজন কর্মীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। তাদের মধ্যে একজন নারী শিক্ষক আছেন; যিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। জিদাপা বুনসুম বলেন, প্রথমে লোকজন আতশবাজির শব্দ ভেবেছিল।

দেশটির সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, দিবাযত্ন কেন্দ্রে হামলার পর দেশটির সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা এবং কর্র্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান ওচা।

থাইল্যান্ডের ওই অঞ্চলে দেশটির অন্যান্য এলাকার তুলনায় বন্দুকের মালিকানার হার বেশি। কিন্তু সরকারি পরিসংখ্যানে বিপুলসংখ্যক অবৈধ অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

থাইল্যান্ডে এ ধরনের ঘটনা খুবই কম। তবে ২০২০ সালে একজন সৈনিক অন্তত চারটি স্থানে তাণ্ডবে চালায়। এতে কমপক্ষে ২৯ জন নিহত এবং ৫৭ জন আহত হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত