দেশের জনগণ র‌্যাবকে খুব পছন্দ করে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৪:৫০ এএম

দেশের জনগণ র‌্যাবকে খুব পছন্দ করে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দেশের জনগণ, ওয়ান টু অল, র‌্যাংক অ্যান্ড ফাইল, র‌্যাবকে খুব পছন্দ করে। তারা বিশ্বাস করে র‌্যাব মানুষের নিরাপত্তা দেয়। তারা বিশ্বাস করে র‌্যাব দুর্নীতি করে না। তারা বিশ্বাস করে র‌্যাবের কাছে গেলে তারা বিচার পাবে।’

যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ভয়েস অব আমেরিকা বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. মোমেন এসব কথা বলেন। গত বুধবার এ সাক্ষাৎকার সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়েছে। সাক্ষাৎকারে র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘র‌্যাবের কারণে দেশে সন্ত্রাসী তৎপরতাটা মোটামুটি বন্ধ। লাস্ট সন্ত্রাসী তৎপরতা হয় হলি আর্টিজানে (২০১৬ সালে)। এরপর আর হয়নি। সুতরাং যারা এই সন্ত্রাসকে পছন্দ করে, তারা খুব হতাহত, তারা খুব দুঃখিত। তাই তারা র‌্যাবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম ইস্যু তৈরি করে, বানোয়াট জিনিস তৈরি করে। যদি কোথাও র‌্যাবের অপরাধ হয়, অবশ্যই তার বিচার হবে। স্বচ্ছতা-জবাবদিহি আমরা চাই। এতে কোনো ব্যত্যয় নেই। কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটলে সেটার বিরুদ্ধে একটা আইনি প্রক্রিয়া আছে।

র‌্যাবে অনিয়ম হলে শাস্তি হয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘র‌্যাবের অনেক লোক চাকরিচ্যুত হয়েছে কিংবা ডিমোশন (পদাবনতি) হয়েছে। এমনকি কয়েকজনের ফাঁসিরও আদেশ হয়েছে, কারণ তারা হাইলি ইরোরগুলার (মারাত্মক অনিয়ম) কাজ করেছে। এখানে জবাবদিহির একটা নিয়ম আছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক উল্লেখ করে মোমেন বলেন, আমাদের সম্পর্ক এক দিনের নয়, আজ ৫০ বছরের সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী দেশ। সিঙ্গেল কান্ট্রি (একক দেশ) হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার (বাণিজ্যিক অংশীদার)। বিভিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক। তাহলে একটি দুর্ঘটনা (র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা), সেটা নিয়ে আমাদের সম্পর্ক বিচার বিশ্লেষণ করা ঠিক হবে না।

আসিয়ানের ডায়ালগ পার্টনার হতে থাইল্যান্ডের সমর্থন চাইলেন মোমেন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে থাইল্যান্ডের সমর্থন চেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ সমর্থন চান। রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ডের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোমেন বলেন, একটি টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে অভিন্ন এজেন্ডা ভাগাভাগি করে নিতে চায় বাংলাদেশ, যেখানে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করবে। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগ জোরদার করতে চায়। সে কারণে আমরা বিশেষত এ বছরের মধ্যে আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে থাইল্যান্ডের সমর্থন চাই।

ড. মোমেন বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ গত পাঁচ বছর ধরে ১.২ মিলিয়ন মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যারা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছিল। এত বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার ভারী বোঝা বাংলাদেশের জন্য চরম অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। আমরা থাইল্যান্ডসহ আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা চাই, যাতে মিয়ানমার তার নাগরিকদের স্বদেশে দ্রুত ফিরিয়ে নেয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার থাইল্যান্ডে উচ্চপর্যায়ের সফর এবং প্রিন্সেস মহাচক্রী সিরিনধোমের সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। আমরা আগামী দিনে এ ধরনের আরও উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গতি বজায় রাখতে চাই। আমাদের দুই দেশের শক্তিশালী অর্থনীতির পারস্পরিক সুবিধার লক্ষ্যে অব্যবহৃত সম্ভাবনাগুলোকেও কাজে লাগাতে চাই।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মাকাওয়াদি সুমিতমোর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত