দেনা শোধ করতে এক বছর সময় চায় ইভ্যালি

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৫:১৮ এএম

গ্রাহকের দেনা শোধ করতে এক বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সহ-প্রতিষ্ঠাতা শামীমা নাসরিন। তিনি বলেছেন, এক বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যবসা করতে পারলে প্রথম বিনিয়োগ থেকে সব দেনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

শামীমা বলেন, ইভ্যালির দেনা পরিশোধ করতে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিনিয়োগ। একটি যথাযথ পরিমাণে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। মূলত আমাদের লক্ষ্য ছিল ইভ্যালিকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পর আমরা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নেব।

তার দাবি, ইভ্যালি মাল্টি বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ তোলার সক্ষমতা রাখে। বর্তমানে ইভ্যালিতে বিনিয়োগ পেতে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিজনেস করে এটাকে একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উপস্থাপন করা।

আইনি বাধ্যবাধকতা প্রসঙ্গে শামীমা বলেন, ‘আমাদের কর্ম পরিচালনায় হাইকোর্ট থেকে নিয়োজিত দুজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর রয়েছেন। যেকোনো শর্তে প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলের জামিন প্রার্থনা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলা মূলত গ্রাহকের পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হওয়ার অভিযোগ এবং চেক ডিজঅনার সম্পর্কিত। আমাদের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের যত মামলা হয়েছে, সেগুলো খুবই সামান্য। সর্বমোট প্রায় ২০ কোটি টাকা পাওনার মামলা হয়েছে। মো. রাসেল যেসব মামলায় আটক রয়েছেন, সেগুলো সর্বমোট দেড় কোটি টাকার মামলা।

মোট আটটি মামলায় মো. রাসেল আটক রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, চেকের কিছু মামলা যেগুলো জামিনযোগ্য, সেগুলোর জামিন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এরকম মামলার সংখ্যা ১৫টি।

ইভ্যালির ৪৫ লাখ ক্রেতা ও ৩০ হাজার বিক্রেতা দৈনন্দিন প্রয়োজনে নিয়মিত কেনাকাটা করলে সহজেই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসা সম্ভব বলে মনে করেন ইভ্যালির সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, আগে ইভ্যালিতে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আমাদের সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ তৈরি হলে খুব সহজেই বিনিয়োগ আসা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক নীতিমালার ত্রুটিগুলো আমরা স্বীকার করে দেনা-পাওনা এবং সব পেন্ডিং অর্ডার ডেলিভারির জন্য ছয় মাস সময় চেয়েছিলাম। তবে সেই সময় পাওয়ার আগেই পাওনা পরিশোধ বিলম্ব হওয়ার অভিযোগ এবং চেক ডিজঅনার সম্পর্কিত মামলায় আমরা গ্রেপ্তার হই।

ইভ্যালির সহ-প্রতিষ্ঠাতা বলেন, আমাদের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্রেপ্তার হওয়ার পরও প্রচ- মানসিক কষ্টকে নিয়ন্ত্রণ করে জামিন চাওয়ার আগে কোম্পানি পরিচালনা করার অনুমতি প্রার্থনা করেছেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির দায়িত্ব ছেড়ে দেন আদালতের নির্দেশে গঠন করা সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের পরিচালনা বোর্ড। এরপর প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ইভ্যালির দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বেই নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন হচ্ছে এবং ইভ্যালি পুনর্গঠনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তারও আগে গত ১০ আগস্ট ইভ্যালি পুনরায় চালু করতে আদালতের মাধ্যমে গঠিত বোর্ডের কাছে আবেদন করেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। আবেদনে তিনি নিজেকে এবং তার মা ও বোনের স্বামীকে পরিচালনা বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছেন। শামীমা নাসরিনের পক্ষে অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম এ আবেদন করেন।

২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে ইভ্যালি। তবে পণ্য ডেলিভারিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাহাড়সম অভিযোগ জমা হয় তাদের বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইভ্যালির ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধানে নামে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আরিফ বাকের নামে এক গ্রাহকের মামলার ভিত্তিতে গুলশান থেকে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান পদে থাকা তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শামীমা নাসরিন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তবে জামিন পাননি তার স্বামী রাসেল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত