প্রশংসা কুড়াচ্ছে মমর ১০ রূপ

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২২, ০৩:৫৬ এএম

প্রথম চলচ্চিত্রেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম এখন নাম প্রকাশ না হওয়া একটি সিনেমার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী ১০ অক্টোবর থেকেই ছবিটির শুটিং শুরু করবেন। এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার আগ্রহ নেই তার। তবে তিনি উচ্ছ্বসিত তার সাম্প্রতিক একটি কাজের দর্শক প্রতিক্রিয়ায়। নাটক, সিনেমা আর ওটিটিতে মমকে নানা চরিত্রে নানারূপে দেখে থাকেন দর্শক। তবে এবার তাকে একসঙ্গে দেখা যাবে ১০ রূপে! দুর্গাপূজা উপলক্ষে মম একটি ফটোশুটে সেজেছেন ১০ রূপে। প্রোফাইল ট্যালেন্টের উদ্যোগে এই বিশেষ ফটোশুটটি অন্তর্জালে উন্মুক্ত করেছে। যেখানে মম হাজির হয়েছেন ১০ রকমের নারী চরিত্রে। যার ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে আছেন ইয়াছির আল হক, স্টাইলিংয়ে রুবামা ফাইরুজ এবং ফটোগ্রাফিতে ছিলেন ভাস্কর স্যাম। কাজটি নিয়ে মম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সত্যি আমি দারুণ সাড়া পাচ্ছি। ভালো ভালো অনেক মন্তব্য পাচ্ছি। কাজটিতে ভিন্নতা ছিল। এ ধরনের কাজ একা করা যায় না। যদি কেউ উদ্যোগ নেয় তাহলে সেটি ফলপ্রসূ হয়।’

ছবিগুলোতে মমকে দেখা যাচ্ছে একজন করপোরেট লেডি, নৃত্যশিল্পী, বক্সার, ডাক্তার, রকস্টার, চুড়িওয়ালি, বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষার্থী, নিম্ন মধ্যবিত্ত গৃহিণী, হিজাব পরিহিত আটপৌরে নারী ও সনাতন ধর্মের এক গৃহবধূর বেশে। মম বলেন, ‘আমরা ফিকশনের জন্য নানা ধরনের চরিত্রে কাজ করি। কিন্তু পরপর ১০টি আলাদা চরিত্রে নিজেকে প্রকাশ করার এক ধরনের মজা ছিল। একজন অভিনেত্রী কী কী ধরনের চরিত্রে সাধারণত কাজ করতে পারে তার একটি ধারণা এটি। দর্শক কিছুটা ভিন্নতা পেয়েছেন। তাই কাজটি তারা গ্রহণ করেছেন। আমরা চেয়েছি সোশ্যাল হ্যান্ডেলের মানুষগুলো যেন নারীর প্রতি আরও পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গিতে তাকায়। সুযোগ ও সাহস পেলে নারীরাও যে জয় করতে পারে পৃথিবী তারই ছোট্ট প্রতিচ্ছবি এটি।’

সর্বশেষ হইচইতে মুক্তি পেয়েছে মম অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘রিফিউজি’। টিভি নাটকের ব্যস্ততা ছিল ঈদুল আজহায়। এরপর আর কাজ করেননি এই অভিনেত্রী। এই সময়টায় কী নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিনয় আসলে চর্চার বিষয়। ক্যামেরার সামনে না থাকলেও ব্যক্তিগত পরিসরে চর্চার প্রয়োজন পড়ে। নিজেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপডেট রাখতে হয়। বিশ্ব সিনেমা, অভিনয় চলতি প্যাটার্ন নানা বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে হয়। এজন্য কিন্তু প্রচুর সময় দিতে হয়। আমি যেহেতু নাট্যকলার ওপরেই পড়াশোনা করেছি, তাই নিজের মতো করেই সেই চর্চাগুলো করি। আর ব্যস্ত থাকার জন্যই যেকোনো ধরনের কাজও করার পক্ষপাতি নই। তাই সময় নিয়ে কাজ বাছাই করেছি। আগামী ১০ তারিখ থেকে সাইফুল ইসলাম মান্নুর একটি সিনেমার কাজ ধরছি। এরপর কিছু নাটক ও ওয়েবের কাজও পরপর করব। এসবের ফাঁকে আবার কিছুদিন নিজের জন্য রাখাটাও জরুরি বলে মনে করি।’

পড়াশোনা শেষ করার পর মমকে আর মঞ্চ নাটকে দেখা যায়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শোবিজের অভিনয়শিল্পীর জন্য গ্রুপ থিয়েটার চর্চা করা কঠিন। তবে রেপার্টরি থিয়েটারে যদি দারুণ কোনো সুযোগ আসে এবং আমি সময় বের করতে পারি, তবে মঞ্চ করতে চাই। কারণ মঞ্চের অভিনয় ও চর্চাটা একেবারেই আলাদা।’ গল্প ও চরিত্র বাছাই নিয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে সব সময় চোখে দেখা চরিত্রের বাইরে কিছু করতে হবে, তথাকথিত নতুনত্ব থাকতে হবে, চ্যালেঞ্জিং হতে হবে এসবে আমি বিশ্বাসী না। আমার আশপাশের একটি চরিত্রও দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নেওয়া যায়। সহজ সরল একটি গল্পকেও দারুণভাবে উপস্থাপনার মাধ্যমে হৃদয়গ্রাহী করা যায়। দর্শকপ্রিয়তার আলাদা ভ্যালু আছে। কিন্তু কতসংখ্যক দর্শক তা পছন্দ করবে সেটিও শিল্পের ক্ষেত্রে মুখ্য নয়। অনেক উঁচু মানের কাজ আছে যেটি হয়ত খুব কম মানুষের ভালো লেগেছে। ফলে আমার যে কাজটি করার জন্য মন থেকে সায় দেয়, সেটিই করি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত