খেলা ততক্ষণে ৪১ তম মিনিটে গড়িয়েছে। দুর্দান্ত গতিতে গোলমুখে ছুটে চলা রাঁসের লপি। তাকে ট্যাকল করে নিজেদের রক্ষণে ফেলে দেন সার্জিও রামোস। ক্যারিয়ারের ২৮তম লাল কার্ড দেখার দিনে লিগ ওয়ানে মৌসুমের দ্বিতীয় হোঁচট খাওয়ালেন পিএসজিকে। তাতে মেসিহীন ম্যাচে গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইকে।
রেফারি প্রথমবার হলুদ কার্ড দেখালেও মানতে পারেননি স্প্যানিশ সেন্টার-ব্যাক। রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানাতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি। তাতে রাঁসের মাঠে ম্যাচের অধিকাংশ সময় দশজন নিয়ে খেলা পিএসজি কুলিয়ে উঠতে পারেনি স্বাগতিকদের বিপক্ষে। বরং রাঁসের আক্রমণ সামাল দিয়ে ড্র আদায় করতেই ঘাম ছুটে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। টানা পাঁচ জয়ের পর ফের পয়েন্ট হারাল তারা এবং সব মিলিয়ে লিগে এটি তাদের দ্বিতীয় ড্র।
শুরুতে পিএসজির রক্ষণে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল রাঁস। দশম মিনিটেই মার্কুইনোসকে পরাস্ত করে পেনাল্টি স্পটের দিকে পাস দিয়েছিলন জেনেলি। ডাইভ দিয়ে গোলমুখে বল পাঠিয়েছিলেন ফ্লিপস। কিন্তু সেখানে থাকা দানিলো তার প্রচেষ্টা ভণ্ডুল করে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে পিএসজি। কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না। ৫৭তম মিনিটে তাই কার্লোস সোলেরকে তুলে নিয়ে নেইমারকে নামান গালতিয়ের। ৬৭তম মিনিটে অবিশ্বাস্য শট নিয়ে হতাশ করেন নেইমার। মাঝমাঠে রাঁস বল হারালে পেয়ে যান এমবাপে। তার থ্রু পাস ধরে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বাইরে মারেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এমন সুযোগ হারিয়ে হতাশা ফুটে ওঠে নেইমারের অভিব্যক্তিতে।
শেষ দিকে একটি ফাউলের ঘটনা কেন্দ্র করে দুই পক্ষ ধাক্কাধাক্কিতে জড়ায়। নেইমারের ফ্রি কিক হেডে ক্লিয়ার করেন এক ডিফেন্ডার। এরপরই পাল্টা আক্রমণে ওঠা রাঁসের খেলোয়াড়কে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন নেইমার। এই ঘটনায় ফের শুরু হয় হাতাহাতি। গোলহীন ম্যাচের শেষটা ছিল এমনই উত্তাপ ছড়ানো।
এই নিয়ে টানা দুই ম্যাচে ড্র করল পিএসজি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবশেষ ম্যাচে তারা ১-১ গোলে বেনফিকার বিপক্ষে ড্র করে। লিগে দ্বিতীয় ড্র করা পিএসজি ১০ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে শীর্ষে আছে। ৩ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে মার্সেই। ৮ পয়েন্ট নিয়ে ১৪ নম্বরে রেইমস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মঙ্গলবার বেনফিকার মুখোমুখি হবে পিএসজি।
