ইরানে কঠিন চ্যালেঞ্জে কট্টরপন্থিরা

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২২, ১১:০৯ পিএম

কুর্দি তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মোকাবিলায় কট্টর ইরান সরকার নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে ব্যাপক দমনপীড়ন চালাচ্ছে। তবে এসব উপেক্ষা করেই চার সপ্তাহ বা প্রায় এক মাস ধরে চলা এ বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে কট্টরপন্থাবিরোধী আন্দোলনে। চলমান এ আন্দোলনে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পতনের দাবিও তুলছে তরুণরা। যুবকদের ওপর নিপীড়নের প্রতিবাদে গতকাল সোমবার ইরানের বুশেহরের কয়েকজন তেলশ্রমিক কর্মবিরতি পালন করেছেন বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নাগরিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও দমনপীড়নের অভিযোগে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কানাডা ইতিমধ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সোমবার জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যানালেনা বেয়ারবক জানিয়েছেন, ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

বেয়ারবক বলেন, ‘যারা রাস্তায় প্রতিবাদরত মেয়েদের মারছেন, অপহরণ করছেন, তারা ইতিহাসের ভুল দিকে আছেন। তারা মেয়েদের স্বাধীনভাবে বাঁচতে দিতে চান না।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যারা এ কাজ করছেন তারা যাতে আর ইইউয়ে ঢুকতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা করব।’

এদিকে রাজপথের পাশাপাশি অভিনব কায়দায় কট্টরপন্থা আন্দোলন চলছে। ইরানি হ্যাকাররা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকেও ছাড় দিচ্ছে না। গত শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে সরকারি টেলিভিশনে সরাসরি সংবাদ সম্প্রচারের সময় হঠাৎ করেই টেলিভিশনের পর্দায় একটি মুখোশের ছবি ভেসে ওঠে। তারপরই টিভি পর্দায় খামেনির একটি ছবি দেখা যায়, যেটির নিচে আগুন জ্বলছে। নিচের দিকে মাশা আমিনি এবং বিক্ষোভে নিহত আরও তিন নারীর ছবি।

এ ছাড়া শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিও তেহরানের আল-জাহরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রীদের নেতিবাচক সেøাগানের মুখে পড়েন। সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ‘দূর হও রাইসি’, ‘দূর হও মোল্লারা’ বলে সেøাগান দিচ্ছেন নারী শিক্ষার্থীরা। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া ভাষণেই রাইসি পুলিশ হেফাজতে মাশা আমিনির মৃত্যুতে প্রতিবাদকারীদের নিন্দা করেন। আন্দোলনকারীদের ‘দাঙ্গাকারী’ আখ্যায়িত করে তাদের মাছির সঙ্গে তুলনা করেন।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, কুর্দিস্তান প্রদেশে নিহত মাশার নিজ শহর সাকেজে স্কুলছাত্রীরা সেøাগান দিচ্ছে, ‘নারী, জীবন, মুক্তি’ এবং মাথার ওপর হিজাব উড়িয়ে রাজপথে মিছিল করছে।

বিক্ষোভকারীদের সমবেত হতে না দেওয়া এবং দমনপীড়নের ছবি প্রকাশ ঠেকাতে ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করা হয়েছিল। তবে বিক্ষোভকারীরা বিকল্প কৌশলে সবার কাছে বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। মধ্যাঞ্চলীয় তেহরানের মডারেস মহাসড়কে একটি বড় ব্যানার টানানো হয়েছে। এতে লেখা রয়েছে, ‘আমরা আর ভয় পাই না। আমরা লড়াই করব।’

নরওয়েভিত্তিক কুর্দি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, সাকেজ, সানন্দাজ ও দিভানদারেহ শহর ও পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের মাহাবাদেও ব্যাপক ধর্মঘট চলছে। লন্ডনভিত্তিক ইরান ওয়ার নিউজ ওয়েবসাইট বলেছে, ইসফাহান ও তাবরিজে বিক্ষোভে যোগ দিতে শিক্ষার্থী ক্লাসে হাজির হচ্ছে না।

এদিকে বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। গত শনিবার নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভে অন্তত ১৮৫ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ১৯ শিশুও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভকারী মারা গেছে সিস্তান-বালুচেস্তান প্রদেশে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত