তিস্তায় চীনা বিনিয়োগে আপত্তি নেই ঢাকার

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২২, ০২:২৪ এএম

তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই করতে (ভারতের সঙ্গে) এক যুগ ধরে দেনদরবার চলছে উল্লেখ করে সেখানে গৃহীত প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগে বাংলাদেশের আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতের তিস্তা অববাহিকা অঞ্চল পরিদর্শন এবং সেখানে প্রস্তাবিত প্রকল্পে বিনিয়োগের ইঙ্গিত প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার এমন মন্তব্য করেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তা নিয়ে আমরা ১২ বছর ধরে দেনদরবারে আছি। তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাব অনেক পুরনো। সেটা চীন নতুন করে সামনে এনেছে। ওই প্রকল্পে তারা (চীন) আর্থিকভাবে সাহায্য করতে পারে।’

তিস্তায় বিনিয়োগ নিয়ে এখনো চীনের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাননি জানিয়ে ড. মোমেন বলেন, ‘এটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে বিষয়গুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আসে।’

প্রস্তাবিত তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৯৮৮-৮৯ সালে বাংলাদেশে পরপর বড় রকমের বন্যা হয়। তখন ফ্রান্সের একটা এক্সপার্ট গ্রুপ বাংলাদেশে এসেছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে। তখন তারা তিস্তা এলাকায় একটি প্রজেক্ট প্রস্তাব করেছিল, কীভাবে বাংলাদেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়; এর ওপর একটা কমপ্রিহেনসিভ স্টাডি করেছিল তারা। সেই স্টাডির আলোকেই তিস্তা অঞ্চলে প্রকল্পের কথা বলা হয়েছিল। তখন অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পটি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তখন আমাদের টাকা-পয়সা ছিল না।’

গত রবিবার ও গতকাল সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং প্রস্তাবিত তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সবদিক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনীতি, প্রকৃতি ও পরিবেশ যোগাযোগব্যবস্থাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় জনগণের চাহিদা এবং কিসে তাদের ভালো হয় সেটা জানা জরুরি। সেটা আমার এবং চীনের অগ্রাধিকার। সত্যিকার অর্থে বিআরআই (চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ) একটি বড় প্রকল্প। আমাদের সব অংশীদারের কাছ থেকে সব ধরনের অংশগ্রহণ দরকার। তিস্তা একটি বৃহৎ নদী, এটি খনন করতে পারলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন হবে। এটি বাংলাদেশে আমার প্রথম কাজ। যদিও এ প্রকল্প বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের, এরপরও এটি করব আমরা।’

নদীটি খননের সম্ভাব্যতা যাচাই করতেই তাদের দুদিনের এ সফর জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমাদের প্রকৌশলীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর পরিকল্পনা করব কবে কাজ শুরু করা যায়। শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট দূর করা, তীর ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণে তিস্তা নদী ঘিরে ওই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। স্থানীয় জনগণের চিন্তা-ভাবনা, আবহাওয়া, প্রকৃতি-পরিবেশ সবই ওই মহাপরিকল্পনার পক্ষে। এটি বাস্তবায়নে ঢাকা-পেইচিং গভীর আলোচনা চলছে।’

মিয়ানমারে বিনিয়োগ গ্রহণযোগ্য নয় : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ক্রমাগতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে মিয়ানমার। কিন্তু এরপরও দেশটিতে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য; যা গ্রহণযোগ্য নয়। ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ আগামী ১৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে ঢাকা সফরে আসছেন বলেও জানান তিনি।

গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। ড. মোমেন বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। আমি সেখানে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ তুলেছি। আমি বলেছি বিভিন্ন তথ্যমতে জানা যাচ্ছে যে, গত পাঁচ বছরে মিয়ানমারে আপনারা যথেষ্ট বিনিয়োগ করেছেন। যদিও আপনারা কোনো কোনো জেনারেলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। কিন্তু মিয়ানমারে বিনিয়োগ অনেকগুণ বেড়েছে। যুক্তরাজ্য হচ্ছে মানবাধিকারের নেতা। কিন্তু তারপরও মিয়ানমারে তারা বিনিয়োগ করছে এবং এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’

মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘাত চলছে এবং বাংলাদেশে গোলাগুলি এসে পড়ছে জানিয়ে ড. মোমেন বলেন, ‘চীনের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়েছি। তারা বলেছে, তারা জানাবে এবং আমাদের বিশ্বাস তারা জানিয়েছে। তবে অনেক কিছু মিয়ানমার সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেজন্য জানালেই যে তারা সবকিছু ঠিক করে ফেলতে পারবে, বিষয়টি সেরকম নয়।’

ঢাকা-ব্রুনাই ফ্লাইট চালু হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া গেছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে মঙ্গলবার (আজ) আমি সংবাদ সম্মেলন করব।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্রুনাইয়ের সুলতানকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত ঢাকা। আশা করা হচ্ছে, চার থেকে পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে সুলতানের এ সফরে। এর মধ্যে ঢাকা-ব্রুনাই সরাসরি ফ্লাইট, অভিবাসন, জ্বালানি সমঝোতা স্মারকের নবায়নসহ আরও কয়েকটি বিষয় রয়েছে। এছাড়া ব্রুনাইয়ের হালাল বাজার সম্পর্কে আগ্রহ আছে বাংলাদেশের। এ খাতে বাংলাদেশের একটি বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে ওই দেশের সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত