বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, ‘ভারত যদি তাদের সীমান্তরক্ষীদের নিয়ন্ত্রণে না রাখে, একটি শক্তিশালী, উন্নত ও পরিপক্ব গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে তা লজ্জাজনক।’
সম্প্রতি সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়ে দুই দেশের অঙ্গীকারের পরও দুই বাংলাদেশির প্রাণ হারানোর বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। কদিন পরপর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মানুষ মারা যায়। যদিও এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা একটা লাশ সীমান্তে দেখতে চাই না। কিন্তু তারপরও দুর্ঘটনা ঘটে।’
গত রবিবার ভোর ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খৈতলা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের কৈজুরী এলাকায় বিএসএফের গুলিতে মো. হাসানুজ্জামান অরফে মান্দুলী (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়। তিনি অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে। তিনি সদর উপজেলার কুশখালী গ্রামের মো. হায়দার আলীর ছেলে।
সাতক্ষীরা সীমান্তে নিহত মো. হাসানুজ্জামান অরফে মান্দুলীর বাবা হায়দার আলী জানান, পাসপোর্ট না থাকায় তার ছেলে কয়েকদিন আগে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। রবিবার রাত ৩টার দিকে ভারতের কৈজুরী সীমান্ত পার হয়ে দেশে ফিরছিল। পথিমধ্যে ভোর রাত ৪টার দিকে ভারতের কৈজুরী ক্যাম্পের টহল বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে হাসানুর বুকে গুলিবিদ্ধ হয়। এসময় তার সঙ্গীরা উদ্ধার করে সকাল সোয়া ৬টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনার সার্জিক্যাল হাসপাতালে নেওয়া হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সাতক্ষীরার বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আল-মাহমুদ বলেন, আমরা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা প্রাথমিকভাবে বিষয়টি অস্বীকার করেছে। আমরা পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছি। পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে বিস্তারিত জানাতে পারব।
এর আগে গত শনিবার রাত দেড়টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তের ছোটবলদিয়ায় বিএসএফের গুলিতে আরেক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়। তার নাম মোনতাজ আলী (৪০)। মহিষ নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় সীমান্তের ৮৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। মোনতাজ দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা ছোট বলদিয়া গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে।
পারকৃষ্টপুর-মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম জাকারিয়া জানান, শনিবার রাতে মোনতাজসহ ৫-৬ জন বাংলাদেশি মহিষ আনতে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। রাত দেড়টার দিকে মহিষ নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় সীমান্তের ৮৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে ভারতের মোকামতলা বিএসএফের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে মোনতাজ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। গত রবিবার সকাল ১০টায় নিহতের লাশ বিএসএফ সদস্যরা উদ্ধার করে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক শাহ মোহাম্মদ ইশতিয়াক বলেন, নিহত মোনতাজের লাশ ভারতের সীমান্তে রয়েছে।
