সাফল্য থাকলে ব্যর্থতা আসবেই। এমনটাই হয়ে এসেছে যুগ যুগ ধরে। কারো ব্যর্থতা প্রকাশ্যে আসে, কারো আসে না। এই সাফল্য, ব্যর্থতার খেলা থেকে বাদ যাননি অমিতাভ বচ্চনও। হিন্দি সিনেমাক মেগাস্টার। খ্যাতি, যশ, প্রতিপত্তি কোনো কিছুই কম নেই তার। কিন্তু তার মধ্যেও অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে যেত হয়েছে তাকে। ১১ অক্টোবর বিগ বি'র জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক নায়কের জীবনের এমন কিছু ঘটনা।
একের পর এক প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে পাস করার পর রেডিওয় চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন নায়ক। কিন্তু সেই চাকরি হয়নি। অমিতাভের কণ্ঠের জন্যই নাকি তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। শুধু রেডিওর চাকরিই নয়, একের পর এক চাকরির ইন্টারভিউতে শুধুই 'না' শুনতে হয়েছিল তাকে। বিগ বি বলেন, 'হয়তো আমি যোগ্য ছিলাম না, তাই সেই চাকরিগুলো পাইনি।'
তার পর ১৯৬৯ সালে 'সাত হিন্দুস্তানি' ছবির হাত ধরে বড় পর্দায় হাতেখড়ি হয় নায়কের। কিন্তু তার পরও খুব একটা সুবিধা হয়নি। পর পর ১২টা ছবি ফ্লপ! হাল ছাড়েননি নায়ক। পাঁচ বছর পর ঝুলিতে আসে প্রথম হিট। এর পর অবশ্য আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক হিট। দর্শক মনে পাকাপাকি জায়গা করে নেন বিগ বি। কিন্তু ভালো সময় কি দীর্ঘস্থায়ী হয়? বদলে যাওয়াই ধর্ম। বিগ বি'র ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হয়।
১৯৯৪ সালে 'অমিতাভ বচ্চন করপোরেশন লিমিটেড' বলে একটি সংস্থা তৈরি করেন তিনি। ছবির প্রযোজনা থেকে অনুষ্ঠান আয়োজন- সব কিছু করার কথা ছিল এই সংস্থার। কিন্তু সব কিছুতেই যে এক জন সমান পারদর্শী হবে তা তো নয়। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়। ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়ে। সেই সঙ্গে প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে যান অভিনেতা। দেনা ছিল প্রায় ৯০ কোটি টাকার। ২০১৩ সালে অমিতাভ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'আমি কখনোই ভুলতে পারব না কিভাবে পাওনাদাররা আমার বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়িয়ে থাকত। ভয় দেখাত। কটূ কথা বলত। আমার ৪৪ বছরের কেরিয়ারে সেই সময়টিই ছিল সবচেয়ে অন্ধকারময়। আমি কিভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসব বুঝতে পারতাম না। আমার মনে হয়েছিল, আমি অভিনয় করতে পারি। আমার বাড়ির পাশেই থাকতেন যশজি (যশ চোপড়া)। আমি তার কাছে গিয়ে কাজ চাই। সেই সময় তিনি আমার পাশে থেকেছিলেন এবং আমাকে 'মহব্বতে' ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ দিয়েছিলেন।'
২০০০ সালে 'মহব্বতে'-এর হাত ধরে নতুন ইনিংস শুরু করেন অমিতাভ। সে বছর তিনি সঞ্চালনাও শুরু করেন জনপ্রিয় টেলিভিশন গেম শো 'কওন বনেগা ক্রোড়পতি'র। তার পর আর আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে ভাবতে হয়নি বিগ বি-কে। একের পর এক অন্য ধারার ছবিতে অভিনয় শুরু করেন তিনি। পরিচালক-প্রযোজকরাও তাকে নিয়ে নতুন ভাবনার চিত্রনাট্য লিখতে শুরু করেন। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
