বাবার পর ছেলের নোবেল জয়

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২২, ১২:০৩ এএম

চিকিৎসায় এ বছর নোবেল পেলেন সুইডেনের বিজ্ঞানী শ্রান্তে পেবু। ৪০ বছর আগে তার বাবা সুনে বেরিস্ত্রমও চিকিৎসায় নোবেল পেয়েছিলেন। হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া মানব প্রজাতির জীবাশ্ম থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে ইতিহাস রচনা করেছেন পেবু। আধুনিক চিকিৎসায় তার কাজ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া      

বিবর্তনের ইতিহাসে বিপ্লব

বিজ্ঞানীরা কোনো প্রাণীর জেনেটিক প্রোফাইল তৈরি করতে তার ডিএনএ পরীক্ষা করে থাকেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে ডিএনএ পরীক্ষা সাদামাটা ব্যাপার হয়ে গেছে কারণ জেনেটিক প্রোফাইলের জন্য ডিএনএ নমুনা চাইলেই পাওয়া যায়। কিন্তু কোনো বিজ্ঞানীকে যদি বলা হয়, হাজার হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কোনো প্রাণীর জেনেটিক প্রোফাইল তৈরি করতে, তাহলে কি তিনি একটু ভড়কে যাবেন না? অসম্ভব কাজ মনে হবে না তার? এত আগের কোনো প্রাণীর জীবাশ্ম থেকে ডিএনএ তিনি সংগ্রহ করবেনই বা কীভাবে? কোন পদ্ধতিতে? এই দুঃসাধ্য কাজটাই করে দেখিয়েছেন সুইডিশ বিজ্ঞানী ড. শ্রান্তে পেবু। হাজার বছরের পুরনো মানব জীবাশ্ম থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন এই জিনবিজ্ঞানী এবং এ কারণে তাকে গত সপ্তাহে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অভাবনীয় অবদান রাখার জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। পেবুর নাম ঘোষণার সময় নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মানব প্রজাতির অন্যতম বিলুপ্ত পূর্বসূরি নিয়ানডারথালের জেনেটিক কোড ভাঙার মতো অত্যন্ত দুরূহ কাজ করেছেন বিজ্ঞানী পেবু। একই সঙ্গে ডেনিসোভান নামে এক মানব প্রজাতিরও সন্ধান দিয়েছেন তিনি। পেবুর কাজ মানব জাতির বিবর্তনের ইতিহাস অনুসন্ধান ও পৃথিবীতে তারা কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, সে সম্পর্কে আরও জ্ঞান অর্জন করতে আমাদের সহায়তা করবে। আমরা কোথা থেকে এসেছি, আমরা এই হোমো সেপিয়েন্সরা কীভাবে সামনের দিকে এগুলাম, যেখানে আমাদের অন্য প্রজাতিরা হারিয়ে গেল এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর পেতে শেকড়ে গিয়ে গবেষণা চালিয়ে অসাধ্য সাধন করেছেন তিনি।’ এদিকে নোবেল পুরস্কার জয়ের খবর শুনে উচ্ছ্বসিত ৬৭ বছর বয়সী পেবু বলেন, ‘স্টকহোম থেকে যখন ফোন করে জানালো হলো, এ বছর আমিই চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার জিতেছি, প্রথমে বিশ্বাসই হয়নি। ভেবেছিলাম, আমার বিজ্ঞানী বন্ধু ও সহকর্মীরা মজা করছেন। যাই হোক, নোবেল পুরস্কার পেয়ে আমি একই সঙ্গে বিস্মিত ও অভিভূত।’ লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্টোরি মিউজিয়ামের জীবাশ্মবিদ ক্রিস স্ট্রিংগার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জানা সবচেয়ে প্রাচীন মানব ডিএনএ পুনরুদ্ধারসহ পেবুর অন্যান্য কাজ অতীত ঘিরে আমাদের বোঝাপড়ায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। মানুষের বিবর্তন নিয়ে তার কাজ এখন গবেষণার অন্যতম প্রধান বিষয়। পেবুর নোবেল পাওয়া এক দারুণ সংবাদ।’                              

নোবেলজয়ীর পথচলা

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ১৯৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন শ্রান্তে পেবু। তার বাবা সুনে বেরিস্ত্রম ছিলেন প্রাণ রসায়নবিদ এবং মা কারিন পেবু ছিলেন রসায়নবিদ। আজ থেকে ঠিক ৪০ বছর আগে বেরিস্ত্রমও চিকিৎসায় নোবেল পেয়েছিলেন। বাবা ও ছেলে দুজনই নোবেল পেয়েছেন, এমন ঘটনা ইতিহাসে অবশ্য এই প্রথম ঘটেনি। এর আগে এ ধরনের ঘটনা সাত বার ঘটে। ছোটবেলা থেকে বাবার চেয়ে মায়ের বেশি ঘনিষ্ঠ ছিলেন পেবু। ১৯৮৬ সালে সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করেন তিনি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি ও জার্মানির মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়েও পোস্ট ডক্টরাল ফেলো ছিলেন তিনি। ১৯৯৭ সালে জার্মানির লাইপজিগ শহরে গবেষণা সংস্থা ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ইভোল্যুশনারি এনথ্রোপলজি প্রতিষ্ঠা করেন পেবু। ওই সংস্থাটি পরিচালনার পাশাপাশি জাপানের ওকিনাওয়া ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন পেবু।

বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, চার লাখ বছর আগে পুরো ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে নিয়ানডারথাল প্রজাতির মানুষ বাস করত। ৪০ হাজার বছর আগে রহস্যজনকভাবে তারা হারিয়ে যায়। ১৮৫৬ সালে জার্মানিতে প্রথম নিয়ানডারথালের জীবাশ্ম পান জীবাশ্মবিদরা। নিয়ানডারথালের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য টানা তিন দশক কাজ করেন পেবু। বেশির ভাগ কাজই জার্মানির লাইপজিগে তার গবেষণা প্রতিষ্ঠানে করা হয়। নিয়ানডারথালদের নিয়ে কাজ করার আগে মমি ও বিলুপ্ত প্রাণী নিয়ে কাজ করতেন তিনি। ২০০৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে পেবু বলেছিলেন, “বড় হওয়ার পর নিজেকে বারবার প্রশ্ন করতাম, ‘আমাদের উৎপত্তি কীভাবে? মানব ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কোনগুলো যা আমাদের আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে?’ জানার কৌতূহল থেকেই শেকড়ের সন্ধান করেছি আমি।”                          

কয়েক হাজার বছর আগের প্রাণীর জিনগত তথ্য জানা বেশ কঠিন কারণ তাদের ডিএনএ সংগ্রহে জটিলতা অনেক। হাজার বছরের পুরনো মানব জীবাশ্ম থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করতে নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করেন পেবু। এই পদ্ধতিতে বিলুপ্ত হওয়া নিয়ানডারথালের জিনোম সিকোয়েন্সিং একত্র করেন তিনি। পাশাপাশি নিয়ানডারথালের সঙ্গে আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষদের মিথস্ক্রিয়ার নতুন প্রমাণও হাজির করেন পেবু। তিনি যা করেছেন, তাকে নোবেল কমিটি ‘আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব’ বলে অভিহিত করে। নিজের পদ্ধতি অনুসরণের একপর্যায়ে মানব গোত্রের আরেক প্রজাতির (যাকে ডেনিসোভান বলা হচ্ছে) অস্তিত্বও অবিষ্কার করেন সুইডিশ এই জিনবিজ্ঞানী। তার গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ডেনিসোভানরা নিয়ানথারডালদের সময়ই পৃথিবীতে বাস করত। মূলত প্রায় ২০ হাজার বছর আগে আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষ নিয়ানডারথাল ও ডেনিসোভান উভয়েরই অস্তিত্ব ছিল। তাদের একে অপরের সঙ্গে কেবল যোগাযোগ হয়, তা নয়; প্রজননও সংঘটিত হয়। ভারতীয় গবেষক ও প্রতœতাত্ত্বিক বসন্ত শিন্ডে বলেন, ‘সুইডিশ বিজ্ঞানী পেবুর প্রধান অবদান, অনেক পুরনো জীবাশ্ম থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের লক্ষ্যে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন। এই কাজে তিনি প্রকৃত অর্থেই দুর্ধর্ষ। আধুনিক মানুষের সঙ্গে নিয়ানডারথালের জিনোমের মধ্যকার পার্থক্য তার ওই পদ্ধতি তুলে এনেছে। আগে বিজ্ঞানীরা আধুনিক মানুষের জিনোম নিয়ে গবেষণা করতেন এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অতীত সম্পর্কে ধারণা পেতেন। একে ডিডাকশন বলে। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে যৌক্তিক অনুশীলন এবং এর মাধ্যমে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়, তা পরোক্ষ ও অনিশ্চিত। বিজ্ঞানী পেবুর পদ্ধতি ডিডাকশনকে বাতিল করে সরাসরি পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভরশীল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সুইডিশ এই বিজ্ঞানী বুঝতে পেরেছিলেন, দেহের বিভিন্ন অংশের মধ্যে একমাত্র খুলির হাড়েই (যাকে পেট্রাস বলে) ডিএনএ ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকে। তার এই উপলব্ধির কারণেই এত প্রাচীন জীবাশ্ম থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।’

ডিএনএ গবেষণা

প্রাচীন মানব প্রজাতির ডিএনএ হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন উপাদানের সংস্পর্শে এসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য নতুন পথ বের করা ছাড়া উপায় ছিল না পেবুর। তিনি ও তার সহকর্মীরা নিয়ানডারথালের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য গবেষণায় যে পদ্ধতি অবলম্বন করেন, তা ২০১০ সালে এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ইউরোপ বা এশিয়ার আধুনিক মানুষের ডিএনএর এক থেকে চার শতাংশ নিয়ানডারথাল প্রজাতির ডিএনএর সঙ্গে মিল রয়েছে।

২০০৮ সালে সাইবেরিয়ার ডেনিসোভা গুহায় ৪০ হাজার বছর পুরনো একটি আঙুলের হাড় খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা। ওই হাড়ের উৎপত্তি জানতে পেবুর পদ্ধতি ব্যবহার করে হাড়টি থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষা করে জানা যায়, আঙুলের ওই হাড় নিয়ানডারথাল বা হোমো সেপিয়েন্স কারোরই নয়। এটি নতুন কোনো প্রজাতির হাড়। সাইবেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ডেনিসোভা গুহায় হাড়টি পাওয়া যায় বলে এই প্রজাতির নাম দেওয়া হয় ডেনিসোভান। গবেষণায় জানা যায়, এশিয়ায় বাস করা নিয়ানডারথাল ও এই ডেনিসোভানরা প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। আজকের যুগে লাখ লাখ মানুষের জিনোমের মধ্যে ডেনিসোভানদের ডিএনএ রয়েছে। 

আধুনিক মানুষের ডিএনএ আদিম যুগের মানুষের ডিএনএ দূষিত করে। এ নিয়ে         ডিএনএ গবেষণার শুরুর দিকে (গত শতাব্দীর আশি ও নব্বই দশক) পেবুসহ অন্যান্য বিজ্ঞানীরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। পেবু একবার এও বলেছিলেন, মিসরের মমির ধ্বংসাবশেষ থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ সম্ভবত তার। পেবুর ল্যাবরেটরিতে এ বিষয়ে ব্যাপক গবেষণা হয় এবং একপর্যায়ে এমন এক পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয় যার মাধ্যমে দূষণের হাত থেকে রক্ষা পায় প্রাচীন যুগের মানুষের ডিএনএ। একই সঙ্গে তার ল্যাবরেটরিতে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের নতুন প্রযুক্তিও উদ্ভাবন করা হয়। লন্ডনের বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টার ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের প্যালিওজেনেটিক্স পনটাস স্কুগ্লান্ড বলেন, ‘আমরা যখন ডিএনএ নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলাম, সে সময় আমরা নিশ্চিত ছিলাম না, প্রাচীন মানুষের ডিএনএ নিয়ে আমাদের পরীক্ষা সফল হবে কি না। পেবুর নেতৃত্বে আজ আমরা এমন এক জায়গায় পৌঁছেছি, যেখানে ডিএনএর দূষণ এখন আর কোনো বড় বিষয় নয়।’             

স্বাস্থ্যগত প্রভাব

বহু বছরের সাধনার পর নিয়ানডারথাল, ডেনিসোভানসহ অন্যান্য মানব প্রজাতির ডিএনএ সংগ্রহ করতে সক্ষম হন জিনবিজ্ঞানী পেবু। আধুনিক চিকিৎসায় তার গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। তাদের বিশ্বাস, আধুনিক মানুষের জিনোমে প্রাচীন যুগের মানুষের ডিএনএ সামান্য থাকলেও করোনাভাইরাস, মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়া থেকে শুরু করে নানা ধরনের রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে পেবুর উদ্ভাবন। এ ছাড়া তিব্বতীয় মালভূমির বাসিন্দারা জিন ভ্যারিয়েন্টের জন্য ডেনিসোভানদের ধন্যবাদ দিতেই পারেন। বিলুপ্ত এই মানব প্রজাতির কারণে উঁচু পাহাড়ি এলাকায় তারা প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন।    

বিবর্তন নিয়ে পেবুর গবেষণা কাজ নোবেল পুরস্কারের কোনো ক্যাটাগরিতে ঠিক পড়ে না। তাকে এই পুরস্কার দেওয়া নিয়ে শুরুতে কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মধ্যে দ্বিধাও ছিল। তবে সুইডিশ এই বিজ্ঞানীর আবিষ্কার কেবল মানব প্রজাতির বিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে নোবেল না দেওয়ার চিন্তা মাথা থেকে শেষ পর্যন্ত বাদ দিতে হয় তাদের। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জন হোকস বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন পেবু। আমাদের পূর্বপুরুষ কারা, তাদের শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য কেমন ছিল, এসব জানা গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমাদের শরীরের ওপর তাদের প্রভাব রয়েছে। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জিন যখন উন্মোচন করা হয়, তখন অসুখ-বিসুখ সম্পর্কে আমাদের জানাবোঝা আরও পরিষ্কার হতে বাধ্য।’

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের জিনবিজ্ঞানী ডেভিড রাইখ বলেন, ‘মূল বিষয় হচ্ছে, এ সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বড় অংশের মানুষই নিয়ানডারথালের মতো আদিম মানুষের ডিএনএ বহন করে চলেছে। আমরা আসলে কারা, নিত্যনতুন উদ্ভাবন এর জবাব দিচ্ছে। তাই আমি মনে করি, বিবর্তন সম্পর্কিত উদ্ভাবনের পাশাপাশি  আমাদের শরীরের ওপর আদিম মানুষের প্রভাব কতটা, তা জানার চেষ্টা মানব প্রজাতি হিসেবে আমাদের এই পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘প্রথম নিয়ানডারথালের জিনোম সিকোয়েন্সিং ও বিশ্লেষণ করার জন্য পেবু বিজ্ঞানীদের নিয়ে যে দল গড়ে তোলেন, তা খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক। ডিএনএ নিয়ে গবেষণায় এখন পর্যন্ত এই দলটিই সবচেয়ে সেরা। পেবুর কাজ আমাকে নিজের একটি প্রাচীন মানুষের ডিএনএ নিয়ে গবেষণাগার গড়তে অনুপ্রেরণা জোগায়।’ প্যালিওজেনেটিক্স পনটাস স্কুগ্লান্ড বলেন, ‘প্রাচীন ডিএনএ নিয়ে পেবুর কাজ এত গভীর ও ব্যাপক যে তিনি না থাকলে বিজ্ঞানের এই শাখার কী হতো, তা চিন্তা করাই কঠিন। ডিএনএ গবেষণায় শ্রান্তে পেবু একজন গডফাদার।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত