শেষ দুই ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৫৭ রান। জয়ের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন সবাই। তবুও ক্রিজে তখনও সাকিব আল হাসান। তাই লড়াইটা আরও জমে ওঠার আশা ছিল সবার। কিন্তু দ্বিতীয় বলে তিনিও আউট হয়ে গেলেন টাইগার অধিনায়ক। তার অনবদ্য এক ইনিংসের পরেও লড়াইটা পর্যন্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪৮ রানের বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নিউজিল্যান্ড।
চোটের কারণে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন লিটন দাস। সংযুক্ত আরব আমিরাত সিরিজ দিয়ে দলে ফিরলেও নামতে পারেননি ওপেনিংয়ে। ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে অবশেষে উদ্বোধনী ব্যাটার হিসেবে নামলেন লিটন। সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্তু। দুজনের শুরুতে পাওয়ার প্লেতে টাইগাররা পেয়েছে ৫২ রান। তবে বিনিময়ে দুটি উইকেট হারাতে হয়েছে।
এই ম্যাচে ভাগ্য অনেকটাই সহায় হয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর। ফিরতে পারতেন শুরুতেই। ইনিংসের প্রথম ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের তৃতীয় বলটি ছুঁড়েছিলেন অফ লেংথে। যা ডাউন দ্য লেগে খেলতে গিয়ে শান্তর ব্যাটে এডজ হয়ে হাওয়ায় ভাসতে থাকে। কিন্তু চার ফিল্ডার এক জায়গায় থাকলেও ক্যাচ নিতে পারেননি কেউ।
ফের জীবন পান চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে অ্যাডাম মিলনের মিড লেংথের বল উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন। মিড অনে দাঁড়িয়ে থাকা অধিনায়ক টিম সাউথির হাতে তা ধরা পড়ত। কিন্তু কিউইদের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মিস করলে ফের বেঁচে যান শান্ত।
তবে শান্তকে ফেরাতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। তৃতীয় বলেই একই লেংথের ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ফেরার আগে ১২ বলে ১১ রান করেন তিনি। যা সাজানো ছিল দুটি চারে। বারবার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পোরেননি তিনি।
শান্তর বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি লিটনও। পরের ওভারের তৃতীয় বলে তিনিও শিকার হন মাইকেল ব্রেসওয়েলের। অফ লেংথের বল ডিপ মিডউইকেট দিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন। ফেরার আগে ১৬ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ২৩ রানের একটি ইনিংস খেলেন।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে অধিনায়ক সাকিবের সঙ্গে ৪৩ রানের জুটি গড়েন সৌম্য সরকার। দীর্ঘদিন পর ফিরে ১৭ বলে খেললেন ২৩ রানের একটি ইনিংস। দশম ওভারের শেষ বলে মিলনের শর্ট বলে ক্রস করতে গিয়ে থার্ডমেনে বোল্টের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
এরপর একে আফিফ (৪), নুরুল (২) ও ইয়াসির (৬) রান করে ফিরে যান। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করে যাচ্ছিলেন। ৩৩ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১১তম অর্ধশতকটি।
তবে ম্যাচ শেষ করে না আসতে পারার একটি আক্ষেপ রয়েছে সাকিবের। সেটা আজও হলো। উনিশতম ওভারের দ্বিতীয় বলে বোল্টের ডেলিভারিতে কভারে দাঁড়িয়ে থাকা কনওয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি। ফেরার আগে ৪৪ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৭০ রানের একটি ইনিংস খেলেন।
শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। কিন্তু তিনি শুধুই সিঙ্গেলের দিকে মনোযোগী ছিলেন। তাতে লড়াইটা আর জমে উঠেনি। বাংলাদেশও ৭ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রানের বেশি করতে পারেনি। শেষ অবধি ১০ বলে ৯ রান করে মোসাদ্দেক ও সাইফউদ্দিন ৫ বলে ৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে অ্যাডাম মিলনে ২৪ রান খরচায় তিন উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়া টিম সাউথি ও ব্রেসওয়েল নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।
