এই দিনে

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২, ১২:০৮ এএম

১৯৬৪ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন কবি ও লেখক গোলাম মোস্তফা। ১৮৯৭ সালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তার জন্ম। গোলাম মোস্তফা ১৯১৮ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯২২ সালে ডেভিড হেয়ার ট্রেনিং কলেজ থেকে বিটি পাস করেন। এর আগে ১৯২০ সালে তিনি ব্যারাকপুর সরকারি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৪৯ সালে ফরিদপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন। তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তার মুখ্য পরিচয় ছিল। রক্তরাগ, খোশরোজ, কাব্য-কাহিনী, সাহারা, হাস্নাহেনা, বুলবুলিস্তান, তারানা-ই-পাকিস্তান, বনিআদম, গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি তার মৌলিক কাব্য এবং মুসাদ্দাস-ই-হালী, কালামে ইকবাল, শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া অনুবাদকাব্য। তিনি আল-কোরআনও অনুবাদ করেন। তার গদ্যরচনার মধ্যে বিশ্বনবী, ইসলাম ও কমিউনিজম, ইসলাম ও জেহাদ, আমার চিন্তাধারা, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান। তার বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। তিনি গীতিকার ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। পাকিস্তান আন্দোলনের পটভূমিকায় বহু ইসলামি ও দেশাত্মবোধক গান তিনি রচনা করেন। তার নিজের সুরারোপিত কয়েকটি গানের রেকর্ডও পাওয়া যায়। তার মধ্যে আব্বাসউদ্দীনের সঙ্গে গাওয়া রেকর্ডও রয়েছে। সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্র্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ এবং পাকিস্তান সরকার কর্র্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত