সংস্কৃতিচর্চা দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২, ১২:৩৮ এএম

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক। একাধারে তিনি অভিনেতা, নাট্যকার, প্রযোজক, পরিচালক, অনুবাদক ও শিক্ষক। গত মঙ্গলবার ছিল তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে প্রকাশিত হলো মৃত্যুর কিছুদিন আগে দেশ রূপান্তরকে দেওয়া তার বিশেষ সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ। লিখেছেন মাসিদ রণ। ছবি : নূর

এই পর্যায়ে এসে জীবনকে কীভাবে দেখেন?

জীবনের সার্থকতার পেছনে যে জিনিসগুলো কাজ করে তা হলো নিয়মানুবর্তিতা, সময়ানুবর্তিতা, একাগ্রতা। এই জিনিসগুলো যদি নিজের মধ্যে ধারণ করা যায় তাহলে সার্থক একটি জীবন পাওয়া যায়। আমিও অল্প বয়স থেকেই এই জিনিসগুলো মূল্যায়ন করেছি এবং নিজের জীবনে তা প্রয়োগ করেছি।

জীবনের দর্শনের ক্ষেত্রে আপনি খুব স্পর্শকাতর ...

প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে কিছু দর্শন থাকা উচিত। দেশ নিয়ে দর্শন, সমাজ নিয়ে দর্শন, পরিবার নিয়ে দর্শন এমনকি ব্যক্তিগত দর্শন। আমি দর্শনের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে খুবই সিরিয়াস। বিশেষ করে দেশ নিয়ে যে দর্শন তা আমি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। কারণ আমাদের দেশটি পেতে অনেক ত্যাগ করতে হয়েছে। দেশ স্বাধীনের আগে আমরা কী চেয়েচিলাম, এই ৪৫ বছরে কতটুকু এগিয়েছি, ভবিষ্যতে আর কতটুকু এগোতে পারি এসব বিষয় আমাকে খুব ভাবায়। আমাদের দেশ যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর দাঁড়িয়েছে তা আমি খুব কম দেশেই দেখতে পাই। অনেক বাধা পেরিয়ে এখানে হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এখনো বিদ্যমান। এটি সত্যিই আশার কথা। কারণ সংস্কৃতিচর্চা একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। মানুষের চিন্তা-চেতনার মধ্যে জাগরণ ঘটাতে পারে।   

তাহলে দেশের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?

একটি মহল আমাদের ধর্মান্ধ জাতিতে পরিণত করতে চেয়েছিল। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক চেষ্টা করছেন দেশকে সেই গ্লানিমুক্ত করতে। তাইতো যারা এক সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধিতা করেছিল, তাদেরও তিনি কাছে টেনে নিচ্ছেন। যারা কট্টর মুক্তিযুদ্ধ চেতনায় বিশ^াসী এ নিয়ে তারা মনঃক্ষুণœ হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ের একটি উদাহরণ দিতে চাই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন বিটিভির স্বাধীনতাবিরোধী ধারাবাহিক নাটক ‘উঠান’ নির্মাণ করেছিলেন আমজাদ হোসেন। এমনকি সেই নাটকে আমজাদ হোসেন দেখিয়েছিলেন- জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। কিন্তু জিয়াউর রহমান যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিনিধি হয়ে সেই ঘোষণা দিয়েছিলেন তা একবারও উল্লেখ করেননি আমজাদ হোসেন। যা স্বয়ং জিয়াউর রহমানও কোনোদিন দাবি করেননি। সেই থেকে স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে দ্বিধা সৃষ্টি হয় মানুষের মনে। অথচ সেই মানুষটির দুর্দিনে তার চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নিয়েছেন শেখ হাসিনা। এটা ভাবাই যায় না! আমরা তৃতীয় বিশে^র ছোট্ট একটা দেশ। ফলে অনেক রকম সমস্যা থাকবেই। তবে গত ১০ বছরে দেশ কতটা সমৃদ্ধ হয়েছে, দেশের চেহারার কতটা পরিবর্তন হয়েছে তা কি কেউ অস্বীকার করতে পারবে? জানি না, বর্তমান প্রজন্ম এই পরিবর্তনকে কীভাবে দেখছে? তবে আমরা তো ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তানি আমল ও স্বাধীনতা পরবর্তী আমল দেখছি। কখনো এমন উন্নয়ন দেখিনি। তাই বিষয়টা আমরা সহজেই অনুধাবন করতে পারি। আমাদের উচিত এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় শেখ হাসিনাকে সবার সহযোগিতা করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত