ওরিয়ন ইনফিউশন

১০ গুণ দাম বৃদ্ধির পর তদন্ত কমিটি

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২, ০১:০০ এএম

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেডের আয় তেমনটা বাড়েনি। ব্যবসা সম্প্রসারণ কিংবা মূল্য সংবেদনশীল কোনো তথ্যও নেই। তারপরও তিন মাসে শেয়ারটির অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। লাগামহীনভাবে ১০ গুণ দরবৃদ্ধির পর তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।

গতকাল বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে এসইসি। আগামী ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন এসইসিতে জমার নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তের ক্ষেত্রে কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে কোনো কারসাজি চক্রের হাত আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে বলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ ছাড়াও ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার ফ্রড ট্রেড হয়েছে কি না তাও তদন্ত করতে বলা হয়েছে চিঠিতে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির নিরীক্ষিত ও অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনও খতিয়ে দেখতে বলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ৩ জুলাই ডিএসইতে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারের দর ছিল ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা। এরপর টানা বেড়ে গতকাল তা ৯১৯ টাকা ৬০ পয়সায় উন্নীত হয়। গত তিন মাসে শেয়ারটির দর বেড়েছে প্রায় ৯৫০ শতাংশ। যদিও এ সময় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে পড়ে আছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুধু কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারটির দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে। স্বল্প মূলধনী হওয়ায় কারসাজি করা সহজ হয়েছে। গত ৪ আগস্ট থেকে পাঁচবার অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়েছে ডিএসই। প্রতিবারই কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দরবৃদ্ধির নেপথ্যে মূল্য সংবেদনশীল কোনো তথ্য নেই। গতকাল তদন্তের ঘোষণার মধ্যেই শেয়ারটির দর সর্বোচ্চ প্রায় ৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

১০ গুণ বৃদ্ধির পর ওরিয়ন ইনফিউশনের বর্তমান শেয়ারদরকে এখন অস্বাভাবিক মনে করছে এসইসি। এ জন্য কোম্পানিটির বেশ কিছু বিষয় নিয়ে তদন্ত করার জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কারসাজিতে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে এসইসির নির্দেশনাকে কাজে লাগানো হয়েছে। অবশ্য শুধু ওরিয়ন ইনফিউশন নয়, ওরিয়ন গ্রুপের অন্যান্য শেয়ার নিয়েও আলোচনা রয়েছে। হঠাৎ করেই লেনদেনের শীর্ষস্থান দখলে নিয়েছে একই গ্রুপের কোম্পানি ওরিয়ন ফার্মা। প্রতিদিন বড় লেনদেনের মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে এ কোম্পানির শেয়ারদরও ৫০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।

১৯৯৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ওরিয়ন ইনফিউশনের পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি টাকা। এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, কোম্পানিটিকে পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে। স্বল্প মূলধনী হওয়ার পরও কোম্পানিটি প্রতি বছর নগদ লভ্যাংশ দিচ্ছে। গত সাত বছরে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। অবশ্য ১৯৯৬ সালে রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন বাড়িয়েছিল কোম্পানিটি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্যমতে, চলতি বছর জুনে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারের ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দখলে ছিল। আগস্টে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ারধারণ প্রায় তিন গুণ বেড়ে ২১ দশমিক ৪১ শতাংশ হয়। তবে সেপ্টেম্বরে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাদের ধারণ করা শেয়ারের দুই-তৃতীয়াংশ বিক্রি করে দেন। এতে করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ারধারণের পরিমাণ নেমে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে। কোম্পানিটির মূল শেয়ারের ৪০ দশমিক ৬১ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত