সাকিব আল হাসানই যা একটু খেললেন। বাংলাদেশে ক্রিকেটে এখন প্রচলিত টি-টোয়েন্টি ‘ইনটেন্ট’ দেখালেন বেশ। তার ইনিংস দুর্দান্ত ছিল কোনো সন্দেহ নেই কিন্তু তার ‘ইমপ্যাক্টটা’ হলো না। এর কারণ দলের বাকিদের ইনিংসের ‘ইনটেন্ট’ ঠিক টি-টোয়েন্টি সুলভ হয়নি। তাই বিশ্বকাপের জন্য আরেকটি কম্বিনেশন দেখে নেওয়ার ম্যাচে হারই জুটল বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় লড়াইয়ে ৪৮ রানে হেরেছেন সাকিবরা। ব্যাটিং সহায়ক পিচে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২০৮ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। জবাবে বাংলাদেশ একটা সময় পর্যন্ত ম্যাচে থেকেও হেরে যায় ৭ উইকেটে ১৬০ রান করে। বাংলাদেশকে হারিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে কিউইরা। বাংলাদেশ আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচে শুধু বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটাই নিতে পারে।
ত্রিদেশীয় সিরিজটিতে মূলত বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটাই নিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। মূল লক্ষ্য ছিল আসরের জন্য নিজেদের সেরা কম্বিনেশনটা ঠিক করা। তাই তিন ম্যাচেই ওপেনিংয়ে এসেছে বদল। একাদশেও পরিবর্তন হয়েছে একাধিক। এছাড়া ব্যাটিং অর্ডারেও প্রতি ম্যাচে রদবদল হয়েছে। নিশ্চিতভাবে শেষ ম্যাচেও পরিবর্তন করে বিশ্বকাপের আগে কৌশল দেখে নেওয়ার শেষ চেষ্টা থাকবে বাংলাদেশের। আর সেই মতো বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তন আসারও সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন সাকিব কাল ম্যাচ শেষে, ‘বিশ্বকাপের জন্য সঠিক কম্বিনেশন থেকে আমরা খুব একটা দূরে নেই। আমার মতে এক-দুইটি জায়গায় হয়তো পরিবর্তন আনতে হবে। সত্যি বলতে আমাদের হাতে বেশি বিকল্পও নেই। আমাদের জানা আছে বিশ্বকাপে ঠিক কী নিয়ে যাবে দলটি। আমরা কিছু ম্যাচে দেখলাম। সবাইকে একটি করে ম্যাচ খেলানো হলো যাতে বুঝতে পারি বিশ্বকাপের সেরা কম্বিনেশন কী হতে পারে।’
তবে কম্বিনেশনের চেয়েও যে বড় চিন্তা আছে বাংলাদেশের। দ্রুত উইকেট হারিয়ে প্রতি ম্যাচেই ছিটকে পড়ায় ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাসটাও কমে যাচ্ছে সাকিবদের। অধিনায়ক তা বুঝেছেন। এই দিকটি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান, ‘যদি আমাদের তিনটি ম্যাচের দিকে তাকান, একই প্যাটার্ন খুঁজে পাবেন। দশ ওভারের পর আমরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছি। প্রতি দুই ওভারে একটি করে উইকেট পড়ছে। এটা আমাদের মোটেও সাহায্য করছে না। এমন হলে মোমেন্টাম পাওয়া যায় না। রান তাড়ার কথা বাদ দিয়ে ইনিংস গড়ার দিকে মন দিতে হয়।’
দ্রুত উইকেট হারানোর জন্য কাল দারুণ অবস্থানে থেকেও ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। অথচ ব্যাটিং উইকেটে প্রথম ১০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের মতোই দলীয় সংগ্রহ ছিল সাকিবদের- নিউজিল্যান্ড তুলেছিল ৮৭, বাংলাদেশ ৯০। অথচ পরের ১০ ওভারে নিউজিল্যান্ড যেখানে করেছে ১২১, বাংলাদেশ করতে পেরেছে মাত্র ৭০। শেষ ৫ ওভারে স্বাগতিকদের ৬৫ রানের বিপরীতে বাংলাদেশের রান মাত্র ৩৮। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে গ্লেন ফিলিপস যেমন মাঝের ওভারগুলোতে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে সেই কাজটি করতে পারেনি কেউ। ফিলিপস ২৫০ স্ট্রাইকরেটের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেছেন। মাত্র ২৪ বলে ৫ ছক্কা ও ২ চারে ৬০ রান করেন। এছাড়া ওপেনার কনওয়ে ৪০ বলে ৩ ছক্কা ও ৫ চারে ৬৪ ও অপর ওপেনার ফিন অ্যালেন ১৯ বলে করেন ৩২। এছাড়া গাপটিল ২৭ বলে ৩৪ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন সাইফউদ্দিন ও এবাদত হোসেন।
সাকিব চেষ্টা করলেও তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো একজন ব্যাটারও ছিলেন না। স্বাভাবিকভাবেই রান করলেও সাকিবের চাপটা বাড়তে থাকে। সেই চাপ সামলে ক্যারিয়ারের ১১তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন সাকিব। ৪৪ বলে তার ৭০ রানের ইনিংসটির ১৫৯.০৯ স্ট্রাইকরেট সাকিবের ক্যারিয়ারে ফিফটি ছাড়ানো ইনিংসগুলোয় তৃতীয় সেরা স্ট্রাইকরেট। সাকিব ক্রিজে আসার আগে লিটন ওপেনিংয়ে নেমে ১৬ রানে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ ও এ সিরিজে প্রথম খেলতে নামা সৌম্য সরকার ১৭ বলে ৩ চারে করেন ২৩। এছাড়া মিডল থেকে লোয়ার অর্ডারে- আফিফ, নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক সৈকত- কেউই সাকিবকে সঙ্গ দেওয়া ইনিংস খেলতে পারেননি।
অস্ট্রেলিয়ায় উড়াল দেওয়ার আগে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ আজ। নিশ্চিত ভাবেই এ ম্যাচেও কিছু বদল রাখবেন কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরাম। তাতে ক্রিকেটারদের দেখে নেওয়া হবে আরেকটু। তবে কালই ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড জানিয়েছেন আজ সেরা বোলিং লাইনআপ নিয়ে নামবে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়েও হয়তো সেরা ফরমেশনটাই থাকবে। দলে এত পরিমাণে বদলের ব্যাপারটিকে ইতিবাচক দেখছেন অ্যালান ডোনাল্ড, ‘সঠিক জুটি (কম্বিনেশন) পেতে হলে আপনাকে ট্রায়াল অ্যান্ড এররের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এজন্যই এত বদল। এটা সহজ কাজ নয়। এ কারণেই বিশ্বকাপের দল বেছে নেওয়া সহজ নয়। তবে সেটি বিশ্বের সব দলের জন্যই।’
তাতে সেরা ফলটা আসে না আক্ষেপই থাকে সেটাই দেখার।
