বর্ষা বিদায়ের বর্ষণে সাগরে লঘুচাপের শঙ্কা

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২, ০২:৩৪ এএম

শরতের ঝকঝকে নীল আকাশে সাদা মেঘের ফাঁকে কয়েক দিন ধরেই কালো মেঘের ভেলার আনাগোনা বেড়েছে। কয়েক দিনের টানা তীব্র গরমের পর ইতিমধ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েক জেলায় নামতে শুরু করেছে বৃষ্টি। গতকাল বুধবার দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক জেলায় ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশ থেকে মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার একেবারে শেষ বেলার এ বৃষ্টি আরও সপ্তাহখানেক বিভিন্ন জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে ঝরবে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তীব্র গরম আর বর্ষা বিদায়কালের এ বৃষ্টিপাত প্রবণতায় সাগরে সৃষ্টি হতে পারে লঘুচাপ। পরে সেটি নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়েও রূপ নিতে পারে।

গতকাল ঢাকার আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মোংলা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর অক্ষবিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

এর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কামরুল হাসানের ভাষ্য, বর্ষাকাল বিদায় নেওয়ার আগে আকাশ মেঘলা থাকা স্বাভাবিক। স্থানীয় মেঘ জমে, আবার মেঘ কেটে যায়। এ কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এদিকে চলতি অক্টোবর মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বলা হয়, এ সময় দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত ও বঙ্গোপসাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং এদের মধ্য থেকে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি এ পূর্বাভাসের বিষয়ে আবহাওয়াবিদ কামরুল হাসান কোনো মন্তব্য না করলেও মোংলা আবহাওয়া অফিস ইনচার্জ অমরেশ চন্দ্র ঢালী জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে চলে আসা প্রচ- দাবদাহে জলীয়বাষ্পে মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে এখন প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আপাতত কোনো সংকেত দেওয়ার মতো লঘুচাপের সৃষ্টির হওয়ার সম্ভাবনা দেখা না গেলেও দুই-এক দিনের মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়া প্রসঙ্গে এ আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ এমন কিছু হতে গেলে প্রথমে লঘুচাপ, তারপর নিম্নচাপ হয়ে পরিশেষে সাইক্লোনে রূপ নেয়, যা অবশ্য দীর্ঘ সময়েরও ব্যাপার। তবে এ সময়টাতে সাগরে সাইক্লোনের সৃষ্টি হয়ে থাকে। গত মাসেও তিনটি লঘু ও নিম্ন চাপ হয়েছিল যা দুর্বল হয়ে উপকূল অতিক্রম করে অস্তিত্ব হারায়। তারপরও সম্ভাব্য সাইক্লোন সৃষ্টির বিষয়টিও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত