সাংবাদিক আফতাব হত্যায় ৫ আসামির মৃত্যুদন্ড বহাল

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২, ০২:৩৯ এএম

রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায় একুশে পদক পাওয়া আলোকচিত্র সাংবাদিক আফতাব আহমেদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির সাজা বহাল রেখেছে উচ্চ আদালত। ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদন) অনুমোদন এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিল খারিজ করে গতকাল বুধবার এ রায় দেয় বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ।

সর্বোচ্চ দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আফতাব আহমেদের গাড়িচালক হুমায়ুন কবির মোল্লা ছাড়াও আছেন ডাকাতিতে জড়িত বিল্লাল হোসেন কিসলু, হাবিব হাওলাদার, রাজু মুন্সী ও মো. রাসেল। এর মধ্যে রাজু মুন্সী ও রাসেল মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

এ ছাড়া বিচারিক আদালতে সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত মো. সবুজ খানের সাজা বহাল রয়েছে হাইকোর্টের রায়ে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নিহত আফতাব আহমেদের স্বজনরা।

অন্যদিকে আসামিপক্ষ বলছে, তারা ন্যায়বিচার পায়নি। রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করবে তারা।

আফতাব আহমেদ ১৯৬২ সাল থেকে দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাকের জ্যেষ্ঠ আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করেছিলেন। আলোকচিত্রে অবদানের জন্য ২০০৬ সালে একুশে পদক পান তিনি। ২০১৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর পশ্চিম রামপুরার বাসা থেকে পুলিশ আফতাব আহমেদের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তার স্বজনদের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা করা হয়।

এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর আফতাবের গাড়িচালক হুমায়ুন, হাবিব ও বিল্লাল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা জানান, ডাকাতির উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, আফতাব আহমেদের বাসায় প্রবেশ করে তার হাত-পা গামছা দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা এবং ড্রয়ার ভেঙে ৭২ হাজার টাকা লুট করেন।

তদন্ত শেষে ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ আলোচিত এ মামলায় রায় দেয় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪। রায়ে পাঁচজনকে মৃত্যুদন্ড ও একজনকে সাত বছরের কারাদন্ড দেয় আদালত। এরপর মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরা আপিল করেন। এর ধারাবাহিকতায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর গত মঙ্গলবার শুনানি শেষে গতকাল এ রায় হলো।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সামিরা তারান্নুম রাবেয়া মিতি। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও হেলাল উদ্দিন মোল্লা। পলাতক দুই আসামির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এস এম শফিকুল ইসলাম।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আফতাব আহমেদের মেয়ে আফরোজা আহমেদ বর্ণা সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’ হাইকোর্টের রায় বহাল থাকা এবং দন্ড দ্রুত কার্যকরের প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সামিরা তারান্নুম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসামিরা নির্মম এই হত্যাকা-ের বিষয়ে যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, তাতে পরস্পরের বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্যতা রয়েছে। এ ছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত সব আলামত জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে এ হত্যাকা-ে সম্পৃক্ততায় সন্দেহের কোনো অবকাশ ছিল না। যে কারণে বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রয়েছে।’

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত হুমায়ুন কবিরের আইনজীবী এস এম শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের যুক্তি ছিল এই মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছাড়া অন্য কোনো উপাদান নেই। পাঁচ দিন রিমান্ডের পরে আসামিদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। এখন এটি স্বেচ্চায় দেওয়া হয়েছে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত