প্রেমের টানে বরিশালে আসার তিন দিন পর ভারতীয় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জাভেদ খান (২৯) নামের ওই যুবকের মৃত্যু হয়। পুলিশ, প্রেমিকা ওই তরুণী ও হাসপাতাল সূত্র বলছে, জাভেদ ভারতের উত্তর প্রদেশের হাসানপুর এলাকার বাসিন্দা। গত রবিবার সকালে তিনি বরিশালে আসেন। প্রেমিকার (২৩) সঙ্গে ঘোরাঘুরির পর কয়েক দফা অসুস্থ বোধ করলে অবশেষে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখেন। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল ভোররাতে ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরপরই ওই যুবক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
জাভেদ উত্তর প্রদেশের হাসানপুরে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যানটেশনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। ২০১৭ সালের শেষের দিকে বরিশালের ওই তরুণীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে পরিচয় হয় জাভেদের।
জাভেদ খানের প্রেমিকা দেশ রূপান্তরকে বলেন, হঠাৎ করে বুকে ব্যথা উঠে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১০ অক্টোবর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় জাভেদকে। এরপর ১২ অক্টোবর ভোর রাতে চিকিৎসকদের পরামর্শে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিলে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর পরেই মারা যান তিনি। জাভেদ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তার পরিবারকে জানিয়েছি। জাভেদ আমার বয়ফ্রেন্ড।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০ অক্টোবর থেকে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি ছিলেন জাভেদ খান।
বরিশাল নগরের কাঠপট্টি এলাকার হোটেল এ্যাথেনার অভ্যর্থনাকারী মো. সাব্বির জানান, গত ৯ তারিখ সকালে জাভেদ তাদের হোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। সেদিনই তার বন্ধু পরিচয় দিয়ে এক তরুণী দেখা করতে আসেন এবং কিছু সময় রুমে থাকেন। পরের দিন ১০ তারিখ বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ রুমটি ছেড়ে দেন এবং রিসিপশনে তার ব্যাগ রেখে যান, পরে নিয়ে যাবেন বলে। তবে তিনি আর আসেননি, ১১ তারিখ ওই তরুণী এসে ব্যাগ নিয়ে যান। আর বুধবার সকালে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি জাভেদের মৃত্যুর খবর।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. রিফায়তুল হায়দার বলেন, মৃত ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ট্যাটু ছিল। তিনি কিছু রোগে ভুগছিলেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকরা একটি বোর্ড তৈরি করেছেন। জাভেদ খানের বুকে অনেক সমস্যা রয়েছে, কিডনিতেও সমস্যা রয়েছে। এছাড়া তার লিভারেও অনেক সমস্যা ছিল। তিনি ভারতেও চিকিৎসা নিয়েছিলেন, সেখানকার ডাক্তাররা তাকে অ্যালকোহল জাতীয় জিনিস খেতে নিষেধ করেছিলেন। আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে এটা পাচ্ছি।
তিনি জানান, লাশ হস্তান্তরের বিষয়টি পুরো ভারতীয় দূতাবাসের। তারা যেভাবে বলবে সেভাবেই লাশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জাভেদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি আমরা, তাদের কোনো অভিযোগ পাইনি। পুরো বিষয়টি তদন্ত চলছে।
