আগামী বছর বিশ্ব অর্থনীতির সংকট আরও বাড়বে। আর চলতি বছরই প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে সেই আশঙ্কা থেকে মুক্ত থাকতে হলে বাংলাদেশকে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, মূল্যস্ফীতি যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রেখে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুনায়েদ কামাল আহমেদ।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ভবনে অনুষ্ঠিত আইএমএফের বার্ষিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জুনায়েদ কামাল আহমেদ বলেন, মহামারী করোনার ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ চলছে। এর প্রভাবে ওলটপালট হয়ে গেছে বিশ্ব অর্থনীতির হিসাব-নিকাশ। এতে গত বছরের তুলনায় গোটা বিশে্বর প্রবৃদ্ধি নেমে আসবে অর্ধেকে। জ্বালানির অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় অস্থির পণ্য বাজারের জন্য খুব বেশি সুখবর দেয়নি আইএমএফ। আর তাই ২০২২ সালে বিশ্ব মূল্যস্ফীতি দাঁড়াবে প্রায় ৯ শতাংশে।
নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে ওলিভিয়ার গৌরিনচাস বলেন, ডলারের শক্তিশালী অবস্থা ছোট অর্থনীতির দেশগুলোকে ভোগাচ্ছে। তবে সংকটে পড়ে তুলনামূলক গরিব দেশগুলোকে আরও সহায়তা দেওয়া ও ঋণ আদায়ে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সাম্প্রতিক সময়ে ঋণে জর্জরিত দেশগুলোকে নিয়ে ভাবছি। এখান থেকে তাদের কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। জি-২০ জোট ভুক্ত দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকেও আমি বিষয়টি বলেছি। কীভাবে ঋণদাতা ও ঋণ গ্রহীতা দেশগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে তার উপায় খোঁজা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুনায়েদ কামাল আহমেদ বলেন, এখনো স্বস্তিতে আছে বাংলাদেশ, তবে তা ধরে রাখতে সরকারকে আরও জনমুখী উদ্যাগ নিতে হবে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের ফলে বৈশি^ক মন্দায় ভুগছে বিশ্বব্যাপী। এ জন্য বিশ্বব্যাংক সদস্যদেশগুলোকে আরও বাজেটসহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজন হবে। সেই সঙ্গে সরাসরি মানুষের কল্যাণ হয় এমন প্রকল্পে সরকারি অর্থ বাড়ানো প্রয়োজন।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য অবকাঠামোসহ বেশ কয়েকটি খাতে বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বার্ষিক সভার দিতীয় দিনে বিশ্ব অর্থনীতির নানা পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়। যাতে বলা হয়েছে, করোনার ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত নয় বিশে^র কোনো দেশ। সে ক্ষেত্রে আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, এ বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার আরও কমে দাঁড়াবে ৩ দশমিক ২ শতাংশে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান অর্থনীতিবিদ অলিভিয়ার গৌরিনচাস বলেন, ‘জ্বালানির অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় অস্থির পণ্য বাজারের জন্য খুব বেশি সুখবর দেখছি না আমরা। তবে ২০২২-এর মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামবে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক নানা বাস্তবতায়, বিশে^র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যে কমে আসবে, সেটি বেশ পরিষ্কার।
আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আইএমএফ মনে করে, গেল বছরের তুলনায় এ বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নেমে আসবে অর্ধেকে। জ্বালানির অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় অস্থির পণ্য বাজারের জন্যও খুব বেশি সুখবর নয়। সংস্থাটি বলছে, ২০২২ সালে বিশ্ব মূল্যস্ফীতি দাঁড়াবে প্রায় ৯ শতাংশে।
বিশ্ব অর্থনীতির এমন নড়বড়ে অবস্থায় সামনের দিনগুলোতে উন্নয়ন সহযোগীদের আরও বেশি মনোযোগ প্রত্যাশা করেছে উন্নয়নশীল দেশগুলো।
ঋণ-সুদ ছাড়ের কথা ভাবছে বিশ্বব্যাংক সংকটে পড়া সদস্যদেশগুলোকে সুদ ও ঋণ পরিশোধে ছাড় দেওয়ার কথা ভাবছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে সংকটে থাকা দেশগুলোকে আরও ঋণসহায়তা বাড়ানোর কথা বলেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস এ কথা বলেন।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেন, বৈশি্বক মন্দা, করোনা সংকট, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন, জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও খাদ্যসংকটে পড়েছে কিছু দেশ। সংকটে পড়ে তুলনামূলক গরিব দেশগুলোকে আরও সহায়তা দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ঋণ আদায়ে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস।
ম্যালপাস বলেন, করোনার ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এর প্রভাবে ওলটপালট হয়ে গেছে বিশ্ব অর্থনীতির হিসাব-নিকাশ। এতে গেল বছরের তুলনায় গোটা বিশে^র প্রবৃদ্ধি নেমে আসবে অর্ধেকে। জ্বালানির অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় অস্থির পণ্য বাজারের জন্য খুব বেশি সুখকর নয়।
প্রায় তিন বছর পর সশরীরে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সাধারণ সভা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে চলছে। গত সোমবার শুরু হওয়া সাত দিনের বৈঠকে অংশ নিতে সদস্যভুক্ত ১৮৮ দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিদের আগ্রহ ছিল দেখার মতো। তাই রেজিস্ট্রেশন বুথের সামনে অংশগ্রহণকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষা দেখা গেছে।
