ইনডোর স্টেডিয়ামে এসি আছে, তবে ছাড়ার লোক নেই

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২২, ০১:৩৭ পিএম

শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামটির সংস্কার হয়েছে গত জুলাইয়ের শেষভাগে। এরপর টেবিল টেনিস এবং ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনকে বুঝিয়ে দিয়েছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল ইনডোরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছিল।

অথচ গতকাল ঢাকা মহানগর টেবিল টেনিস লিগের প্রথম দিনে সেখানে গিয়ে দেখা গেল করুণ দশা। প্রায় ২০০ টেবিল টেনিস খেলোয়াড় ঘেমে নেয়ে একাকার। কাল সারা দিন কাজ করেনি ইনডোরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ভ্যাপসা গরমে দুর্বিষহ একটা দিন কেটেছে খেলোয়াড়দের।

এ নিয়ে খোঁজ-খবর করতে গিয়ে জানা গেল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে ইনডোরের এসি ছাড়ারই কোনো লোক নেই। এনএসসির বেশ কজন টেকনিশিয়ান থাকলেও সে সব এসি ছাড়তে ও বন্ধ করতে বাইরে থেকে এক্সপার্ট ভাড়া করতে হয়।

গরমে নাকাল অভিজ্ঞ টিটি খেলোয়াড় মানস চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘খেলোয়াড়দের সঙ্গে আসলে গরু-ছাগলের মতো ব্যবহার করা হয় এ দেশে। এরকম বদ্ধ একটা জায়গায় আজ আমাদের দমবন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছিল। তিন মাসে ঠিক করা এসি এখনই কীভাবে নষ্ট হয় বুঝতে পারি না। তাও আবার এসি ছাড়া ও বন্ধের কোনো লোক নেই। বাইরের একজনকে দৈনিক টাকা দিয়ে এসি ছাড়াতে ও বন্ধ করাতে হয়। এসব নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।’

বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোন্দকার হাসান মুনীর জানান, ‘আমরা এনএসসিকে বারবার অনুরোধ করেও এসি পরিচালনার জন্য একটা লোক পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে দৈনিক ১০০০ টাকা করে দিয়ে একজন লোক ঠিক করেছি। যার কাজ শুধু এসি ছাড়া ও বন্ধ করা। অথচ এনএসসির কয়েকজন টেকনিশিয়ান আছে, যাদের এই কাজটাই জানা নেই। এরকম ভ্যাপসা গরমের মধ্যে প্রায় আড়াইশ মানুষকে সারা দিন থাকতে হয়েছে। এরকম পরিবেশে আর যাই হোক খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।’

বিষয়টি দ্রুত সুরাহার কথা বলেছেন এনএসসির সচিব পরিমল সিংহ, ‘এসির ব্রয়লারে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই ঠান্ডা হচ্ছে না। আগামীকাল লোক এনে এই সমস্যার সমাধান করা হবে।’

এই গরমের মধ্যেই গতকাল উদ্বোধন হয়েছে লিগের। প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগ লিগ ও নারী লিগ শুরু হয়েছে এক সঙ্গে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত