বাড়তে থাকা রাজনৈতিক চাপ এবং কর নিয়ে বেসামাল পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে কোয়াসি কোয়াটেংকে বরখাস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। গতকাল শুক্রবার বরখাস্ত হলেন ছয় সপ্তাহেরও কম সময় আগে চ্যান্সেলরের দায়িত্ব নেওয়া কোয়াসি কোয়াটেং। বিবিসি জানাচ্ছে, কোয়াসি কোয়াটেং বরখাস্ত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট।
বিবিসি জানাচ্ছে, যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে কম সময় অর্থমন্ত্রীর পদে থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তি কোয়াসি কোয়াটেং। তার আগে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে স্বল্পকালীন অর্থমন্ত্রী ছিলেন আয়ান ম্যাকলিওড। ১৯৭০ সালে তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৩০ দিনের মাথায় মারা যান। আর কোয়াটেং বরখাস্ত হলেন দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৩৮ দিন পর।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিজ ট্রাস এবং কোয়াসি কোয়াটেং মিলে যে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা দাঁড় করিয়েছিলেন, তাতে যুক্তরাজ্যে বাজারের ওপর চাপ পড়ার পাশাপাশি পাউন্ডের অবমূল্যায়ন ঘটেছে। বৈশি^ক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলো থেকে সতর্কবার্তাও এসেছে।
কোয়াটেং গত ২৩ সেপ্টেম্বর তার অর্থ পরিকল্পনা নিয়ে যে মিনি-বাজেট পেশ করেন তা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তিনি সরকারের ট্যাক্সের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড় দিতে ঋণ গ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন, তাতেই মূলত চাপে পড়ে ব্রিটেনের বাজার। পাউন্ডের অবমূল্যায়ন হয় দ্রুত। শেষ পর্যন্ত সেই মিনি-বাজেটের জেরেই চাকরি খোয়াতে হলো কোয়াটেংকে। তার মতো একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সমর্থককে বরখাস্ত করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলো লিজ ট্রাসকে।
শুক্রবার বরখাস্ত হওয়ার পর কোয়াটেং প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা তার চিঠি টুইটারে পোস্ট করেছেন। তাতে তিনি লেখেন, ‘আপনার চ্যান্সেলর হিসেবে আপনি আমাকে সরে দাঁড়াতে বলেছেন। আমি তা মেনে নিয়েছি।’
চিঠিতে বিতর্কিত মিনি-বাজেট পরিকল্পনার সাফাইও গেয়েছেন কোয়াটেং। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ট্রাস নিজ দলের ভেতর থেকেই সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা আরেকবার ভেবে দেখার জোর দাবির মুখে পড়েছেন।
তিনি এখন মিনি-বাজেটের বেশ কিছু পরিকল্পনা বাদ দেওয়া বা উল্টে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে দেশটির নতুন অর্থমন্ত্রী হয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের কার্যালয় শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে।
হান্ট এর আগে দুবার ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে নেমে সফল হতে পারেননি। একবার তিনি বরিস জনসনের কাছে হেরে যান এবং পরেরবার দলের নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় প্রথম দফার ভোটেই হেরে বাদ পড়েন। শেষ পর্যন্ত কনজারভেটিভ দলের নেতৃত্বে জয়ী হয়ে লিজ ট্রাস প্রধানমন্ত্রী হন। ওই প্রতিযোগিতায় ট্রাসের প্রতিপক্ষ সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাককে সমর্থন করেছিলেন জেরেমি হান্ট। জেরেমি হান্ট এর আগে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রীও ছিলেন। এ বছর নিয়োগ পাওয়া যুক্তরাজ্যের চতুর্থ অর্থমন্ত্রী হলেন তিনি।
