সাংবাদিকদের লি জিমিং

তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২২, ০৪:৫৯ এএম

তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছেন, ‘আমি তিস্তা এলাকার লোকদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ কারণেই তিস্তা প্রকল্পকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত। তিস্তার মহাপরিকল্পনা নিয়ে যত উদ্বেগ থাকুক না কেন, ওই অঞ্চলের মানুষের স্বার্থে এই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া উচিত। যদিও এই প্রকল্প ঘিরে ভূরাজনৈতিক স্পর্শকাতরতা আছে এবং চীন সে বিষয়েও অবগত।’

গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার হোটেল ওয়েস্টিনে ‘বাংলাদেশে চীনের জাতীয় ভাবমূর্তি’ শীর্ষক জরিপের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন লি জিমিং। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ (সিজিএস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

৯ অক্টোবর নীলফামারী ও লালমনিরহাটে তিস্তা ব্যারাজ ও তিস্তার অববাহিকা পরিদর্শনের প্রসঙ্গ টেনে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সেখানে চীনা প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে গিয়েছিলাম। এর আগে একইভাবে আমি চট্টগ্রাম ও সিলেটও গিয়েছিলাম। তিস্তা নদীর প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনায় যুক্ত হতে প্রায় এক বছর আগে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনকে অনুরোধ করেছিল। তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে এবং দুই দেশের সরকারের প্রচেষ্টায় দ্রুত কাজ শুরুর চেষ্টা চলছে। আমরা অবশ্যই তিস্তার উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্ত হতে চাই। প্রকল্পটি এখন পেইচিংয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বিশেষ মূল্যায়নের তালিকায় আছে। বাংলাদেশ বাইরের চাপে বা অন্য কারণে শেষ মুহূর্তে প্রকল্পটি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে কি না, তা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার উদ্বেগও আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রকল্পটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কেউ এসে যদি বলে, এটি চীনের আরেকটি ঋণের ফাঁদ হবে কিংবা সুনির্দিষ্ট ভূরাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে বাংলাদেশ বলে বসে, দুঃখিত চীন, আমরা আর প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে পারছি না। এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে আমি বেকায়দায় পড়ব এবং এতে বিব্রত হব।’

লি জিমিং বলেন, ‘বাংলাদেশ-চীনের ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল এবং বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় চীন। কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে চীন। এই লড়াইয়ে চীন বাংলাদেশের পাশেও রয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশে অবকাঠামোগত বড় প্রকল্প যেমন পায়রা বন্দর, কর্ণফুলী টানেলের মতো প্রকল্পেও সহায়তা দিচ্ছে চীন। এর মধ্য দিয়ে নিশ্চয়ই এদেশের জনগণ লাভবান হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতেও চীন মধ্যস্থতা করছে। ইতিমধ্যেই ত্রিপক্ষীয় তিনটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকের অগ্রগতি পুরোপুরি প্রকাশ করা এখনই ঠিক হবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করার চীনা নীতিকে বাংলাদেশ সব সময় মূল্য দেয় ও সন্তোষ প্রকাশ করে থাকে। আঞ্চলিক সহযোগিতার ফ্রেমওয়ার্কে বাংলাদেশকে স্বতন্ত্রভাবে চীনের দেখা উচিত।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত