যাত্রাবাড়ীতে বাসচাপায় তরুণের মৃত্যু

বাস থেকে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার চালকের সহকারীর

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২২, ০৭:১১ এএম

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসচাপায় আবু সায়েম (৩৫) নামে পোশাক কারখানার এক কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করেছেন তার ভাই আবু সাদাত সাহেদ। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ভাড়া নিয়ে চালকের সহকারীর সঙ্গে ঝগড়া হওয়ায় বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরে ওই বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় সায়েমের। তবে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার বাসচালক ও তার সহকারী ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাইনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাসের চালক ও সহকারী সায়েমকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেনি। তবে চলন্ত বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া ও তাদের বাসের নিচে চাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।

গত শনিবার বিকেলে মতিঝিলের অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে বাসের নিচে পিষ্ট হয়ে মারা যান সায়েম। তার বাবা হেদায়েত উল্লাহ মারা গেছেন তিন বছর আগে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সায়েম তৃতীয়। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। তার ভাই আবু সাদাত সাহেদ আলাদা থাকেন। বাসায় মা হামিদা বেগমকে নিয়ে থাকতেন সায়েম।

থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় শনিবার রাতে যাত্রাবাড়ী থানায় করা মামলায় বাসচালক শাহ আলম (৪০) ও তার সহকারী মোহনকে (২২) আসামি করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এ ঘটনাকে হত্যা দাবি করে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেছেন সায়েমের স্বজনরা।

গতকাল বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সায়েমের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। সিায়েমের ভাই আবু সাদাত সাহেদ বলেন, ‘আমার ভাইকে বাস থেকে ফেলে চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই।’

নিহত সায়েমের ভগ্নিপতি মনির জানান, একটি পোশাক কারখানার মতিঝিল কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ নির্বাহী (ভ্যাট অ্যান্ড ট্যাক্স) হিসেবে কাজ করতেন সায়েম। বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে ৮ নম্বর বাসের চালকের সহকারীর সঙ্গে সায়েমের ঝগড়া হয়। বাসার কাছে শহীদ ফারুক সরণির টনি টাওয়ারের সামনে নামার সময় চালকের সহকারী সায়েমকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত