চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার ৯ দশমিক ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। সম্প্রতি সেপ্টেম্বর মাসের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের অগ্রগতির যে প্রতিবেদন বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ণ বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশ করেছে, তা পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।
তবে এডিপি বাস্তবায়ন সর্বোচ্চ হলেও প্রথম প্রান্তিকে এক টাকাও ব্যয় করতে পারেনি ৩ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এ মন্ত্রণালয়গুলোর অধীনে এ বছর ৩৯টি প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
এর মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৭ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১০১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এ মন্ত্রণালয়ের অধীনের প্রকল্পগুলো হলো পাকিস্তানের ইসলামাবাদে চ্যান্সারি কমপ্লেক্স, বন্দরসেরি বেগওয়ান বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স ও হাইকমিশনারের ভবন, ভুটানে বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স, জার্মানে বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ভবন, সৌদির জেদ্দায় চ্যান্সারি কমপ্লেক্স ও অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশ চ্যান্সারি ভবন নির্মাণ প্রকল্প। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্পেও কাজ শুরু করতে পারেনি এখনো।
এছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ১৪ প্রকল্পের জন্য এ বছর বরাদ্দ রয়েছে ৩০২ কোটি টাকা। তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এ মন্ত্রণালয় একটি টাকাও খরচ করতে পারেনি। এর মধ্যে বিকেএসপির আওতায় চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ক্রীড়া স্কুল প্রতিষ্ঠার তৃতীয় সংশোধিত প্রকল্প, বিকেএসপির শুট্যিং জোনের আধুনিকায়ন, ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন, পাবনার শেখ আমিনউদ্দিন স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন ও সুইমিংপুল নির্মাণ, কুষ্টিয়ার শেখ কামাল স্টেডিয়ামের অধিকতর উন্নয়নসহ মোট ১৪টি প্রকল্পে এক টাকাও খরচ করেনি এ মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে জননিরাপত্তা বিভাগের অধীনে থাকা ১৮টি প্রকল্পের জন্য এ বছর বরাদ্দ ১ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। এ প্রকল্পগুলোর অধীনে তিন মাসে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এর মধ্যে ইউনিসেপের অর্থায়নে চাইল্ড প্রটেকশন অ্যান্ড মনিটরিংয়ের প্রথম সংশোধিত প্রকল্প, বাংলাদেশ পুলিশের ১৩টি প্রকল্প, যেমন- পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ, সন্ত্রাস দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধ কেন্দ্র নির্মাণ, হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, র্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ মোট ১৮ প্রকল্পে এ তিন মাসে এক টাকাও খরচ হয়নি জননিরাপত্তা বিভাগের।
আইএমইডির হালনাগাদ তথ্যে আরও দেখা যায়, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ১৪ প্রকল্পের জন্য ৬৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এ মন্ত্রণালয় তিন মাসে বরাদ্দের ১ শতাংশও খরচ করতে পারেনি। এদের বাস্তবায়নের হার দশমিক ১০ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র ৬১ লাখ টাকা খরচ করেছে তারা।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ৪টি প্রকল্পে বরাদ্দ ৩৬৩ কোটি টাকা। প্রথম প্রান্তিকে এ বিভাগেরও খরচ হয়েছে মাত্র দশমিক ১৫ শতাংশ। মাত্র ৫৩ লাখ টাকা খরচ করতে পেরেছে এ বিভাগ। দুর্নীতি দমন কমিশনের বরাদ্দ ১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা, খরচ হয়েছে মাত্র ৩ লাখ টাকা অর্থাৎ মোট বরাদ্দের দশমিক ১৭ শতাংশ খরচ করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই অবস্থা বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের, ১টি প্রকল্পের জন্য ৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও খরচ হয়েছে মাত্র ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ দশমিক ২৭ শতাংশ খরচ করেছে এ প্রতিষ্ঠান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৪ প্রকল্পে বরাদ্দ ৬৩০ কোটি টাকা, খরচ হয়েছে ৬১ লাখ টাকা, বরাদ্দের দশমিক ১০ শতাংশ খরচ করেছে এ প্রতিষ্ঠানটি।
এডিপির হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ অর্থবছর মোট ১ হাজার ৪৯৬টি প্রকল্প এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত আছে। এ প্রকল্পগুলোর জন্য বরাদ্দ অর্থ খরচে উন্নতি হয়েছে অন্য বছরের তুলনায়। একক মাস হিসেবে সেপ্টেম্বরে খরচ হয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ, আগের বছর একই সময় যা ছিল ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে মোট খরচ হয়েছে ২৪ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা, এরমধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরে খরচ ১৪ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। এ বছর এডিপিতে মোট বরাদ্দ ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটির বেশি।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রায় ২০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ২৭৫ প্রকল্পে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৫ শতাংশের নিচে। এসব প্রকল্পে গড়ে ৫ শতাংশে কম বাস্তবায়ন হয়েছে। কোনোটিতে আবার এক টাকাও খরচ করেনি কয়েকটি মন্ত্রণালয়। আগের বছর একই সময়ে ৫ শতাংশের নিচে বাস্তবায়িত হয়েছিল ২৮৩ প্রকল্পের কাজ। অবশ্য গত বছর প্রকল্প সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৯১টি, এ বছর ১ হাজার ৪৯৬টি।
